আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সামরিক গণতন্ত্র...

বাংলাদেশ রাষ্ট্র পাকিস্তানের চেয়ে গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টায় অনেকখানি এগিয়ে আছে- অন্তত গাণিতিক হিসেব অনুযায়ী তৃপ্তির ঢেকুর তোলার যথেষ্ট অবকাশ আছে। আমাদের এখানে সামরিক শাসন'র চেয়ে গণতন্ত্র বয়সী হয়ে উঠছে। এটি আপাত আশার দিক। সম্প্রতী চট্টগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগ করলেন সেনা কর্মকর্তার গুমের বিষয়ে তাতে আংকিত হতে হয়। খালেদা জিয়ার এ কথা কতটা হেয়ালি আর কতটা দায়িত্ব পূর্ণ তা তিনি পরিষ্কার করার কোন নোক্তা আমাদের জন্য রাখেন নি।

সম্প্রতী সেনাবাহীনি'র ক্যু সরকার ব্যার্থ করেদিয়েছে। এটি আশার দিক। সবচেয়ে অভিনব হলো সেনা সদরের প্রেস ব্রিফিং-এর ভাষ্য। সাবেক/বর্তমান সেনা কর্মকর্তারা যারা ক্যুর সাথে জড়িত তাদের সেনা সদর ‌'ধর্মান্ধ' বলে অভিহিত করেছে। 'ধর্মান্ধ'-প্রপঞ্চটি দার্শনিক-রাজনৈতিক প্রপঞ্চ।

সেনাবাহিনী যখন একে ব্যবহার করছে, তখন এটি বিপদের কারণ হয়ে দাড়ায়। রাষ্ট্রের জন্য হুমকি সংগঠনগুলো অনন্ত দু'ভাবে নিষিদ্ধ হতে পারে। এক. সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক কারণ চিহ্নিত হওয়া, দুই. রাজনৈতিকভাবে। বাংলাদেশের মত ভেকধরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ গোষ্ঠি সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর নাও হতে পারে। গণমানুষের অংশগ্রহণে জনমত যাচাই বরাবরই এখানে উপেক্ষিত।

সেই সাথে রাজনৈতিক-দার্শনিক প্রপঞ্চগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে মোকাবেলা করার ইতিহাস বেশ খাটো। হিজবুত তাহরির নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে যতটানা বাংলাদেশের নিজস্ব বুঝাপড়া তৈরি হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশী বহি:শক্তির তুষ্টির জন্য হয়েছে। এটা বুঝার জন্য সহজ নোক্তা হচ্ছে তাদের সাধারণ সক্রিয় কার্যক্রম। তাদের পাবলিক প্লেসে ঢাউস সাইজের পোস্টার বার বার সাটানো। সরকার কর্তূক একটি নিষিদ্ধ সংগঠন একই কাজ বার বার করবে আর আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তা ধরতে পারবে না এটা হাস্যকর।

আমরা এমন অনেক কাহিনী জানি যেখানে সামরিক বাহিনী দেশের সার্থে এসব ক্ষেত্রে নিজ থেকে সরকারকে পূর্বই একশানে যেতে প্ররোচিত করে। কিন্তু হিতা'র ক্ষেত্রে সমস্যাটা ধর্ম কেন্দ্রিক রাজনীতি নিয়ে। বর্তমান সরকারকে ক্রেডিট দিতে হচ্ছে তারা এই ক্যু'র ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার প্রয়াস নিয়েছে বিভিন্ন ফ্রন্টে। সামরিক বাহিনীর কাজ কবিতা লেখা নয়। আবার উপনিবেশিক মমনে বেড়ে উঠলে তা সভ্য সমাজ গঠনে সহায়ক হবে না।

এই দু'য়ের ফারাক আমাদের বুঝতে হবে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.