আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ সত্যিই সম্ভব?

ব্যক্তিভেদে মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্রম ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই মানুষের বুদ্ধিমত্তাও অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়। কিন্তু সেই পার্থক্য পরিমাপের উপায় আছে কি? পশ্চিমা বিশ্বে ছাত্রছাত্রীদের বুদ্ধিমত্তার (আইকিউ) পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু তার ফলাফল কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কতটুকু ইঙ্গিত দিতে পারে?

অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী ধরনের সৃজনশীল মানুষের চাহিদা কর্মক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। কাজের মাধ্যমেই সাধারণত তাঁদের চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

ব্যক্তিভেদে মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতির পার্থক্য নিয়ে দশকের পর দশক ধরে গবেষণার পরও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ব্যাপারে সহজ কোনো উত্তর নেই। তাঁরা বুদ্ধিমত্তার নানা ধরন সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আর জিনগত কিছু বিষয়ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।

আইকিউ পরীক্ষায় নির্দিষ্ট মানুষটির শিক্ষাগত দক্ষতা, ভবিষ্যতের উপার্জন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয় সংশ্লিষ্ট থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইকিউ পরীক্ষায় ভালো করলেও একজন মানুষের ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অবস্থিত জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মনোবিজ্ঞানী র‌্যান্ডেল অ্যাঙ্গল বলেন, বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের বিয়ষটি বিতর্কে পরিপূর্ণ। এ কাজে ব্যবহূত নানা পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতিটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। কারণ, কেবল আইকিউ ভালো হলেই কারও ভবিষ্যৎ সুন্দর হয় না। আইকিউ পরীক্ষায় উচ্চ নম্বর অর্জনকারীদের জীবনেও ব্যর্থতার বিস্তর উদাহরণ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে অবস্থিত ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড লাবিনস্কি বলেন, ভালো আইকিউধারী হওয়াটা অনেকটা বড় ইঞ্জিনের গাড়ির মালিক হওয়ার মতো ব্যাপার।

জ্বালানি না থাকলে এই গাড়িতে চড়ে আপনি কোথাও যেতে পারবেন না। আবার রাস্তার অবস্থা খারাপ হলেও একই ব্যাপার ঘটবে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আইকিউর বিষয়টি মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে অনেকটাই সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্রে অঞ্চলভেদেও মানুষের বুদ্ধিমত্তা কমবেশি হতে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এখন সেই পার্থক্য নির্ণয়ের সবচেয়ে নিখুঁত পদ্ধতিটি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন।

  

বুদ্ধিমত্তার প্রকৃতি নিয়ে গবেষকেরা প্রথম কাজ শুরু করেন অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে। যুক্তরাজ্যের স্যার ফ্রান্সিস গ্যাল্টন এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যবহার করে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তারপর ফরাসি মনোবিজ্ঞানী আলফ্রো বানো উনিশ শতকের শুরুতে একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে অনগ্রসর শিশুদের সাহায্য করা যায়। মূলত কথা বলায় দক্ষতার ভিত্তিতেই তখন বুদ্ধিমত্তা পরিমাপ করা হতো। কিন্তু এখন মানুষের চিন্তার ক্ষমতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডিসকভারি নিউজ।

 

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.