আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঘাতক মইত্যা রাজাকার নিজামীর দৃষ্টতা

একজন আমি, একজন হারিয়ে যাওয়া এবং একজন দূর প্রবাসী

জামাতের আমির যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ওরফে মইত্যা রাজাকার নিজেদের যুদ্ধাপরাধের দায় আড়াল করবার জন্য এতদিন বলেছে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল না এবং ঘাতক আলবাদর-আলশামস-রাজাকার বাহিনী তারা গঠন করেনি। মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে তালিকা প্রস্তুত করে দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায়ও মইত্যা রাজাকার নিজামীরা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের সর্বশেষ চমক (১৯৭১-এ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার দাবি!) কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক আলবাদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক মতিউর রহমান নিজামী ওরফে ‘মইত্যা রাজাকার’ (এ নামেই সে মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজের এলাকায় পরিচিত ছিল) বলেছে, “এদেশ আমরা স্বাধীন করেছি যুদ্ধ করে, গণতন্ত্র এনেছি, সংগ্রাম করে!! ১৯৭১-এ সামরিক জান্তা ইয়াহিয়ার পদলেহী নিজামীর এহেন স্পর্ধিত উক্তি মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধার আত্মদান এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি অতি কদর্য বিদ্রুপ ছাড়া আর কিছু নয়। জরুরী অবস্থার বেড়িতে দেশবাসী যদি আবদ্ধ না থাকত, তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মইত্যা রাজাকার নিজামীর এই ধৃষ্টতার জন্য সারা দেশে শত শত বিক্ষোভ প্রতিবাদ হতো, ক্ষোভে ফেটে পড়ত দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষ। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে মইত্যা রাজাকার নিজামী ও তার দল জামাত কীভাবে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার দালালী করেছে, কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামীদের হত্যার জন্য পাকিস্তÍানী হানাদার বাহিনীকে প্ররোচিত করেছে, কীভাবে রাজাকার-আলবাদর-আলশামস প্রভৃতি ঘাতক বাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের শত্রুদের পুঙ্ক্তিতে দাঁড়িয়ে গণহত্যা ও নারী নির্যাতনসহ যাবতীয় ধ্বংসযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছে- তার শত শত বিবরণ পাওয়া যাবে ১৯৭১-এ জামাতের মুখপত্র দৈনিক ‘সংগ্রাম’ ও অন্যান্য সংবাদপত্রে।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়ার বদৌলতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের দায় থেকে অব্যাহতি পেয়ে এবং ২০০১ সালে রূপকথার সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো খালেদা জিয়ার ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ক্ষমতায় এসে নিজামীরা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। কিন্তু এ কথা কেন তারা ভুলে যায়Ñ জিয়াউর রহমান ঘাতক-দালাল আইন বাতিল করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পেরেছেন বটে কিন্তু এত কিছুর পরও বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭(৩) ধারায় ‘৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধানটি এখনও জ্বলজ্বল করছে। নিজামীদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের কখনও ক্ষমা করা হয়নি। ‘৭১-এর স্বজনহারাদের লক্ষ কোটি পরিবার কখনও তাদের ক্ষমা করবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষের অবস্থান এখনও অনড়।

এরই প্রতিফলন আমরা দেখেছি সম্প্রতি বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের বক্তব্যে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সমাবেশে গত ২৭ মার্চ জেনারেল মইন সুনির্দিষ্টভাবে ‘১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা বলে দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছেন এবং একইভাবে ঘাতক নিজামীদের মতো যুদ্ধাপরাধীদের রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছেন। ‘মিথ্যাচার’ ‘প্রতারণা’ ‘শঠতা’ প্রভৃতি জামাতের সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। ঘাতক নিজামীরা যখন বলে, ‘১৯৭১-এ তারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী ছিল না, রাজাকার-আলবাদর-আলশামস তারা গঠন করেনি, হত্যা নির্যাতন, লুণ্ঠন ও যাবতীয় ধ্বংসযজ্ঞে তারা জড়িত ছিল না- এরচেয়ে কুৎসিৎ মিথ্যা আর কিছু হতে পারে না। এ সবের চেয়ে ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার ও চরম ধৃষ্টতা হচ্ছে ‘১৯৭১-এ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার দাবি।

তবে জামাতের আদর্শিক অবস্থান ফ্যাসিবাদ ও নাৎসিবাদে বিধায় তাদের এরূপ দাবি করতেও বাধে না। মইত্যা রাজাকার নিজামী জানে দেশে এখন জরুরী অবস্থা চলছে। রহস্যজনক কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন পর্যন্ত তাদের প্রতি যথেষ্ট সদয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেফতার করা হলেও ধর্মব্যবসায়ী জামাতের শীর্ষ নেতারা সবাই বহাল তবিয়তে আছে। জরুরী অবস্থার কারণে জনগণের প্রতিবাদের সুযোগ নেই বলেই যুদ্ধাপরাধী মইত্যা রাজাকার নিজামী নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করবার মতো স্পর্ধা প্রদর্শন করতে পেরেছে।

এরপর নিজামী নিশ্চয় বলবে, তাদের গুরু মওদুদীর নির্দেশেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দিন আহমদরা তাদের হুকুম মাফিক মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন! জিয়া-খালেদা নন্দন তারেক রহমান যেদিন জামাতকে বিএনপি’র সহোদর ভ্রাতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন সেদিন থেকেই এদেশের মানুষ এ কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছিল- মইত্যা রাজাকার নিজামী কবে বলে জিয়া আর সে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে!! বিএনপি-আওয়ামী লীগের নেতাদের একের পর এক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কথা বলে গ্রেফতার করা হলেও জামাতের নেতাদের কেন ধরা হচ্ছে না- এই প্রশ্নের একই উত্তর শুনা যাচ্ছে গত ক’মাস ধরেই যে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলেই তাদের ধরা হবে! বাংলাদেশের সংবাপত্রে শুধু নয়, গোয়েন্দা বিভাগেরও নথিপত্রে জামাতের শীর্ষ নেতাদের জঙ্গিসম্পৃক্তি ও দুর্নীতির ভূরি ভূরি তথ্য রয়েছে। ১৯৭১-এ তাদের গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের তথ্যও কম নেই। এত কিছুর পরও ধর্মব্যবসায়ী জামাতের প্রতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিশেষ পক্ষপাত আচরণÑ তাদের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেহেতু ধুরন্ধর জামাত বুঝে ফেলেছে জেনারেল মইন যতই বলুন অদৃশ্য ইশারায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে না এবং দুর্নীতি ও জঙ্গিসম্পৃক্ততার দায়ে তাদের জেলে যেতে হচ্ছে না- নিজামী এটাকেই মোক্ষম সময় বিবেচনা করে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে চাইছে! নিজামীর ধৃষ্টতা দেখে মনে হচ্ছে অচিরেই সে বলবে- ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তারাই গদিতে বসিয়েছে, কিংবা তারা ছাড়া বাকি সবাই রাজাকার। উচ্ছিষ্টভোগী জামাতের ছেষট্টি বছরের রাজনীতির ইতিহাস হচ্ছে- যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের খিদমত করা কিংবা খিদমতের ভান করা।

তবে জামাতের মতো দল কখনও কোন সরকারকে রক্ষা করতে পারেনি। কেউটে সাপের লেজ দিয়ে কান চুলকানোর বিপদ সম্পর্কে তারা বিলক্ষণ অবগত- যারা জামাতের সঙ্গে বসবাস করেছে। পাকিস্তানে জেনারেল জিয়াউলের সরকার থেকে আরম্ভ করে বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার সরকারকে জামাতই ডুবিয়েছে। তবে ঘাতক নিজামীদের এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, জরুরী অবস্থা অনন্তকাল থাকবে না। দেশপ্রেমিক মানুষ জানে কখন ‘৭১-এর মতো একাট্টা হতে হয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবজ্ঞা ও অবমাননা বাংলাদেশের জনগণ কখনও ক্ষমা করবে না সংগৃহীত যুদ্ধাপরাধী, মইত্যা রাজাকার নিজামীর পলায়ন

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।