আমি পথিক
সপ্তাহের অন্যান্য দিনগুলো কর্মব্যস্ততার মধ্যে কি ভাবে কেটে যায় বোঝা যায় না। প্রচন্ড বিরক্তি এসে ভর করে রবি বার এলে। সময় যেন কাট্তেই চায় না। এই প্রবাসের বন্ধের দিনও অনেকে তাই কাজ করে। এতে অবশ্য টাকা আসে ভালই যারা কাজ করে।
আর যারা করে না তারা সাধারনত কি করে সময় কাটায় সিংগাপুরে তার একটা চিত্র আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। আমি কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত করেছি এদের । যেমন :
আজাইরা গ্রুপ :
এই লোকগুলো সাধারনত শনি বার গভীর রাত পর্যন্ত তাস খেলবে নয়তো কফিশপে বিয়ার খাবে। রবি বারে বেলা করে ঘুম থেকে উঠবে। দুপুরে হিন্দি / বাংলা মুভি দেখবে আর বিকাল হলে সেরাংগনে যেয়ে জগতের এমন কোন বিষয় নেই যা তারা জানে না এই ভাব নিয়ে লোকজন নিয়ে আড্ডা মারবে।
ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কখনও মাঠে কখনও রাস্তার কিনারায় দেখা যাবে এদের আড্ডা মারার দৃশ্য
রাজনীতি গ্রুপ :
এদেশে প্রথম আসার সময় এমনও অনেকে আছেন যারা নিজের শেষ সম্বল ভিটেটা পযর্ন্ত হয় বন্ধক রেখে এসেছেন নয়তো বিক্রি করে দিয়েছেন দালালের টাকা পরিশোধ করতে যেয়ে। দালালের টাকা দেয়া শেষ, বাড়িতে নতুন ঘর, নতুন আসবাবপত্র যখন শোভা বাড়ায় এবার একটু ডানে বামে তাকানো যায়। আর এই ধরনের চিন্তা থেকেই রাজনীতির ভূত মাথায় চাপে এখানের অনেকের। দেশে হাসিনা নয়তো খালেদার দল করতাম; এখন এখানেও করা চাই। আর সেই আড্ডা জমজমাট হয়ে উঠে এই রবিবারে সেরাংগনের মোস্তফা সেন্টারের আশেপাশে।
বর্তমানে এরা বেশ ব্যস্ত নানান নেতার সিংগাপুরে উপস্হিতিতে। এদের সবার হাতেই শনিবারের পত্রিকা ( কারন একদিন পরে পাওয়া যায় )। এদের দেখলেই চেনা যায় কিছু লক্ষনে। যেমন ; পান খাওয়া মুখে ভাব গম্ভির চেহারায় পত্রিকা পড়া, কিছু লোক আবার এদের ঘিরে থাকে পত্রিকায় কি লিখলো? জানার উৎসাহে।
বিশ্ব প্রেমিক গ্রুপ :
এদের দেখা রবিবারে সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায়।
শনি বারে রাতে ডিস্কো গুলোতে আর রবিবারে হাটে-মাঠে-ঘাটে, কোথায় নাই উনারা। হয় ইন্দোনেশিয়ান নয়তো ফিলিপিনো হাউস মেইড ( বাসার কাজের মেয়ে ) বগল দাবা করে ঘুরে বেরাচ্ছেন উনারা। এদিকে বাড়িতে উনোনে হাড়ি চাপলো কি চাপলো না সে দিকে খেয়াল নাই। বাড়িতে টাকার অভাবে অসুস্হ বাবা-মার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে কি হচ্ছে না কে খোঁজ করে। তিনি তো আছেন উনি কে নিয়ে।
এদের বেশির ভাগই দেখা যাবে জীবনে কোন দিন ঢাকা শহরও আসেনি। একেবারে লাফ দিয়ে চলে এসেছে সিংগাপুরে । আর এই গোলক ধাঁধার চক্কোরে পড়ে মাথা গেছে আউলাইয়া। মাস গেলেই হাতে হাজার হাজার টাকা এসে পড়ে। আর ভাব খানা হচ্ছে " মুই কি হনু রে........।
" হাতের কাছে বৃন্দাবন যখন কৃষ্ঞ হতে বাঁধা কোথায়!!
পারিবারিক গ্রুপ :
উনারা যেখানেই যান না কেন দলে বলে যান। মানে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে বের হন। বাজার করতে হোক আর সিনেমা দেখতে সবই একসাথে করা চাই। ছুটির দিন গুলো এরা সাধারনতঃ মেহমান দারি করেন নয়তো মেহমান হয়ে ঘুরে বেড়ান এবাড়ি সেবাড়ি। এদের হাস্যজ্জ্বল মুখ আমার খুব ভাল লাগে।
সাগর পারে এদের সাধারনত মেলা বসে। কারন খোলা মেলা যায়গা । বাচ্চারা খেলা-ধুলা করতে পারে। চাপাবাজি আর গলাবাজি তে মেতে উঠেন মহিলারা। পুরুষেরা ও দল বেঁধে আড্ডা মারেন মাটিতে চাদর বিছিয়ে।
এমন কোন বিষয় নেই যা উঠে আসে না তাদের আড্ডায়।
ছাত্র গ্রুপ :
আমাদের দেশের অনেক ছাত্র ও আছে এইখানে । কেউ বৃত্তি নিয়ে এসেছে আবার কেউ এসেছে নিজের টাকায় পড়াশুনা করতে। এখানে তাদের একটা অংশ আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকলেও অনেকে ইউনিভার্সিটির হোস্টেলে থেকেও পড়াশুনা করে যাচ্ছে। বেশীর ভাগই এরা সাপ্তাহিক রান্না করে থাকে।
খোলসা করে বলি, পড়াশুনার চাপ থাকায় প্রতিদিন রান্না করা এদের হয়ে উঠেনা। আর তাই এরা শনিবারে সারা সপ্তাহের রান্না করে ফ্রিজে রেখে দেয়। শনিবার ছাড়া অন্যান্য দিন শুধু বের করো , গরম করো আর খাও। তাই রবিবারে এরা সধারনত বাড়িতে ফোনে বা অন লাইনে সময় কাটায়। তবে ভিভো সিটির হলে শনিবারে নতুন ছবি এলে এরা মিস্ করে কমই।
জানিনা আপনাদের এই লেখা কেমন লাগলো। তবে আমার ভাল লাগলো । সময়টা কাটালাম এই লেখাটা লিখে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।