নিজেকে নিয়ে কিছু একটা লেখার চেষ্টা, এখোনো করে যাচ্ছি . . .
শিরোনামটি পড়ে মনে হতেই পারে এ পোষ্ট কি কোন কচি খোকা লিখছে যে কিনা তার দুষ্টুমীর কথা সবাইকে জানাতে চাই, অন্তত এটা তো নিশ্চিত কোন বড় সড় ধরনের ছেলে অবশ্য তার বয়সের তেমন কোন দুষ্টুমী করবেনা যা আবার লিখে সবাইকে ঘটা করে জানাতে হবে।
এখানে আসলে দুষ্টুমী শব্দটি না ব্যবহার করে যদি ফাইজলামী, বিটলামী কিংবা শয়তানী এ টাইপের কিছু ব্যবহার করতাম তাহলে বয়সের সাথে প্লাস লিঙ্গের সাথে একটা মানানসই হত।
থাকগে, পাঠক মশাইয়েরা যে যেভাবে নিবেন সেভাবেই কার্যসিদ্ধি হবে।
হঠাত করেই বিষয়টি মাথায় চেপে বসল, কোন ভাবনা ছাড়াই চিন্তা হলে যা হয় আর কি, অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত। মোবাইল থেকে ফোন করে বসলাম একটি মোবাইল কোম্পানীর কাষ্টমার কেয়ারে।
সুকন্ঠী কন্ঠের কোন নারী নিশ্চয় ফোন ধরবে - সেরকমই প্রত্যাশা করছিলাম। তাই হল .......
- শুভ সকাল। জ্বী স্যার বলুন আপনাকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি ?
[কিছুক্ষন নিশ্চুপ রইলাম, ইচ্ছে করেই]
- হ্যালো স্যার, আপনি কি শুনতে পারছেন ?
জ্বী পারছি, আপনি কে বলছেন ?
- জ্বী বলুন, আপনার সমস্যাটি কি ?
কে বলছেন আপনি ?
- জ্বী
আপনি কি সৈকতের বোন বলছেন ? আপু কেমন আছেন, সৈকত ভাইয়া কিন্তু দারুন দুষ্টু
- মানে ? সরি স্যার আপনার সমস্যাটি বলুন।
আপু, আমি কিন্তু ইয়েস বাটনই প্রেস করেছি
- দু:খিত আপনি ভুল করছেন, আপনি কি সঠিক নম্বরে ফোন করেছেন ?
ও আপনি সৈকতের বোন না, তাহলে কি আপনি শাহেদ ভাইয়ার বৌ বলছেন ?
- সরি, আপনি নিশ্চয় কোথাও ভুল করছেন
ভাবী, আসসালামু আলাইকুম, আছেন কেমন ? শাহেদ ভাই ভাল আছেন ?
- হ্যালো, আপনি আবারো ভুল করছেন, আপনি যে কারণে ফোন করেছেন প্লিজ কারণটি বলুন
হ্যালো, আপনার কথা ঠিক মত শুনতে পারছিনা [মিথ্যে কথা, ঠিকই শুনতে পারছিলাম]
যাই বলেন ভাবী, শাহেদ ভাইয়ের যে ’ইয়ে’ রোগে পাইছে, তাতে আপনি না থাকলে আসলেই যে কি হত ..
- হ্যালো, আপনি সীমা অতিক্রম করছেন
আচ্ছা বাদ দেন, বলেন তো আমার ইয়েটা কত হইছে
- ইয়ে, সরি
ইয়ে মানে ইয়ে, আমার ইয়েটা, আপনারা তো আমাদের কাছের মানুষ, ইয়েটা বুঝেননাই
টেলিভিশনে ইয়ে বললে বুঝেন, এখন বুঝেন না ?
- দু:খিত, কিছু মনে করবেন না, আমি ফোনটি আমার উর্ধ্বতনকে ট্রান্সফার করছি
[কিছুক্ষন অপেক্ষার পর একজন পুরুষের কন্ঠ শুনতে পেলাম]
- জ্বী বলুন, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি ?
আরে আপনি জলিল সাহেবের নাতি না ? নানা-ই কেমন আছেন, তারে সালাম দিয়েন
- জ্বী, আমি জলিল সাহেবের নাতি নই, আপনি কি জানতে চান সেটা বলুন
আচ্ছা ভাই, আপনি তো আমাদের চশমা, আপনি কি আমার ইয়েটা কত হইছে দেখতে পারবেন ?
- দু:খিত, আপনি স্পষ্ট করে বলুন
আচ্ছা, এই যে আমি হেল্প লাইনে কল করছি, এতে কি আমার বিল কাটছে কি ?
আচ্ছা, এটার কল চার্জ কত ?
এর কি কোন পিক - অফপিক আওয়ার আছে ? রাত ১২টার পর ফোন করলে কি সুপার অফপিক পাওয়া যাবে ?
বাদ দেন,এই যে এতক্ষন কথা বললাম, আমার বিল কত আসছে ভাই সেটাই বলুন ?
- জ্বী আপনাকে আমি এক্ষুনি জানাচ্ছি ...
........ ততক্ষনে লাইনটি কেটে দিয়েছি ........
[দৃ:খিত পোষ্টের বিষয়বস্তুর সাথে যাদের খাপখাওয়াতে একটু সমস্যা হচ্ছে তাদের জ্ঞাতার্থে , বিশেষত যারা দেশের ভিতর অথবা বাহিরে থাকেন অথচ আমাদের মোবাইল কোম্পানীগুলোর একটির এরকম বিজ্ঞাপনটি দেখেননি তাদের একটু কষ্ট হবেই বৈকি, বিষয়টি সহজসাধ্য করার জন্য কিছু তুলনা তুলে ধরলাম ................
সম্প্রতি সেই মোবাইল কোম্পানীটি তাদের কাষ্টমার কেয়ার সার্ভিসকে আরো গ্রহনযোগ্য এবং তা কতটুকু সাহায্যকারী তা বুঝানোর জন্য যে থিম ব্যবহার করেছেন তার ব্যবহারটি নিম্নরুপ :
বিজ্ঞাপন ১ : সৈকত চরিত্রটি ছোট্ট একটি ছেলের তার বোনের চরিত্রে রয়েছে একজন মেয়ে যিনি সেই কোম্পানীর কাষ্টমার কেয়াবের একজন এক্সিকিউটিভ। সৈকত মাটির ব্যাংক থেকে টাকা বের করতে গিয়ে ব্যার্থ হলে বোন এগিয়ে আসে এবং জগৎজয়ী হাসি মুখে তাকে সাহায্য করে, এবং পরবর্তীতে এরুপেই মেয়েটি কাষ্টমার কেয়ারে থেকে সকল কাষ্টমারকে আন্তরিকতার সাথে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে দেখা যায়।
কারণ কাছের মানুষ দ্বারাই শুধু এমনটি প্রত্যাশা করা যায়।
বিজ্ঞাপন ২ : শাহেদ ও শাহেদের স্ত্রী, শাহেদ সকালে অফিসে যাবার মুহূর্তে সবকিছু ভুলে ইয়ে ইয়ে করতে থাকে, এই যেমন তার কলম, চার্যার, মানিব্যাগ, বাচ্চার জন্মদিনও পর্যন্ত, কিন্তু শাহেদের স্ত্রী, যিনি অত্যন্ত তার কাছের মানুষ তিনি ঠিকই বুঝতে পারেন তার ইয়ের রহস্য, এবং তাকে সেভাবেই সহযোগিতা করেন, উল্লেখ্য শাহেদর স্ত্রী একজন কাষ্টমার কেয়ারের এক্সিকিউটিভ। তো ঠিক সেভাবেই তিনি তার কাষ্টমার কেয়ারের দায়িত্ব পালনের সময় সকল কাষ্টমারের ইয়ের অর্থ বুঝতে সক্ষম হন এবং সেভাবেই তাদেরকে সাহায্য করেন। কারণ কাছের মানুষ দ্বারাই শুধু এমনটি প্রত্যাশা করা যায়।
বিজ্ঞাপন ৩ : জলিল সাহেব মূল চবিত্রের কেউ না হলেও তার নাতি কেন্দীয় চরিত্রে যিনিও যথাক্রমে একজন ওই কোম্পানীর কাষ্টমার কেয়ারের এক্সিকিউটিভ।
নাতি খুব ব্যস্ত মানুষ, ফোনে কথা বলতে বলতে জুতোর ফিতা লাগানোর সময় পর্যন্ত তার হয়না, এমনকি নাস্তার পর্বও খুব সীমিত, তড়িঘড়ি করে বের হচ্ছিল, নানুকে বিদায় সম্ভাষন জানিয়েও কিন্তু নানুর সামান্য মৃদু স্বরে ব্যাথাতুর কন্ঠ তার চোখ এড়ায়না, শত ব্যস্ত হলেও তার নানুকে তুলে ধরে এবং পর্যাপ্ত সময়ও দেয়। কারণ কাছের মানুষ দ্বারাই শুধু এমনটি প্রত্যাশা করা যায়।
উপরোক্ত তিনটি বিজ্ঞাপনের আলোকেই পোষ্টটি লেখা হয়েছে যা পুরোটাই কল্পনাপ্রসূত]
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।