আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপিদের এলাকায় নজর রাখবে ইসি

আগামী ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের এলাকায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখবে নির্বাচন কমিশন। সদ্য সমাপ্ত প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এলাকায় সহিংসতা বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ভোটের দিন এসব এলাকায় ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও সংঘর্ষসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ভোটের দিন প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের এলাকা ইসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে মনে করছে ইসি। গত দুই ধাপের নির্বাচনী সহিংসতা বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে ইসি।

পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলোতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য রিটার্নিং অফিসারদের পাশাপাশি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রীর এলাকায় প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানাও করেছে ইসি। ইসি পর্যালোচনা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রভাবাধীন এলাকা ভোলা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জালভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রিটার্নিং অফিসাররা ভোটের দিন কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের আগমুহূর্তে মন্ত্রীদের প্রভাবাধীন এলাকায় চলছে সহিংসতা।

সোমবার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক শিকদার এবং বিদ্রোহী প্রার্থী তরুণ শিকদারের সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। একই ঘটনা ঘটেছে পুটোয়াখালীর বাউফলে। গত শনিবার গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত রবিবার কমিশন থেকে রিটার্নিং অফিসার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রবিবার বরিশালের হিজলায় আওয়ামী লীগের দলীয় সভার নামে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়।

খবর পেয়ে ইসি তা তাৎক্ষণিক বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রী-এমপিরা আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না। নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে তারা নানাভাবে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। রিটার্নিং অফিসাররাও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তবে এসব বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে সামনের তিনটি ধাপের নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, উপজেলা নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি উপেক্ষা করে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয় নির্বাচন। মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা ভোটার হলে শুধুমাত্র ভোট দিতে যেতে পারবেন। তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালালে ওই উপজেলার ভোট বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক সভা না করার আহ্বান জানান তিনি।

 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.