মেঘবালক ক্লাস শেষের দিকে হটাত আমাদের ব্যাচের একটা মেয়ে এসে মিসকে ডেকে নিয়ে গেল,পরে মিস রুমে এসে বললেন তোমাদের ব্যাচের তমার আব্বু মারা গেছে। শুনে বেশ খারাপ লাগল । আমি আগেই থেকেই আঁচ করতে পারছিলাম যে উনি আর বাছবেন নাহ কারন উনার দুই টা কিডনি পুরাপুরি অকেজো হয়ে গেছে এবং লিভার টাও পুরোপুরি অকেজো। এই অবস্থায় মেডিকেল সায়েন্স অনুসারে অন্তত কাউকে জীবিত রাখা আসলেই কষ্টকর। তাই উনার মৃত্যু সংবাদ শুনার জন্য আমি এক প্রকার প্রস্তুতি নিয়েই রাখছিলাম।
পরে সভাই মিলে তমাকে ধরে সিএনজি তে করে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। সাথে দুইটা মেয়েও গেল। আমরা ছেলেরা সভাই মিলে প্লান করলাম যে তমার বাসায় গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে আসব। আমাদের দুইটা ক্লাস ছিল সেইটাও স্যার দের বলে বন্ধ করলাম। আমার বাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হওয়ায় ভাবলাম গিয়ে জামাকাপড় পালটিয়ে পাঞ্জাবি টা পরে আসি।
কিন্তু বাসায় এসে আমাদের ক্লাসের এক ছেলেকে কল দিয়ে জানতে পারি যে তারা তমার বাসায় পৌঁছে গেছে এটা শুনে মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেল। দুইটারে বারবার কইছি দোস্ত তোরা যাইলে অবশ্যই কল দিস কারন তখনো আমরা যাব কি যাবনা অনেকটা দ্বিধাতে ছিলাম যেহেতু তমা আমাদের না আসতে বলছিল। তারপরও মনরে কি আর বুজান যায়। ওই ছেলে দুইটাকে আমি বারবার কল দিচ্ছি যে তারা তমার বাসায় যাওয়ার বেপারে কি সিদ্ধান্ত নিলো কিন্তু তারা আমার কল ধরার সময় পায় নাই হয়ত। যাইহোক আমার আর পরে যাওয়া হল না।
তাই ভাবলাম রাতে যেহেতু ঘুমাই নাই তাই একটু ঘুমাই। তাহলে দিনটাও একটু তাড়াতাড়ি কেটে যাবে, ইফতার এর মুখ দেখতে পারব তাড়াতাড়ি। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার বন্ধু শরীফের কল। অবশ্য শরীফ কখনও আমাকে মিসকল ছাড়া কল দেয় নাই। ব্যাক করতেই বলল দোস্ত তুই কই,আমি বললাম আমি বাসায়।
উল্টা আমি ওরে জিগাইলাম তোরা কি এখনও তমার বাসায় বলল না আমরা ক্যাম্পাস এ ,তুই তাড়াতাড়ি ক্যাম্পাস এ আয়। চরম ঘটনা ঘটছে,জিগাইলাম কাহিনী কি?। ও বলল স্যার দের বাথরুমে আইন বিভাগের কাপল ধরা পড়ছে। রমজানের দিনে এটা শুইনা পুরা টাসকি খাইলাম। আমার খুব ভাল বন্ধু যাকে আমরা মজা করে “দেরি বুলবুল” নামে ডাকি কারন ও সবসময় ক্লাসে দেরি কইরা আহে।
তার হাতেই নাকি বেচারা রা ধরা পরছে। যাইহোক ঘটনাস্থল থেকে জন্ম নিরোধক সামগ্রী পাওয়া গেছে। ছেলের যে সত্যিকার অর্থেই পুরশত্ত আছে সেটার প্রমাণ হিসেবে কিছু তরল(semen) ও পাওয়া গেছে। আমাদের দেরি বুলবুল বুদ্ধি করে এক চিকনা পোলারে জানালার কার্নিশে উঠাইয়া দিয়া কয়েকটা ছবি তুইলা রাখল। ইফতার এর পর মেইল চেক করতেই দেখি.........., শেষ আপডেট হচ্ছে মেয়ের মা বাবাকে ডাকা হয়েছে ক্যাম্পাসে,ছেলের ও।
আমাদের স্যার রাই একটা সমাধানে বৈঠক করছে। ছেলে নাকি বিয়ে করতে রাজি না। কিন্তু আমরা কইছি বিয়ে করতেই হবে। ভাই আপনারাই কন আমাদের নৈতিকতা কত নীচে নামতে পারে? এক দিকে রমজানের মত একটা পবিত্র মাস, অন্য দিকে আমাদের এই এক সহপাঠীর বাবা মারা যাওয়াতে আমরা সত্যিকার অর্থেই খুব শোকার্ত। আর তারা এই সুযোগে এই কাজ টা করতে পারল?
লিখা টা ওইদিন লিখছিলাম যেদিন এটা আমাগো প্রিয় ক্যাম্পাসে ঘটল(২৫ শে জুলাই, ২০১২)।
কিন্তু তখন আমি সামুর জন্য বিপজনক ছিলাম তাই এটা ফ্রন্ট পেজ এ আসে নাইক্কা। নতুন ব্লগার, বাংলা লিখতে একটু ঝামেলা হচ্ছে তাই লিখা তে এক আদতু বানান ভুল থাকতে পারে। মাফ না করলেও গালি দিয়েন না। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।