ভাবে মন অকারণ সারাক্ষণ...যখন বাস্তবতা>আবেগ
শামীমা,
জানি,আমি তোকে লিখছি-এই খবর তোর কাছে কোনদিনই পৌঁছুবে না। তোর সাথে যোগাযোগর একটাই মাত্র উপায় ছিল; আর তা হলো- চিঠি। বাড়ি বদলের সময় কী করে যে তোর ঠিকানাটা হারিয়ে ফেললাম...........এই অপরাধবোধ আমার সারা জীবন থেকে যাবে!
তারপর কত যে চেষ্টা করেছি,বিশ্বাস কর,কেউ তোর ঠিকানা আমাকে জোগাড় করে দিতে পারে নি,কেউ না!
আমি চলে আসার পর তুই কি আবার নিজেকে এতোটাই গুটিয়ে নিয়েছিলি-যতটা আমি গিয়ে তোকে দেখেছিলাম?
তোর বাড়িতে সত মা ছিল। অভাব-অনটন লেগেই থাকত। তুই কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারতি না আমি তোকে আমার বন্ধু করতে পারি।
কিন্তু আমি তোর বিশ্বাস অর্জন করেছিলাম। তোর পরিবারের কাছেও আমাকে অনেকবার জবাবদিহি করতে হয়েছে কেন আমি তোর সাথে মিশি?আমার প্রতিবারই উততর ছিল-শামীমাকে আমার ভীষণ ভালো লাগে,ও এতো মিষ্টি একটা মেয়ে!
কারণ,এর চাইতে বেশি বা গুরুগম্ভীর কিছু তখন মাথায় আসত না। পড়তামই তো সবে ক্লাস ফাইভে।
মনে আছে তোর,তুই যেদিন প্রথম আমার কাছে তোর কথা বলতে এসে কেঁদেছিলি,সেদিনকার কথা?
আমাকে বলতি,আমি নাকি মানুষের কষ্টগুলো নিজের করে নিতে পারি!কি জানি রে!
আমি তোকে পড়া বুঝিয়ে দিতাম। তুই যখন ভালো রেজাল্ট করলি সেদিনও আমার কাছে এসে কেঁদেছিলি।
আর সবসময় চাইতি,যেন আমি খুব খুব ভালো রেজাল্ট করি। তোদের ওখান থেকে চলে আসার পর যতবার ভালো রেজাল্ট করেছি,প্রতিবারই তোর কথা মনে পড়েছে।
তুই বলতি,যদি সম্ভব হতো,তাহলে সারা জীবন তুই আমার সাথে থাকবি। তোর বাড়িতে যে অবস্থা ছিল তাতে তোর সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব ছিল।
মাঝে মাঝে মনে হয়,ওই ছোট বয়সেই আমি তোর মধ্য দিয়ে জীবনকে অন্যভাবে দেখতে পেরেছি।
তোর পাঠানো সেই ছোট্ট স্ট্যাম্প সাইজের ছবিটা আজও আমি প্রায় বের করে দেখি। তুই আমার কাছে সারাটা জীবন সেই মিষ্টি মেয়ে হয়েই থাকবি। ওই দু'টো বেণী,ওই দু'টো চোখ,হাত ধরে হাঁটাহাঁটি,স্কুলের পুকুর পাড়,চালতার আচার খাওয়া...হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফেরা.....কখখনো ভুলবো না রে,এ স্মৃতি ভোলা যাবে না!
আজ আর লিখছি না,তাতে শুধু স্মৃতিকাতরতাই বাড়বে। শুধু একটা কথা বলি,যাকে তুই বলতি সে নাকি সবার দুঃখ নিজের করে নেয়.......তার চাপা কষ্টগুলোকে নিজের করে নেয়ার মতো কেউ নেই রে............কেন নেই,বলতে পারিস????
নিশা
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।