আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শর্ট ডিস্টেন্স রিলেশনশিপ

I like to hear complain from my readers about my lacks.............................................আমি এক পরী যার ডানাও নেই, আকর্ষনও নেই রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমার মেজাজটা খারাপ হয়ে যায়, কিন্ত আজ বাথরুম থেকে চিৎকার শুনে মেজাজ খারাপ না হয়ে বরং মনটাই স্তম্ভিত হয়ে গেল। "আপুটা আজ পাগল হয়ে গেল নাকি?" গলার স্বর চিনতেই হটাৎ মাথায় চিন্তাটা আসল। আপু চিৎকার করছিল তখন, "সামবডি হেল্প মি" চুপ করে ভাবছিলাম কি করা যায়। কষ্টগুলো মনে উকি মারতেই মনে হল উঠে গিয়ে কিছুই করতে পারবানা, তাছাড়া যে নিজের ভালো বুঝেনা তাকে সাহায্য করতে নেই, এটাই আমার থিওরী। তবুও বসে থাকতে পারলাম না, বাসায় কেউ নেই বলেই উঠে গেলাম, অন্য সময় হলে কানে তুলা গুজে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করতোম।

আপুকে ওর বিছানায় ঘুমাতে দিয়ে চলে আসলাম নিজের বিছানায়। হটাৎ মনে পড়ল বাসায় কেউ নেই, বাথরুমটাতো আর নিজেই নিজেকে পরিষ্কার করবে না! আপুটা বমি করে বাথরুমটা পুরো নষ্ট করে এসেছে, এখন সেটা আমাকেই এত রাতে পরিষ্কার করতে হবে, ভাবনাটা আসতেই শরীরটায় একটা ঘৃনা ভাব আসলো। তারপরও উঠে গেলাম, সকালে ক্লাসে যাবার আগে আমাকে বাথরুম ব্যবহার করতে হবে, সুতরাং এখন পরিষ্কার করে গোসল করা ছাড়া উপায় নেই। এভাবে আর কতদিন, ভাবতে ভাবতে বাথরুম পরিষ্কার করা হয়ে গেল। ভাবনাগুলো যখন মনে আসে তখন অনেক বিরক্তিকর কাজও দ্রুত করা হয়ে যায়।

গোসল করে চুল ড্রায়ার দিয়ে শুখিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। সকালে আপুকে টেনে তুলার চেষ্টা করলাম, আমার ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু আপুটা উঠলই না। হটাৎ করেই মনে হল, কাল রাতে ও ড্রিঙ্ক করে ফিরেছে। এখন মৃত মানুষের মত অঘোরে ঘুমাচ্ছে, ওকে তুলতে হলে আজকে ক্লাস করা হবেনা। ক্যম্পাসে গিয়ে কিছু কিনে খেয়ে নিব, ভেবেই আর রান্নাঘরে যাবনা ভাবছিলাম, পরে মনে হল কাল আপুর খাবার কিনে আনার কথা ছিল, সেটা যে ও করেনি তা বোঝা যাচ্ছে।

তাই গিয়ে দেখলাম অবশিষ্ট যা আছে তা দিয়ে আমার চলবেনা, আপুও খাবে, সুতরাং এখন যা করার দরকার তা হল ক্লাস করে ওয়ালমার্ট যাওয়া, কিছু কিনে আনা। আপুর ওয়ালেট ধরতে ইচ্ছা হয়না, তবুও অনিচ্ছাসত্বে আপুর ওয়ালেট থেকে বেশ কিছু ডলার নিয়ে গেলাম। আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা দেয়া হয়নি, আপুকে গত সপ্তাহেও বলেছি। এখন ড্রাইভিং পারমিট নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে হবে,পুলিশ না ফলো করলেই বাচি। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে দেখলাম একটা মেয়ে, বেশ খারাপ অবস্থা, হাটতেও পারছেন।

দেখে বোঝা গেল ড্রিঙ্ক করে বাড়ি ফিরছে। আমাকে দেখে কাপা গলায় জিজ্ঞেস করল এপার্টমেন্ট থ্রী বি কোথায়? আমি দ্রুত সরে গেলাম, নিচে থেকে আরো দুটো ছেলে মেয়েকে উঠে আসতে দেখে। মনে হল এদের সাথে কথা না বলাই ভালো। নিচে নামতে নামতে একটা দৃশ্য দেখে মাথাটা আবার গরম হয়ে গেল! একটা ছেলে জোর করে একটা মেয়েকে চেপে ধরেছে, মেয়েটা গাড়ির দরজা খুলে বের হতে চাচ্ছে। দুজনেই ড্রাঙ্ক।

আমার মনে হল মেয়েটাকে সাহায্য করি, কিন্তু পরক্ষনেই ভাবলাম, আজকে মেয়েটাকে সাহায্য করব, আবার আজ রাতেই আবার যেখান থেকে এসেছে, সেখানে ফিরে গিয়ে এই নাটকটা করবে কালকে, সুতরাং কোন দরকার নেই। নিজে ঝামেলায় পড়তে হবে, তার চেয়ে আমার নিজের কাজ করাই ভালো! গাড়ি চালাতে চালাতে মোবাইলে টেক্সট আসলো, নিজেকে নিষেধ করতে পারলাম না, জানি এখন রে ছাড়া কেউ টেক্সট করবেনা এত সকালে। রে আমার ফ্রেন্ড। ওর সাথে আমার রিলেশনটা অন্যরকম। অন্য সবাই যেভাবে বন্ধুত্ব করে, আমাদের ক্ষেত্রে সেটা কিছুটা অন্যরকম।

আমার জন্মাব্ধি রে আমার সঙ্গ দিয়েছে। আমাদের জন্ম একই হসপিটালে হয়েছে, একদিন! জন্মগতভাবে আমরা দুজনেই অস্ট্রেলিয়ান। ছোট বেলায় মাম্মি আর টিয়ার অনেক বন্ধুত্ব ছিল। টিয়া রে এর মাম্মি। টিয়া আমাকে ছোটবেলায় পিকআপ করে প্রতিদিন ডে কেয়ারে দিয়ে আসতো, রে'ও থাকত।

টিয়া চলে যাবার সময় আমরা দুজনেই টিয়ার গালে পাপ্পি দিতাম। কি আনন্দের দিন কাটিয়েছি সেই সময়টুকুতে। এর পরেই মাম্মি আর পাপির ডিভোর্স হয়, তখন আমার বয়স নয়। আপুটা রাগ করে চলে আসে ইউএসে, আমাকেও নিয়ে আসলো, আর পাগল রেও আমার সাথে আসবে বলল। কি অদ্ভুত আনন্দ হয়েছিল আমার সেদিন।

রে নিষেধ মানেনি, টিয়াও বলল অসুবিধা নেই, কেননা টিও ইউএসে থাকে। সে থেকে রে থাকে ইউএসে, আমরাও আসলাম। টিও বাধা দেয়নি, টিয়া নিজেই ছেলেকে দিয়ে গেল এখানে। টিও রে এর বাবা, তিনি অনেকদিন ধরেই এখানে আছেন। রে তার সাথেই থাকে, আমি আর আপু একসাথে আছি।

আপুটা অনেক ভালো, কিন্তু অনেক বদলে গেছে। আগে নিজেকে সব কলুষতা থেকে বাচিয়ে ছিল, আমাকেও রক্ষা করেছে, কিন্তু এখন ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। আর কোন বোধ নেই মনে হয় মাঝে মাঝে। অস্ট্রেলিয়ার থেকে এখানে কিছুটা অন্যরকম। এখানে ডাউনটাউন ছাড়া বাকি সব সাবআর্ব গুলো খুব নিরব।

অবশ্য নিরবতাই আমার ভালো লাগে। তবে নিউজার্সি কিংবা নিউইয়র্কের দিকে গেলে অন্যরকম, কিংবা শিকাগো। লস-ভেগাস যাবার ইচ্ছা ছিল আপুর, কিন্তু টিয়া রেকে যেতে দিবেনা বলেই টেক্সাস হল আমাদের শেষ গন্তব্য। আমি আর আপু এপার্টমেন্টে থেকে গেলাম। আপুটা সেই থেকে জব করছে, এখন করে।

সপ্তাহে দুদিন বন্ধ থাকে, তখন ধুমিয়ে পার্টি করে বন্ধুদের সাথে। অবশ্য ওদের বন্ধু বলতে আপুর ঘৃনা করা উচিৎ, কেননা আমি আপুর স্থানে থাকলে তাই করতাম। অবশ্য আমার এত খারাপ বন্ধু কখন হয়নি! এত নিচু মানসিকতা আর যাচ্ছেতাই জীবন, এভাবে নিজেরাও স্পয়েল হয়েছে, আপুটাকেও স্পয়েল করেছে। আমি চেষ্টা করেছি একটা সময় পর্যন্ত, তার পর আর শক্তি অবশিষ্ট ছিলনা, তাই আপুকে আর কিছুই বলা হয়না এসব নিয়ে এখন। তাই এই সুনসান নিরবতা নিয়ে আমাকে নিজের সামনেই মাঝে মাঝে নিজেকে থমকে দাড়াতে হয়, কিন্তু কোন কিছুই থামেনা।

চলমান পৃথিবীতে আমরা বন্দি কিছু মানুষ, চলতে গিয়ে একটুখানি পিছনে ফিরলেও থেমে যেতে পারিনা! রে টেক্সট করেছে ও আজকে দেরিতে আসবে, ওর প্রথম ক্লাসের হোমওয়ার্কটা যেনো আমি নিয়ে আসি। হাসলাম, ক্লাস স্কিপ দেয়াটা আমি রে'র কাছ থেকেই শিখেছিলাম! ও খুব ভালো স্টুডেন্ট, কিন্তু মিস্টার হেনস এর ম্যাথ পড়ানোর ভঙ্গি ওর কাছে অনেক জটিল লাগে, তাই ওনার ক্লাসটা প্রায় স্কিপ করে। অবশ্য ওকে ম্যাথ জিনিয়াস বললেও ভুল হয়না। ও সব এপি ক্লাস নিয়েছে কোর সাবজেক্টে! স্মার্ট কিন্তু একটু বাচাল। চিন্তায় ডুবে গিয়েছিলাম! হটাৎ করেই হার্ড ব্রেক চাপলাম, কিন্তু আমার গাড়ি থামছেনা কেন? সামনের গাড়িটা আমার গাড়ির দিকে ছুটে আসছে!!! (চলবে) শুধুই গল্প, তবে বাস্তবে হয়না বলা যায়না, দেখলেই বিশ্বাস হবে শুধু! ভালো থাকুন! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।