আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রচার বাণিজ্যের পসরা ,পুঁজিসন্ত্রাসের কক্ষপথ



প্রচার বাণিজ্যের পসরা ,পুঁজিসন্ত্রাসের কক্ষপথ ফকির ইলিয়াস -------------------------------------------------------------- হ্যাঁ, বলা যায় মার্কিনিরাও হুজুগে জাতি। হুমড়ি খেয়ে পড়ার একটা অভ্যেস আমরা সব সময়ই লক্ষ্য করি এই বহুজাতিক সমাজে। গেল কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে আবারও দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করলাম। আইফোনের নতুন ভার্সন এসেছে বাজারে। যেদিন এই নতুন মডেলটি বাজারে রিলিজ হলো তার পাঁচদিন আগে থেকে আইফোনের নিউইয়র্কস্থ সদর দফতরের সামনে ছিল লম্বা লাইন।

অবিশ্বাস্য সে দৃশ্য। চিড়া, মুড়ি, চিপস, ড্রিংকস নিয়ে মানুষেরা লাইনে দাঁড়িয়ে যায় পাঁচদিন আগে থেকেই। কে প্রথম এই নতুন ভার্সনটির ক্রেতা হবে তা নিয়ে ছিল মূল প্রতিযোগিতা। সমস্যা দেখা দিয়েছিল টয়লেট ব্যবহারের বেলায়। সেটাও তারা পুষিয়ে নিয়েছে সামনে কিংবা পেছনে থাকা লাইনের সহযাত্রীকে বলে-কয়ে।

একজন টয়লেটের প্রয়োজনে বেরিয়ে গেছে, অন্যজন তদারকী করছে তার জায়গা। ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, সবই করেছে তারা এই লাইনে থেকেই। তারপরও প্রথম আইফোন কিনে নেয়ার আনন্দ। নানা টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক-রিপোর্টাররা ঘিরে রেখেছেন তাদের এই পাঁচদিন। প্রায় দু’মাস আগে ‘আইকিয়া’ নামের একটি ফার্নিচার দোকানও তাদের ব্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে তেমন একটি ঘোষণা দিয়েছিল।

প্রথম পঞ্চাশজন কাস্টমারকে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। আর যায় কোথায়? ঠিক একই কায়দায় প্রতিযোগিতা ছিল এই দোকানের সামনে। সবাই লাইন বেধে বসেছিল দীর্ঘ চারদিন। মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল খদ্দেরদের সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য। কেউ কেউ তা প্রচার করেছিল ‘লাইভ’।

এই যে প্রচার বাণিজ্য এর প্রকৃত অর্থ কি? প্রকৃত অর্থ হচ্ছে, খুব দ্রুত বাজারে একটি স্থান করে নেয়া। খুব তাড়াতাড়ি মুনাফা লুটে পুঁজিপতি হয়ে যাওয়া। যারা এই বাণিজ্য করে তারা ভালো করে জানে, তাদের ব্যবসার লোকসান হচ্ছে না। বরং লাভবান হচ্ছে তারা বহু গুণে। গ্রীষ্মের অবকাশ যাপনের জন্য ট্রাভেল এ- ট্যুরিজম কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে এয়ার টিকিট পর্যন্ত দিয়ে থাকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে।

কোনো দম্পতিকে দুটো টিকিট হয়তো দিল তারা। ওই পরিবারে যদি দুটি সন্তান থাকে তবে সন্তানদের টিকিট, হোটেল ভাড়া, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাফেরার খরচ নিজে বহন করতে হবে। এই যে ‘প্যাকেজ ডিল’ তা থেকেই মুনাফা করে নিচ্ছে ট্যুরিজম কোম্পানিগুলো। আর এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র শাসন ও শোষণ করছে সমাজকে, পরিবারকে ও বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলোকে। শাসনের রূপরেখা কালে কালেই বদলায় এই পরাশক্তি।

অতিসম্প্রতি আমরা দেখছি, এ মাত্রায় নতুন সংযোজন। যুদ্ধ বাঁধিয়ে অস্ত্রবিক্রি করার কৌশল পুরো হয়ে গেলেও অস্ত্র তৈরির নতুনত্ব প্রতিদিনই পরীক্ষিত হচ্ছে বিশ্বে। আর তা করা হচ্ছে কাউকে রক্ষা করার জন্য, কাউকে নিধন করার জন্য। কারও স্বার্থরক্ষা করে, কাউকে ঘায়েল করা হবে,এটাই নিয়মতান্ত্রিক ধারা। কিন্তু যদি নিধন না করে রক্ষার হাত বাড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে তো আরও উত্তম উত্থান ঘটতে পারতো মানবসভ্যতার।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট পদপত্যাশী সিনেটর বারাক ওবামা সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফরে বেরিয়েছেন। ইসরাইল সফরকালে তিনি বলেছেন, যে কোনো মূল্যে ইসরায়েলিদের স্বার্থরক্ষা এবং সমুন্নত রাখবেন তিনি। একজন কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টে প্রার্থীর মুখে এমন ঘোষণা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেছি বিশ্ববাসী। এটা আমরা সবাই জানি, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতিতে ইহুদি কমিউনিস্ট একটি বিশাল প্রভাব রেখে চলে। বারাক ওবামা সেই প্রভাব ও শক্তির সমর্থন পেতেই এমন জোরালোভাবে ইসরায়েলের পক্ষে কথা বলেছেন।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রে প্রতিদিনই নরহত্যা চলছে। আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধ নারী-পুরুষ। দেশটির মাটি এখন রক্ত ধারণে অপারগই বলা যায়। খুবই পরিতাপের কথা এই অধিকৃত রাষ্ট্রটি বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে এখন পাশ্চাত্যের নেতৃত্ব দোটানা নীতি পোষণ করছে। বিশ্বে এখন চলছে প্রচার বাণিজ্যের দাপট আর তোষামোদের রাজনীতি।

পুঁজিসন্ত্রাসের রক্ষচক্ষু গণমানুষের কণ্ঠরোধে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। খুব অবাক হয়ে আমাদের দেখতে শোষক শ্রেণী তাদের কৌশলে নতুন রঙ ঢেলে মাঠে নেমেছে। আর সে ক্ষেত্রে কৃষাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ দ্বন্দ্ব নয়, বরং পুঁজিবাদ দারিদ্র্যের দ্বন্দ্বটাই এখন প্রকট। এমন অস্থিরতা সামনে রেখেই এগুচ্ছে সমাজ। অগ্রসর হচ্ছে বিশ্ব।

কিন্তু কথা হচ্ছে, এই রাজনৈতিক দীনতাকে প্রাধান্য দিয়ে অথবা বাঁচিয়ে রেখে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা কি সম্ভব? মনে রাখতে হবে প্রচারে বাণিজ্য প্রসার ঘটে কিন্তু মালামালের গুণগত মান বিচার করে ক্রেতারাই। যুক্তরাষ্ট্রে নির্ভর বিশ্ব রাজনীতিও চলছে একই কক্ষপথে। ============================================ দৈনিক ডেসটিনি । ২৯ জুলাই ২০০৮ মংগলবার প্রকাশিত

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.