আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভূতের নাম 'ভাল্লাগেনা'

মাঝে মাঝে কী যেন হয়, অমাবশ্যায় তালগাছের নিচে যাই না, গভীর রাতে গোরস্তান বা শ্মশানেও ঘুরি না, তবু একট ভূত আমার ঘাড়ে চেপে বসে। সেই ভূতের নাম 'ভাল্লাগে না ভূত'। কারণে অকারণে যে ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো প্যান প্যান করেই যায় " ভাল্লাগছে না, কিচ্ছু ভাল্লাগছে না। " এমন হত যে টাকার অভাবে খেতে পারছি না, পেটে ম্যমথের দল ডিজে ড্যান্স দিচ্ছে, কিংবা হয়ত পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে আর আমি ভীষণ রকমের খারাপ করেছি তাহলে এই দুঃখের পেছনে বাস্তব যুক্তি থাকতো। এই দুঃখবোধের কোন কারণ বা যুক্তি খুঁজে না পেয়ে মেজাজ আরো খিঁচড়ে যায়।

সাইক্রিয়াটিস্টরা একে কী বলবেন, এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা? হয়ত...! রোমান্টিক কবি সাহিত্যিকদের মধ্যেও কিন্তু এই রোগ থাকে, সেটাকে আবার তাঁরা আদর করে ডাকেন 'ম্যালাঙ্কলি'। শব্দটার বাংলা অর্থ কী হবে? 'দুঃখবিলাস' হতে পারে। এটা তো একধরনের বিলাসিতা। খাবারে যেমন লবণের কটা স্বাদ বা মরিচের হাল্কা ঝাল না থাকলে টেস্ট পাওয়া যায় না, তেমনি মনে হয় এই অনুভূতিগুলোরও দরকার আছে জীবনে একটু কটা টেস্ট আনার জন্য। তবে আমার ক্ষেত্রে অনুভূতিটা ধীরে ধীরে যুক্তি খুঁজে পায় অতীত আর বর্তমানের যত তিক্ততা আছে তার মধ্য।

বিষণ্ণ মন জীবনের যত অপ্রাপ্তি আর বঞ্চনার ইতিহাস আছে, যত কষ্ট আছে সেগুলোকে খুঁজে বের করে তার জাবর কাটা শুরু করে। নিজেকে তখন খুব বেশি একা মনে হয়, মনে হয়জীবনটাই ব্যর্থ। কিছুদিন আগে বাংলা একাডেমীতে আফ্রিকানলেখক এলেচি আমাদির লিখা একটা বই পেয়েছিলাম 'নিঃসঙ্গ'। বইটা কিনে রেখেছি। প্ল্যান ছিলো যেদিন আমাকে এই নৈসঙ্গতার ভূতে ধরবে সেদিন নিজেকে এই বইটা উপহার দিব।

আজকে আমার তেমনি একটি অকারণ বিষণ্ণতার দিন। আজকে আমার নিজের কাছ থেকে বই উপহার পাওয়ার দিন। দেখি, বই উপহার পেয়ে, নতুন বই পড়ে মনটা যদি একটু ভাল হয়...। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।