আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বিশ্বাস করুন, এ গল্পটা বিচারপতি ফজলুল হকের নয়!!!

munirshamim@gmail.com

আজব সে রাজ্যে সামাজিক উৎক্রমণের ইতিহাসের চাকা তখনও বন্য দশায়। বন্য দশাটা প্রযুক্তির দিক থেকে নয়, চিন্তার দিক থেকে। বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের দিক থেকে। সৃজনশীল বোধ ও চেতনার দিক থেকে। সে আজব দেশে রাজা বাস করে বন্য দশায়।

মন্ত্রী বাস করে বন্য দশায়। রাজা-উজির-সৈন্যসামন্ত, রাজনীতিবিদ, বেশির ভাগ। সে দেশে তবু প্রজারা থাকে। অল্প নয়, বিস্তর পরিমাণে। প্রকাকূল নিরূপায়।

তাই থাকতে বাধ্য হয়। এসব প্রজাকূল নির্দিষ্ট মেয়াদ অন্তর অন্তর রাজা বানায়। মন্ত্রী বানায়। ভাবে এবার বুঝি সব ঠিক হবে। শান্তিতে ঘুমানো যাবে।

ভাবনাটা ভাবনার ফ্রেমেই বন্দী থাকে। পরিস্থিতি পাল্টায় না। দিন যায়-রাত আসে। রাত যায়-দিন আসে। প্রজারা স্বপ্ব বুনে।

আবার সে স্বপ্ন হারায় নতুন স্বপ্নের ভেতরে...চোখের সামনে 'আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়' প্রজাদের বানানো মন্ত্রী, রাজা অথবা তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং রাজনৈতিক গোত্রের লোকজন। এ আজব দেশের শান্তি শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত সৈন্য-সামন্ত-পুলিশগুলোও বড় রহস্যময়। পেটে তাদের শুধু ক্ষুধা আর ক্ষধা। ক্ষুদার রাজ্যে এখানে নিয়ম নীতি বড়ই গদ্যময়..............অথবা অনিয়মের ছন্দে বন্দী। তো সেদেশের প্রজাদের এত কষ্টের মধ্যেও একটা ভরসার আলো আছে।

সে আলোটা মিটিমিটি জ্বলে। প্রজারাও সে আলোটা নিয়ে বড়াই করে। আলোটা যেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম বিচারের এজলাশ। এ এজলাশগুলো আবার দুভাগে বিভক্ত। নিম্ন আদালত।

আর উচ্চ আদালত। নিম্ব আদালত নিয়ে গরীব প্রজাদের অনেক ভোগান্তি থাকলেও উচ্চ আদালত নামে যেমন কামেও তেমন। আর সে 'বাতিঘর' মানে উচ্চ আদালতে কাজ করতেন এক মধ্যবিত্ত রাজপুত্তর। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিল। ভেবে ছিল রাজা না হলেও কি হবে।

একদিন ঠিকই জজ-ব্যরিস্টার হবে। রাজপুত্তুর বাবা-মার স্বপ্ন পুরন করেছিল। রাজা না হতে পারলেও হয়েছিল জজ। এ রাজপুত্তুরের বয়স বাড়ে। বাড়ে সময়ও।

একদিন তিনি অবসরে যান। হাতি বাঁচলেও লাখ টাকা আবার মরলেও লাখ টাকা। সুতরাং অবসরেও এসেও তিনি আরেকটা চান্স পেয়ে যান। এবার তার কপালে জুটে মন্ত্রী পদমর্যাদার একটি নির্বাহী কাজ.............। কিন্ত বর্বর রাজ্যের প্রজারা কি নিয়ে যেন তুমুল গন্ডগোল বাধিয়ে ফেলে।

প্রজাদের এ রকম আচরণ তার পক্ষে গেল না। বদল হয়ে গেল রাজা ও রাজ পরিষদের। তাতে কি। ততদিনে এ রাজপুত্তুর (প্রাক্তন বিচারপতি) কামাই করে নিয়েছেন কোটি কোট টাকা। অতএব ক্ষমতার পালাবদলে সে রাজপুত্তুর একটুও কষ্ট পায়নি...তার একটুও খারাপ লাগেনি।

বরং মধ্যবিত্ত অবস্থান থেকে উচ্চবিত্ত হিসেবে গোটা পরিবার-পরিজনের স্থায়িত্বশীল শ্রেণী উত্তরণের আনন্দে বিভোর ছিল দীর্ঘ দিন। মাঝে মাঝে কোটি টাকা কামাইয়ের গল্পটি সিনেমার ফ্লাশ ব্যাকের মতো মনে পড়লে 'ইয়া নাফসী, ইয়া নাফসী' জিকির তুলেছেন। এই যা। একদিন সে রাজপুত্তুরের ধ্যান ভাঙ্গে। চোখ মেলে দেখে সে আজব রাজ্যে কি যেন কি কমিশন হয়েছে।

সে কমিশন আবার তার টাকা কামাইয়ের ব্যাবাক গল্প ফাঁস করে দিয়েছে। মামলাও করেছে। সে গল্প প্রতিদিন ছাপা হয় খবরের কাগজে। গরীব প্রজারা আলোঘরের মানুষের অন্ধকারের পতন দেখে ছিছি করে। হাসি তামাসা করে।

গালি দেয়। এ দৃশ্য দেখে আজব দেশের সে রাজপুত্তর এখন শুধু সে গানের লেখককে গালি দেয়, যে লিখেছিল-বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সে জনতা। আপনারাই বলুন, আসলে কি সে রাজ্যের আজব জনতা আজ জেগেছে? নাকি এ রাজপুত্তুরের গল্পটা এখানেই শেষ হয়ে যাবে!!!!!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.