আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

উপেক্ষিত জনগণ



রাষ্ট্র হয়তো নিজ অস্তিত্বের প্রয়োজনেই নির্যাতনপ্রবন এবং আধিপত্যবাদী, এবং এই আধিপত্যের চর্চা করতে অনেক সময়ই মৌলিক অধিকারগুলোকে লঙ্ঘন করে রাষ্ট্র। যদিও বাংলাদেশের প্রথম প্রধান মন্ত্রী তাজউদ্দীন এবং কামরুজ্জামান বামপন্থি হয়ে কট্টর ডানপন্থী মুজিবকে প্রভাবিত করে আওয়ামী লীগকে মধ্যপন্থী একটি দলে রুপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিলো কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার সমাজতান্ত্রিকতার চর্চা করেছিলো শুধুমাত্র ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমুহকে রাষ্ট্রীয়করণের মাধ্যমেই , এর পূর্বে কিংবা পরবর্তীতে বামপন্থী প্রবনতা ছিলো না রাষ্ট্র এবং এর পরিচালকদের মানসে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পৈত্রিক সূত্রেই পাকিস্তানের ইসলামমনস্কতাকে ধারণ করেছে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ ছিলো এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানকে নৈতিক, সামরিক সহায়তা দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র ইউসিস এবং নিজস্ব কুটনৈতিকদের সহায়তায়, মূলত বাংলাদেশের সাংবাদিক এবং লেখকদের একাংশের বিবেক ও লেখনী কিনে রেখেছিলো স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে। এবং এইসব লেখকদের একাংশ সস্তা অনুবাদ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজতান্ত্র বিরোধী প্রচারণায় সহযোগী হিসেবে কাজ করতো।

এইসব অতীত ইতিহাস টেনে আনবার কোনো প্রয়োজন ছিলো না, তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র জন্মের পরে রাষ্ট্রীয় মদতে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার হয়েছে মূলত বামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। এবং জাসদের উত্থান ঠেকানোর জন্য জাতীয় রক্ষী বাহিনী গঠন করে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড চালিয়ে যাওয়া এবং কথিত ৩০ হাজার বামপন্থীকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হত্যা করবার ঘটনার কোনো তদন্ত হয় নি ৭৫ পূর্ববর্তী সময়ে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারা বিরোধী একটি রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছে এবং এর যাবতীয় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এটাকেই প্রমাণিত করে। নতুন রাজনৈতিক সরকার আসবার পরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যদিও অনেক অপরাধেই সরাসরী আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংশ্লিষ্ঠতা ছিলো না কিন্তু দেশের সামগ্রীক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, এবং পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেতরে স্থবিরতা এবং আলস্যও হয়তো দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারণ। গতকাল সকালে দুটো খবর পড়লাম পত্রিকায়, সাহারা খাতুনের বক্তব্য - দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে- এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার রক্ষার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করবে।

একই সাথে পত্রিকায় সংবাদ এসেছে চরমপন্থী[ পড়তে হবে মূলত বিচ্ছিন্ন উগ্র বামপন্থী] একজনকে প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে ক্রস ফায়ারে হত্যা করেছে র‌্যাব। এটা নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকার তথা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটা পরিস্কার অবস্থান দাবি করলেও আপাতত আমার আশংকা অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো একটা সর্বাত্মক সন্ত্রাসী বিরোধী অপারেশন এখন সময়ের ব্যাপার, যেকোনো দিন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় এবং মূলত এর শিকার রাজনৈতিক সরকারের সময়েও যেমন বিচ্ছিন্ন বামপন্থী দলের রাজনৈতিক কর্মী এবং সন্ত্রাসীরা হয়েছিলো, যেমনটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও উগ্রপন্থী হিসেবে বামপন্থী কিংবা বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কর্মীদের ধরে ধরে ক্রস ফায়ারে হত্যা করা হয়েছে, এই অপারেশনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। অবশ্যই প্রবাসী এবং ঘাপটি মেরে থাকা সন্ত্রাসীরা মাথা চাড়া দিয়েছে, চাঁদাবাজী শুরু হয়েছে, বিভিন্ন খোলসে চাঁদাবাজী চলছে, দখল নিয়ে অন্তর্দলীয় কোন্দল এবং সংঘাতও শুরু হয়েছে, দলের আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এখনও ধ্বসে না পড়লেও নেতৃত্বের লড়াই এবং অর্থের লড়াই গোপনে গোপনে চলমান। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো দিন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের নামে একটা সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশন শুরু হবে। যদিও মানবাধিকার রক্ষার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে সরকারের তবুও বিচার বহির্ভুত অনেকগুলো হত্যার ঘটনা ঘটবে এই অপারেশনে।

এবং এই হত্যাকান্ডগুলোর কোনো বিচার হবে না। এবং যদিও উগ্র ডান পন্থী রাজনৈতিক দল ও ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা গ্রেনেড, রাইফেল, বোমা তৈরীর সরঞ্জামসহ ধরা পড়বে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ক্রস ফায়ার কিংবা এমন বিচারবহির্ভুত হত্যা করে তাদের নিশ্চিহ্ন করবার কোনো ঘটনা ঘটবে না, কিন্তু একই সমতলে সন্ত্রাসী চিহ্নিত করে বামপন্থীদের হত্যা করবার ঘটনা ঘটতেই থাকবে। মুলত রাষ্ট্রীয় চরিত্র বিবেচনা করলে বাংলাদেশের মতো ইসলামমনস্ক একটি দেশে যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা চাইছে তার ক্ষেত্রে এই কট্টর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বিরোধী অবস্থান নেওয়াটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্র এবং এর পরিচালকেরা নিজের ক্ষমতার চর্চা অব্যহত ও নিরঙ্কুশ রাখবার জন্য তার নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারে যেকোনো সময়েই, তবে এই কট্টর অবস্থান নেওয়ার কারণে যদি সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয় কিংবা সাধারণ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়, বাংলাদেশ কি সেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার করতে পারবে কিংবা নিজের এই অমানবিক ক্ষমতার চর্চা বন্ধ রাখতে পারবে। যাই ঘটুক না কেনো, ভোটের অধিকার প্রয়োগের পর থেকেই মূলত উপেক্ষিত হতে থাকে জনগণ পরবর্তী ভোটের সময়ের আগ পর্যন্ত এই উপেক্ষা অব্যহত থাকে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।