এই পৃথিবীর সব কিছুই পাতানো, কলকাঠি নাড়ছে....... একজন; শুধুই একজন।
আজ সকাল হতে না হতেই ভীড় বাড়তে শুরু করেছে- কলমিপাড়ার পুকুর পাড়ে; একটা ষোড়শী মেয়ের লাশ পুকুর পাড়ে আধো ডোবা অবস্থায় উল্টো হয়ে পড়ে আছে; ভয়ে কোন ব্যাক্তিই লাশের কাছে যাচ্ছে না, আসলে কেউ নিজ থেকে ঝামেলায় পড়তে চাচ্ছে না। গ্রামের মেম্বার এবং চেয়ারম্যানকে খবর দেয়া হয়েছে, তারা পুলিশ নিয়ে আসবেন। মানুষজন গোল হয়ে লাশটার চারদিকে ভীড় করছে, চাপা গুন্ঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। পুকুর পাড়ের পাশেই মৃন্ময় বাবুর রাজবাড়ি, পরিত্যাক্ত এই বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে কোন মানুষ ভর দুপুরে একা একা আসে না, সন্ধ্যার পরে দলবেঁধেও চলে না।
আর বাড়ির ভেতরে মানুষ তো দূরের কথা কুকুর বেড়াল ঢোকারও সাহস পায় না। লোকমুখে প্রচলিত আছে, মৃন্ময় বাবুর ছোট ছেলে ঐ রাজবাড়িকে একটা রঙ্গশালা বানিয়ে ফেলেছিলো, প্রতি সকালেই নাকি একটা করে বাঈজির লাশ এই রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে আনা হতো।
সেই সব বাঈজির প্রেত-আত্বা গুলো এখন এই রাজবাড়ির চারদিকে ঘুরে বেড়ায়। পরিতাক্ত এই বাড়িতে এখনো রাতে জলসা বসে, অনেকে নাকি আবার এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে, লাশের চারপাশে কিছুক্ষন ধরে কিছু মাছি ভন ভন করতে শুরু করেছে।
সেই মুহুর্তে মানুষজনের ভীড় ঢেলে এক বৃদ্ধ লাশটির সামনে ঝুঁকে পড়লো।
-এই করে কি লোকটা! - লোকজন চিৎকার করে উঠলো।
-আরে তোমরা করতেছ কী? এই মেয়েটা কে? এ্যার পরিচয় জানছো?-বৃদ্ধ খুব উদ্বিগ্ন হয়ে বললো।
গ্রামের চকিদার লালমিঞা চেঁচিয়ে উঠল,
-এত বেশী জাইন্না লাভ নাই; চেয়ারম্যান সাব পুলিশ লইয়া আহুক,তারপর দেহা যাইবো মাইয়াডা কেডা?
-লাশ বেশিক্ষন ফেইলা রাখা ঠিক না, মুর্দা কষ্ট পায়, হাদীসে আছে.....
-চুপ থাক বুইরা! সারারাইত চুরির ধান্দা কাইরা এহনে আইছো ধর্মের গান গাইতে। পুলিশে আইয়া যহন তোমার গলার টুটি চাইপ্পা ধরবো, তহন বুঝবা কেমুন লাগে।
বৃদ্ধ চুপ মেরে গেল। বছর তিনেক পাঁচেক আগে অভাবের তাড়নায় সে চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে গিয়েছিল, মেম্বার সাব তখন তার বয়স দেখে মাফ করে দিয়েছিল, কিন্তু তাকে তার মেয়ের মাথা ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করতে হয়েছিল আর কখনো চুরি করবে না; তারপরও গ্রামের মানুষ কেন যে তাকে চোরা মজিদ বলে ডাকে, সে বুঝতে পারে না। এখন তার বয়স ৬০ বছর, জগৎ সংসারে একমাত্র মেয়েটিকে নিয়ে সে যে কী কষ্টে আছে কেউ তা একবার ফিরেও দেখে না। মেয়ে তার পরের বাড়িতে কাজ করে; আর সে করে ভিক্ষা; তারপরও সেই চোরের অপবাদটি তার নিরবে সৈহ্য করতে হয়, এছাড়া তার কোন উপায় নেই।
-এই দারোগা সাব আসতাছে- লোকজন ফিস ফিস করছে।
পুরানো ট্রাংক খুলতে গিয়ে আমার একটা ডায়রী পেলাম ১৯৯৮ সালের । তখন আমি ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ি, সেই ডায়রীতে অনেক মজার মজার লেখা আছে। সেই সময় আমি ক্লাসে আমার বন্ধুদের কে ভুতের গল্প বলতাম। এর জন্যে ক্লাসে আমার খুব নামডাক ছিলো, সেই গল্পগুলো আমি আবার লিখেও রাখতাম। এই গল্পটি সেই সব ভুতের গুলোর মধ্যে একটি অসামাপ্ত গল্প।
মনে হয় খুব একটা খারাপ ছিলো না।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।