নতুন বছর এলো ১৪১৬। আমরা ইটালির ট্রেন্টোতে বাঙালি স্টুডেন্টরা মিলে বর্ষবরণ করলাম। ইস্টারের বন্ধ থাকাতে আমরা ৩০শে চৈত্র অনুষ্ঠান করেছি। মোটামুটি পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করলাম। সাথে ছিল শহীদ ভাই, আকবর ভাই, মোস্তাফিজ ভাই, রাফি, সাদ্দাম।
প্রস্তুতি বলতে শুধু আগের রাতটি। তো সেদিনের অনুষ্ঠানে একটি পুঁথি লিখেছিলাম এবং সেটা পাঠও করেছিলাম। প্যারোডি পুঁথি আর কি। চরম হিট! এইজন্যে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা।
পুঁথিটি যেহেতু আমাদের এইখানের কিছু ব্যাপার নিয়ে, তাই আগে ব্যাকগ্রাউন্ডটা বলি ছোট্ট করে।
তাহলে বুঝতে একটু সুবিধে হতে পারে। আমরা স্টুডেন্টরা যেসব হাউজিং এ থাকি, সেগুলো কয়েকটা জায়গাতে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে সবচাইতে বড় হল "সান বারতোলামেয়"। এর পরেই "বোরিনো"। বাঙালি এই দু'জায়গাতেই বেশি।
আমাদের এখানে স্টুডেন্ট কমিউনিটি খুব জোরদার। প্রতি মাসেই অন্তত একবার হলেও আমরা যেকোন ভাবেই হোক একসাথে হই। তো মজার ব্যাপার হল, আমাদের এসব অনুষ্ঠানে বোরিনোর উপস্থিতি ঐতিহাসিক ভাবেই কম। এমনকি প্রতি সপ্তাহের ক্রিকেট খেলাতেও তাদের উপস্থিতি একেবারেই নেই। শুধুমাত্র খাওয়ার কথা থাকলেই তারা এক্কেবারে "বান্দা হাজির"।
এই জন্যেই আমরা, মানে বাকিরা এই অনুষ্ঠানে তাদেরকে পচানোর প্ল্যান করলাম। আর এর নেতৃত্ব দিলাম...হে হে...কে বুঝতেই পারছেন। যাই হোক, বোরিনোতে যারা থাকে, তাদের নাম হল- বাপ্পি, বিদ্যুৎ, শরীফ, রবি, খসরু, মনির এবং রুচি আপু। পচানোতে কাউকেই ছাড় দেয়া হয়নি। ।
পোস্ট বড় হয়ে যাবে, তাই এইবার পুঁথিটা-
শোনেন শোনেন শোনেন শোনেন সবাই
শোনেন দিয়া মন
বোরিনোবাসীর গুণের কথা
করিব বর্ণন
আহা বোরিনোবাসী।
(আহা বোরিনোবাসী)
আহা বোরিনোবাসী
খায় খাসি
সকল প্রোগ্রামেতে
খাওয়া ছাড়া তাদের টিকি
পাওয়া যায়না দেখতে
আহা বোরিনোবাসী।
(আহা বোরিনোবাসী)
আরে, বোরিনোর পোলা
বাপ্পি ভোলা
বাত্তি জ্বালায় নাচে
সেই নাচ দেইখা হক্কলেতে
পেট চাপিয়া হাসে
আরে বাপ্পি ভোলা।
(আরে বাপ্পি ভোলা)
আরে বাপ্পির রুমমেট বিদ্যুৎ মিয়া
করতাসে সে ইন্টার্ন
বিপুল ভাইয়ের কর্মী সে তো
খাটতাসে তাই জান-প্রাণ।
বিদ্যুৎ কারেন্ট নাই।
(বিদ্যুৎ কারেন্ট নাই)
এইবার আপনাদের বলব বিদিক ভাইয়ের কথা
আমগো বিদিক ভাইয়ের বিদিক হাসি
এক পিসেতেই সব
আগুন জ্বালায় দিবে বইলা
করসে কলরব
বল বিদিক ভাই
(বিদিক বিদিক ভাই)
আসে আমগো রবি
ভাব হেবি
ফেরেন্চ দাড়ি ছিলো
ভাবের ঠেলায় দাড়ি কামায়
রোদচশমা পড়িল
ভাবের কবি রবি।
(ভাবের কবি রবি)
আরে খসরু জামান দাগায় কামান
ফাক্কা মাঠের রাজা
29 এ এমন খেলে
হারানো খুব সোজা
আরে খসরু মিয়া।
(আরে খসরু মিয়া)
আরেক জামান হইল মনির ভাইয়া
থাকে মুখ লুকাইয়া
ফাস্ট বোলিং এ মাইর খাইয়া
স্পিন করে দৌড়াইয়া
আমগো মনির ভাইয়া।
(আমগো মনির ভাইয়া)
এইবার আসি আমাগো নায়িকার কথায় (এই পর্যায়ে নায়িকা নিজে বুঝে ফেলেছিলো যে তার কথা বলতে যাচ্ছি। লজ্জায় শাড়ির আঁচলে মুখ চেপেছিলো।
)
আরে নায়িকা রুচি, চানাচুর ভাজি
দেখতে শুনতে ভালা
গুল্লি খাইয়া অনেক পোলার
জীবন হইল কালা
আমগো নায়িকা রুচি
(খায় চানাচুর ভাজি)
আরে নায়িকা রুচি এইবার নাকি
দারুণ পেরমে পরসে
গোপন খবর উইড়া বেড়ায়
পোলাপানের কাসে।
আহা কি দুইখ্য।
(আহা কি দুইখ্য)
এইবার পুঁথি পাঠক সাদাত মিয়া
মাইর খাওয়ার আগে
পিসন দরজা দিয়া সে যে
পালায় আগে ভাগে।
সবাইরে সালাম।
ভিড্যু আছে এখানে View this link
পুনশ্চ: বোরিনোবাসী নাকি এর জবাব দেবে।
দেখা যাক। পুরোটুকুই ফান। পুঁথি শেষ হবার পর সবচাইতে বেশি তালি দিয়েছে বোরিনো। রুচি আপু তো...আর কি বলব! খুব মজা হয়েছে সেদিন। আরো হিট আইটেম আছে।
পুরো অনুষ্ঠান নিয়ে খুব শিগগিরই পোস্ট দেব।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।