আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কম্পিউটার ভাইরাস - প্রতিরক্ষা

জোহান

কম্পিউটার ব্যবহারকারী মাত্রই ভাইরাস সম্বন্ধে অবগত আছেন। কারো কারো এব্যপারে অনেক বিরক্তিকর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কম্পিউটার ভাইরাসের হাত থেকে পিসিকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের এন্টি-ভাইরাস রয়েছে। এ সফটওয়্যারগুলো সয়ংক্রিয়ভাবে আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখতে সচেষ্ট হলেও আমি এখানে আলোচনা করতে চাইছি একজন ইউজার হিসাবে আপনার কি করণীয়। প্রতিদিন এত নিত্য নতুন ভাইরাস বের হচ্ছে যে আপনার এন্টিভাইরাস যত হালনাগাদ হোক না কেন আপনি নিজে সচেতন না হলে আপনার পিসি কতটুকু নিরাপদ থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

আরো আলোচনার আগে প্রথমেই কিছু ব্যপার পরিষ্কার করে নিতে চাই যাতে আপনি এ লেখা পড়ে বিভ্রান্ত না হন। প্রথমতঃ আমার এ লেখাটি হচ্ছে ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার Preventive বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ভাইরাসমুক্ত করার ব্যবস্থা নয়। অর্থাৎ এ পদ্ধতি অনুসরণের পূর্বশর্ত হিসাবে আপনার কম্পিউটার ভাইরাসমুক্ত হতে হবে। দ্বিতীয়তঃ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার এটাই একমাত্র পদ্ধতি নয়। অর্থাৎ এটি অনুসরন করে অন্য সমস্ত ব্যবস্থা বন্ধ করে দিলে মোটেও ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবেনা।

বর্তমানে ভাইরাস ছড়ানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পেন ড্রাইভ / ফ্লাশ ড্রাইভ। আমি মূলত আলোচনা করব কিভাবে এ ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে তবে আজ সেদিকে আলোচনা করব না। আমি উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করি। তাই আমার আলোচনা মূলত সেদিকেই হবে।

পেনড্রাইভ বা সিডি রমের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান বাহক হলো উইন্ডোজের Autorun নামক একটি ফিচার। এর কারনেই কিছু কিছু সিডি ঢোকানোর সাথে সাথে সয়ংক্রিয়ভাবে কোন নির্দিশ্ট প্রোগ্রাম চালু হয়ে যায় যেমন setup বা মুভি প্লেয়ার শুরু হয়। অর্থাৎ এর ফলে ইউজারের দিক থেকে কোন নির্দেশনা ছাড়াই সিডি/ডিভিডি রম তাদের পছন্দসই প্রোগ্রাম চালু করার সামর্থ রাখে। পেনড্রাইভের ক্ষেত্রে ব্যপারটা এরকম না হলেও এই একই ফিচারের মাধ্যমে ওই ড্রাইভের ডিফল্ট এ্যাকশন পরিবর্তন করা যায়। অর্থাৎ আপনার পেনড্রাইভে ডাবলক্লিক করার ফলে কোন আদেশ পালিত হবে সেটি ঠিক করে দেয়া যায়।

অর্থাৎ ডাবলক্লিক করার ফলে সমস্ত ফাইল প্রদর্শণ না করে এটি অন্য কোন আদেশ/কমান্ড কার্যকর করতে পারে। আর এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভাইরাস প্রস্তুতকারকেরা তাদের ভাইরাসকে সয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবার ব্যবস্থা করে দেন। একটা কথা মনে রাখবেন মেমরীতে লোড না হওয়া পর্যন্ত কোন ভাইরাস ই তার ধ্বংসাত্নক কার্যক্রম চালাতে পারেনা। আর এ কারনেই আপনি ভাইরাসসমেত একটা সিডি বা পেনড্রাইভে ক্লিক করা মাত্র আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত হয়ে যায়। যাহোক এই কাজটির সূত্রপাত হয় Autorun.inf নামক একটি ফাইলের মাধ্যমে।

যে কোন ড্রাইভের মূল ডিরেক্টরিতে এই ফাইলটি থাকলে উইন্ডোজ তার চিরাচরিত আদেশ এর পরিবর্তে এই ফাইলে রক্ষিত আদেশগুলো আগে পালন করে। এধরনের ফাইলে কি ধরনের কোড থাকে তার একটা নমুনা দিচ্ছি। [autorun] open=Virus.exe shellexecute=Virus.exe shell\auto=&Auto shell\auto\command=Virus.exe shell\explore=&Explore shell\explore\command=Virus.exe shell\find=S&earch… shell\find\command=Virus.exe shell\open=&Open shell\open\command=Virus.exe এখন এই কোডগুলিসহ কোন Autorun.inf ফাইল আপনার যে কোন ড্রাইভের মূল ডিরেক্টরিতে থাকলে সে ড্রাইভে ডাবলক্লিক / open / explore /Search যে কমান্ডই দিন না কেন আপনার কম্পিউটার অবশ্যই Vires.exe ফাইলটি আগে চালিয়ে নেবে। আর সিডি/ডিভিডির ক্ষেত্রে কিছু করার প্রয়োজন নেই কেবল ট্রে বন্ধ করলেই হবে। মজার ব্যপার হচ্ছে এই ফাইলটির কোড encripted অবস্থায় থাকেনা।

অর্থাৎ নোটপ্যাড দিয়ে ওপেন করে আপনি এই ফাইলেন ভেতরে রক্ষিত কোডগুলো দেখতে পারেন এবং সেখান থেকে ক্ষতিকর ফাইলটি খুঁজে বের করতে পারবেন। (এক্ষেত্রে Virus.exe। তবে যথেষ্ট ধারণা না থাকলে এ কাজ না করাই ভাল। ) সুতরাং ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য এই ফিচারটি বন্ধ করে রাখাই উচিৎ। বেশ কয়েকটি পদ্বতিতে একাজ করা যায়।

তবে এর জন্য অবশ্যই Administrator Prevelage থাকতে হবে। আপনার Start Menu থেকে অথবা Ctrl এবং Alt এর মধ্যকার Win+R চেপে Run Dialogue Box খুলুন। সেখানে লিখুন gpedit.msc এবং OK চাপুন। আপনি একটি তালিকা পাবেন। এবার বামদিকের তালিকা ধরে ধরে Computer Configuration এর নিচে অবস্থিত Administrative Templates এ যান এবং এর নীচে System নামক Key টি সিলেক্ট করুন।

এবার ডানদিকের অপশনগুলো লক্ষ করুন। একটি অপশন পাবেন Turn off Autoplay এটাতে ডাবলক্লিক করলে একটা তালিকা আসবে। সেখান থেকে Turn Off Autoplay এর নীচে অবস্থিত অপশনগুলো থেকে Enable নির্বাচন করুন এবং আরো নিচে অবস্থিত Turn off Autoplay on তালিকা থেকে All Drives নির্বিচন করে OK চাপুন এবং প্রোগ্রামটি বন্ধ করে দিন। (gpedit একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম। না বুঝে এর অন্যকোন সেটিং পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন।

) এই কাজটি করার ফলে সিডি বা ডিভিডিতে অবস্থিত কোন ভাইরাস সয়ংক্রিয়ভাবে চালু হতে পারবেনা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে উইন্ডোজের অন্যান্য কমান্ডগুলো ঠিক হয়ে গেছে। এজন্য আপনাকে Autorun.inf ফাইলটি এবং সেই সঙ্গে ওই ফাইলের ভেতরে নির্দেশিত ফাইলটি (Virus.exe) খুঁজে বের করে মুছে ফেলতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই ফাইলগুলো লুকানো / hidden অবস্থায় থাকবে। অথবা এমনভাবে রাখা থাকবে যেন এটিকে সহজে আলাদা করা না যায়।

কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ফাইল থাকলেও সব ধরনের ফাইলের পক্ষে কম্পিউটারের ক্ষতি করার সামর্থ নেই। শুধুমাত্র যেসব ফাইল সয়ংসম্পূর্ণ কমান্ড ধারন করে এবং উইন্ডোজের মাধ্যমে সেগুলো কার্যকর করার অনুমতি রয়েছে তারাই শুধু সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে। যেমন একটা ছবির ফাইল বা গান সরাসরি কিছু করতে পারেনা। এটিকে অন্য একটা প্রোগ্রামের মাধ্যমে চালু হয় কিন্তু কিছু ফাইল আছে যাদের অন্য প্রোগ্রামকে আশ্রয় না করে নিজেরাই কাজ করতে সক্ষম। মূলত ভাইরাসগুলো এধরনের ফাইল হয়।

আমরা সাধারনত আইকনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ফাইল আলাদা করে থাকি। উইন্ডোজ এই কাজটি করে এক্সটেনশনের সাহায্যে। (ফাইলের নামের . এর পরের অংশ যেমন .exe .jpg .mp3 .html)। ফাইলেন আইকন সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব এতে এর কার্যক্ষমতার কোন পরিবর্তন হয়না। পক্ষান্তরে এক্সটেনশন পরিবর্তন করলে এর কাজের ধরনও পাল্টে যায়।

তাই ক্ষতিকর ফাইল খুঁজে বের করার জন্য আইকনের পরিবর্তে এক্সটেনশনের সাহায্য নিতে হবে। তেমনি আর একটি উপায় হচ্ছে Details View থেকে Type কলামে লক্ষ্য করা। যে সব এক্সটেনশনের কমান্ড চালানোর সামর্থ্য আছে সেগুলো হচ্ছে .exe .com .bat .pif .inf .ini .vbs .js.jar । সুতরাং একটি ফাইলের আইকন দেখতে ফোল্ডার এর মত মনে হলেও সেটা একটা ক্ষতিকর ফাইলও হতে পারে। তাই কম্পিউটারে পেন ড্রাইভ সংযুক্ত করার আগে Win+E চেপে Windows Explorer চালু করুন এবার Tools মেনু থেকে Folder Options চাপুন।

প্রাপ্ত উইন্ডোটির View ট্যাবে যান। এবার নিচের অপশনগুলো থেকে Show hidden files and folder নির্বাচন করুন এবং Hide extentions for known file types এবং Hide protected operating system files (Recommended) পাশে দেয়া টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন। এরফলে আপনার কম্পিউটার সবধরনের ফাইল এক্সটেনশনসহ প্রদর্শন করবে। এবার ok চেপে বেরিয়ে আসুন এবং Windows Explorer খোলা থাকা অবস্থায় কীবোর্ড এর Shift কী চেপে ধরে রেখে পেনড্রাইভ সংযোগ করুন। (এটি অতিরিক্ত সতর্কতা এর ফলে অটোরান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

) পেনড্রাইভের আইকন না আসা পর্যন্ত কী টি ধরে রাখুন। এবার এক্সপ্লোরারের বামদিকের তালিকা থেকে পেনড্রাইভ সিলেক্ট করুন। ভুলেও ডানের আইকনে ডাবলক্লিক করে ড্রাইভ খুলতে যাবেন না। এবার ডান দিকের তালিকা থেকে ক্ষতি করতে সক্ষম এক্সটেনশনযুক্ত ফাইলগুলো লক্ষ করুন। নিশ্চিত না হয়ে কোন ফাইল খুলতে যাবেন না।

এভাবে প্রতিটি ফোল্ডার সার্চ করুন। প্রয়োজনে Windows Find এর সাহায্য নিন। সন্দেহজনক ফাইলগুলো এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করুন। শুধুমাত্র এরপর আপনি এইফাইলগুলো আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করাতে পারেন। আমি আগেই বলেছি এটি ১০০% নিশ্চিত নিরাপত্তা নয়।

আরো অনেকভাবেই ভাইরাস আত্নগোপন করতে পারে। তবে এ ব্যবস্থা আপনার ঝুঁকির মাত্রা কমাবে

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.