গতকাল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে একটি বিমান দুর্ঘটনায় শিশু মহিলা সহ ১৫৩ জন যাত্রী প্রাণ হারায়। স্পান এয়ারের এম ডি ৮২(ম্যাগডোনাল ডুগলাস) এই বিমানটিতে পাইলট ও ক্রুসহ মোট ১৭২ জন যাত্রী ছিল। আহত অবস্হায় মোট ২০জনকে উদ্ধার করা হয় এদের মধ্যে ৩,৬,ও ১১বছরের শিশু রয়েছে। আহত আনেকের আবস্হা আশঙ্কাজনক এবং গতরাতে আহতদের ১জন মৃত্যুবরণ করে । বিমানটি সম্পূর্ন ভস্মীভূত হবার জন্য মৃতদেহগুলো এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয় নাই।
এই বিমানে স্প্যানীশ নাগরিক সহ জার্মানী ও হল্যান্ডের নাগরিক ভ্রমন করছিল। মাদ্রিদের ইতিহাসে দীর্ঘ ২৫ বছর পর এটি আরেকটি বিমান দুর্ঘটনা । এর আগে ১৯৮৩ সালে কলম্বিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দুর্ঘটনায় ১৮১ জন যাত্রী মারা যায়।
১৭২ জন যাত্রীনিয়ে ১৪:২৫ মিনিটে বিমানটি স্পেনের একটি দ্বীপ গ্রান কানারিয়াসের উদ্যেশে টার্রমিনার ত্যাগ করে । বিমানটি রানওয়ে দিয়ে ছুটার সময় বামপার্শের মটরটিতে আগুন ধরে যায় ।
১৪:৪৫মিনিটে বিমানটি রানওয়ে ছেড়ে মাত্র ৬০ মিটার উপরে উঠার পর মহূত্তে ডান দিকে কাত হয়ে নীচে ছিটকে পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফরিত হয় এবং বিরাট আগুনের কুন্ডুলী পাকিয়ে এলাকাটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে ফেলে।
বিমানের দুর্ঘটনাকে ঘিরে অনেকের মাঝে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে, বিমান কর্তৃপক্ষ জানায় চালক একজন উদীয়মান ও বিমান চালনায় তার ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিমানের বামপার্শের মটরে আগুন দেখেও কেন চালক বিমান উড়ালেন এই প্রশ্নের জবাবে বলেন উড্ডায়নের জন্য বিমানকে যে গতিতে ছুটতে হয় সেটাকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, প্রথমটি ভি-১ অপরটি ভি-২, ভি-১ গতিতে ছুটার সময় যদি চালক বিমানে কোন ত্রুটি দেখতে পান তাহলে অবস্যই বিমান উড্ডায়নের পরিকল্পনা ত্যাগ করবেন। বিমানটি যখন ভি-২ গতিতে ছুটতে থাকে তখন মটরে আগুন বা মটরে ত্রুটি ইত্যাদি দেখা দিলেও বিমান উড্ডায়ন ছাড়া চালকের কোন বিকল্প পথ থাকে না। এ বিষয়ে সকল বিমানচালকদের বিশেষ প্রশিক্ষন দেয়া হয়ে থাকে।
৪৬ বছরের বিমান চালনায় অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত এক বিমান চালক সিনিওর খাবিয়ের দেল কাম্পো স্পষ্ট বলেন বিমানের একটি মটরে ত্রুটি দেখা দিলে বিমান নীচে পড়ে যাবে এমন কোন কথা নাই। এর পেছনে অন্য কারণ থাকা বিচিত্র কিছু নয়।
এ ব্যপারে এম ডি বিমান প্রস্ততকারীর পক্ষ থেকে জানা যায় এমডি-৮২ বিমানটির দুটি মটরের একটি অকেজো হলে অপরটির সাহায্যে জরুরী অবতরণ করানো সম্ভব।
মাদ্রিদ বারাখাজ বিমান বন্দরের ফ্লাইট সমন্বয়কারী সিনিওর খাবিয়ের গার্সিয়া এ ব্যাপারে একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রদান করে। তিনি জানান যান্ত্রিক সমস্যার কারণে পূর্বে বিমানটির দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।
কিনতু স্পান কর্তৃপক্ষ এটি মানতে নারায,তারা বলেন বিমানটির বয়স মাত্র ১৫বছর এবং গত জানুয়ারী মাসে বিমানটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। সিনিওর খাবিয়ের গার্সিয়া বলেন দূর্ঘটনার দিন নির্দিষ্ট সময় ১৩:০০ মিনিটে জেকে ৫০২২ ফ্লাইটি গ্রান কানারিয়াসের উদ্যেশে টার্রমিনাল ত্যাগ করে, যাত্রার কিছুক্ষন পর বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিমান চালক বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং বিমানটি ১৩:৪২ মিনিটে পুনরায় টারমিনালে ফেরত আসে। চালক বিমান পরিবর্তনের জন্য আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ সময় অপচয়ের কথা ভেবে মামুলী পরীক্ষা করে বিমানটিকে যাত্রার জন্য সবুজ সংকেত দেয়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।