বাংলাদেশ ব্লগারস এসোসিয়েশন সদস্য নং: ১০ । facebook.com/milton3d
গতকাল একটা জাতীয় দৈনিকের একটা খবর পড়ে আমার খুব খারাপ লাগলো। খবরটি ছিল এমন, মোস্তফার সাথে লিলি বেগমের বিয়ে যখন লিলি বেগমের বয়স ছিল প্রায় ১৪ বছর। কয়েক বছর সংসার করার পর, স্বামী কাজের সন্ধানে কুড়িগ্রাম ছেড়ে দুর দেশ ফেনীতে যায়। সেখানে সে কাজ করে দেশে টাকা পাঠায় পরিবার পরিজনের কাছে।
সেই টাকায় সংসার চলে। লিলি বেগমের দুটি সন্তান। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের জীবন। তারপর বেশকিছুদিন যাবত মোস্তাফা আর টাকা পাঠায় না আর কোন খবরও দেয় না। লিলি অনেক চেষ্টা করে অনেক খোঁজাখুজি করেছে।
কিন্তু কিছুতেই কোন খবর পায় না। অবশেষে কয়েক বছর পরে তাদের মনে ধারনা জন্মে যে মোস্তাফা মারা গেছে। লিলি অনেক কষ্টে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঝি এর কাজ করে সন্তান দুটিকে মানুষ করে। তার বড় সন্তান এখন পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান আর ছোট ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিবে। এই ভাবেই কেটে যাচ্ছিল তাদের তিন মা বেটার সংসার।
এই মুহুর্তে হঠাৎ সেখানে ফিরে আসে মোস্তফা দীর্ঘ ১৯ বছর পর। সাবই আশ্চর্য হয়ে যায় মৃত ঘোষিত মোস্তফাকে দেখে। তারপর মোস্তফা বর্ণনা করে তার জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক নিদারুন কষ্টের কথা। সে কৃষিমজুর ছিল ফেনীতে। সেখানে এক দালালের খপ্পরে পড়ে।
সেই দালাল তাকে বিক্রি করে দেয় বান্দরবানের এক মৎসব্যাবসায়ীর কাছে। সেই ব্যাবসায়ী তাকে দীর্ঘ এতটা দিন বন্দী করে রেখেছিল সাগরে মাছ ধরার কাজে। তাকে কখনও তার পরিবার পরিজনের কাছে যেতে দিতো না এবং কোনরকম যোগাযোগ করতে দিতো না।
মোস্তাফা যদি কাজে কোন ভুল করতো তবে তাকে বেদম মারপিটের স্বীকার হতে হতো। চলতো অমানুষিক অত্যাচার।
কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করে ধরা খেয়ে বেদম মার হজম করতে হয়েছে। তবুও হাল ছাড়েনি মোস্তফা। শেষে এক ট্রলারের এক শ্রমিক সর্দারের হাতে পায়ে ধরে অনেক অনুনয় বিনিময় করে। সেই শ্রমিক সর্দারের মন গলে। সে তাকে পালানোর সুযোগ করে দেয়।
ফিরে আসে মোস্তফা তার স্ত্রী আর সন্তানদের কাছে। এক সুখের বাসরে।
সেই যুবক মোস্তফা আজ অনেক বুড়িয়ে গেছে। লিলি বেগম সুখে কাঁদতে কাঁদতে বলে, "এক মুঠ ভাত দরকার হলে ভাগ করে খাবো, তবুও লোকটাকে কাজে আর বাহিরে যেতে দিবো না। "
এই ধরনের কষ্টগুলো আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়।
হয়ত এক মোস্তফা ফিরে এসেছে কিন্তু এমন অনেক কৃতদাস রয়ে গেছে। বন্দী হয়ে আছে সর্দারের লাঠির নিচে। ধুঁকে ধুঁকে মরছে। নিরবে চোখের জল ফেলছে। কারণ তারা হয়ত কোনদিনই তাদের প্রিয়জনকে দেখতে পারবে না।
প্রিয়জনের ভালবাসা পাবে না।
এই সভ্যজগতে কি এখনও কৃতদাস প্রথা আছে?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।