বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের সফলতা-ব্যর্থতা বিশ্লেষণ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল নির্ধারণে এবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে দলকে গোছানো, নেতাকর্মীদের মানোন্নয়ন, উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে ২০ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে দলটির সাংগঠনিক পক্ষ। দেশকে ১৫টি সাংগঠনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা গোপনে সফর করছেন তৃণমূল পর্যায়ে। বড় কোনো ইস্যু না হলে আপাতত রাজপথে কঠোরতা দেখানোর পরিবর্তে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করাকেই প্রাধান্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। তৎপরতা বাড়াতে সারা দেশে উপজেলা নির্বাচনেও অঘোষিতভাবে অংশ নিচ্ছে দলটি।
স্থানীয় সংগঠনের পরামর্শ অনুযায়ী কোথাও জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে, আবার কোথাও জামায়াতের পৃথক প্রার্থী দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জামায়াতের বিশ্বস্ত বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ নেতারা জেলে থাকায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সংগঠন চলছে দলীয় গঠনতন্ত্রের জরুরি বিধান অনুযায়ী। এতে কমিটি গঠনসহ সংগঠনের স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী সব কাজ চলছে না। তবে দেশের অন্যত্র গোপনে হলেও সাংগঠনিক কর্মকা- কিছুটা বজায় রয়েছে।
সে অনুযায়ী দুবছর মেয়াদি জেলা কমিটির মেয়াদ থাকলেও এক বছর মেয়াদি উপজেলা কমিটিগুলোর মেয়াদ গত বছর ডিসেম্বরেই শেষ হয়েছে। তাই জরুরিভাবে এসব কমিটি পুনর্গঠনের (নির্বাচনের) কাজ চালানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ কাজ শেষ হবে। কমিটি গঠন ছাড়াও অভ্যন্তরীণভাবে ঘোষিত সাংগঠনিক পক্ষ উপলক্ষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক তত্ত্বাবধায়করা সারা দেশে সফর করছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোরও কমিটি পুনর্গঠনসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নতুন কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার। আজকালের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করবে ছাত্রশিবির। তবে গ্রেফতার-নির্যাতন এড়াতে সব কাজই হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে। এদিকে জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, দলীয় কৌশল নিয়ে এরই মধ্যে বেশকিছু মতামত এসেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে। এর মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার আগেই নতুন নামে আরেকটি দল করা হোক।
আবার অনেকে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন দল গঠন বা করণীয় আগেই ঠিক করে রাখতে হবে। সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই তা কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া জামায়াতের নামে মাঠে কোনো আন্দোলন করতে না দিলে নিজামী মুক্তি পরিষদ ইত্যাদি ভিন্ন ব্যানারে নামারও প্রস্তাবনা রয়েছে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।