আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কুরআনের একটি অসংগতি ও কিছু আলোচনা(ধার্মিকদের জন্য নয়)।

A "TRUTH" can walk naked but a "LIE" needs to be dressed . প্রথমেই বলে নেই, অতীব ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এই লেখা থেকে দূরে থাকার আহবান জানাচ্ছি। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদান করা আমার উদ্দেশ্য নয়। শুধু কিছু মুক্তচিন্তা ও আমার একান্ত নিজস্ব কিছু idea share করার জন্যই এই লেখা। কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে তার জন্য আমি দায়বদ্ধ নই। কারণ আমি আগেই সাবধান করে দিয়েছি যে লেখায় এমন কিছু রয়েছে যা আপনাদের খারাপ লাগতে পারে।

আসুন প্রথমে কুরআন শরীফের প্রথম সুরা, সুরা ফাতিহার অনুবাদ টি লক্ষ্য করি। বাংলা অনুবাদ: সুরা ফাতিহা শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। ১. যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। ২. যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। ৩. যিনি বিচার দিনের মালিক।

৪. আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। ৫. আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, ৬. সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। ৭. তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। আপনারা একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে, সুরা ফাতিহা 1st person (আমরা, আমাদেরকে) এ লেখা হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি পবিত্র কুরআন এর প্রতিটা কথা আল্লাহর বাণী।

আল্লাহ পবিত্র কুরানে আমাদের জন্য দিয়েছেন পুরনাঙ্গ জীবন বিধান ও নির্দেশমালা যেগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে বেহেশত হাসিল এর জন্য। তাহলে কেন কুরানের প্রথম সুরাই 1st person এ লেখা হল? কেও যখন আপনাকে কোন নির্দেশ দ্যায় তখন কি সে 1st person এ কথা বলে? অবশ্যই না। নির্দেশ সব সময় দেয়া হয় 2nd person এ। যেমনঃ (তুমি), এটা কর। (তুমি), ওটা করোনা।

আমি বেশ কিছু আলেম এর সাথে এটা নিয়ে আলচনা করেছি। তাদের একজন বলছিলেন, এই সুরার মাধ্যমে আল্লাহ দেখিয়ে দিয়েছেন আল্লাহর কাছে কিভাবে দোয়া করতে হয়। এটা দোয়া করার একটা নির্দেশনা। তাহলে এই কথার against এ আসুন সুরা আলাক এর কয়েকটি আয়াত দেখি। সুরা আলাক: ১. পড়ো, তোমার প্রতিপালকের নামে-- যিনি সৃষ্টি ক'রেছেন; ২. মানবজাতিকে-- সৃষ্টি ক'রেছেন জমাটবাঁধা রক্তবিন্দু থেকে।

৩. পড়ো, তোমার প্রতিপালক মহা-দয়াবান। ৪. যিনি (মানবজাতিকে) কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। ৫. মানবজাতিকে-- তার অজানা বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। -- ইত্যাদি। এখানেও কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

কিন্তু খেয়াল করে দেখুন এখানে কিন্তু ঠিক ই 2nd person ব্যাবহার করা হয়েছে। তাহলে এখানে কেন 1st person ব্যাবহার করা হল না? কেন এরকম লেখা হল না? ১. পড়ছি, আমার প্রতিপালকের নামে-- যিনি সৃষ্টি ক'রেছেন; ৩. পড়ছি, আমার প্রতিপালক মহা-দয়াবান। --ইত্যাদি। এইসব নিয়েই আলোচনা করার সময় আমার এক বন্ধু হয়ত কিছু না বুঝেই বলে ফেলেছিল, “আরে বেটা, তিলাওয়াত তো করবি তুই। তোকে তিলাওয়াত করার সময় নিশ্চয়ই 1st person এই তিলাওয়াত করতে হবে।

” কিন্তু তার এই কথায় আমি সেদিন চিন্তার নতুন খোরাক খুজে পাই। তাই তো? তিলাওয়াত তো করি আমরা। কিন্তু কুরান এর বেশির ভাগ সুরাই তো 2nd person না হয় 3rd person (তারা কি তবুও ইমান আনবে না? – 3rd person) এ লেখা। আর আমরা পড়ার সময় 2nd person অথবা 3rd person ই পড়ে যাচ্ছি। তাহলে আমরা কাকে নির্দেশ দিচ্ছি? পড়ার সময় তো আমাদের সব সুরা 1st person এই পড়া উচিত।

আমার মনে আছে স্কুল কলেজ এ থাকতে আমাদের practical class গুলোতে report লিখতে হত। বই এ practical করার নির্দেশনা 2nd person এ দেয়া থাকতো। যেমনঃ এর পর বিকারে ১০ মিলি পানি নাও। ইত্যাদি। কিন্তু স্যার রা সব সময় বলত report এ তোমরা যখন লিখবা তখন 1st person এ লিখবা।

ভুল করে যদি কখন 2nd person এ লিখে ফেলতাম তখন ব্যাপক ঝাড়তো। বলতঃ এর পর বিকারে ১০ মিলি পানি নাও। মানে কি? আমাকে পানি নিতে নির্দেশ দিচ্ছ? কাজ কি আমার করতে হবে নাকি তোমরা করেছো? ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন ও দেখি versity তে যখন কোন পেপার বা জারনাল publish করা হয় তখন বিভিন্ন seminar হলে ওই পেপার এর উপরে presentation দিতে হয়। তখনও যে পেপার present করে সে সব সময় 1st person এ present করে।

একই ভাবে, আল্লাহ হয়ত নির্দেশ দিয়েছেন 2nd person এ। কিন্তু আমাদেরও 2nd person এ তিলাওয়াত কতোটা যুক্তিযুক্ত? আরবিতে পরা হয় বলে হয়ত বোঝা যায় না। বাংলায় পড়লে কথাগুলো অনেক হাস্যকর শুনাতো। আমি সুর করে করে আরেকজন কে নির্দেশ দিচ্ছি বলে মনে হত। বা হয়ত হত না, কারণ দীর্ঘদিন যাবত একটা ভুল জিনিষ practice করতে থাকলে একসময় ওইটাকেই ঠিক মনে হয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে কুরআন শরীফের এক এক সুরাতে এক এক রকম person ব্যাবহার করা হয়েছে। কোথাও 1st, কোথাও 2nd, আবার কোথাও 3rd person। তাহলে আপনি যদি এই sense এ চিন্তা করেন যে, যেহেতু তিলাওয়াত আমরা করি তাই কুরআন 1st person এই ঠিক আছে। তাহলে সুরা ফাতিহায় 1st person ব্যাবহার যুক্তিযুক্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য যেসব জায়গায় নির্দেশ দিতে 2nd person ব্যাবহার করা হয়েছে সেইগুলো।

1st person হওয়া উচিৎ ছিল। কারন আমরা যখন আল্লাহ্‌র নির্দেশ গুলো তিলাওয়াত করি তখন আমরা নিজেরা ওইগুলো পালন করব বলে স্বীকারোক্তি দেই। অন্যদের পালন করার নির্দেশ দেই না। নিজের স্বীকারোক্তি কখন 2nd person এ দেয়া যায় না। 1st person এই দিতে হয়।

আবার যদি আপনি এই sense এ চিন্তা করেন যে, কুরআন আল্লাহ্‌র বাণী। এইটা 2nd person ই ঠিক আছে তাহলে সুরা ফাতিহা তে 1st person ব্যাবহার ভুল হয়েছে। এই লেখাটা পড়ে হয়ত অনেক ধর্মান্ধ জাকির নায়েক মার্কা মন্তব্য দিবেন, “আরে এইখানেই তো কুরআনের সৌন্দর্য। এক এক জায়গায় এক এক person। ” দয়া করে এই ধরনের বস্তাপচা cliché মন্তব্য করবেন না।

এক এক জায়গায় এক এক রকম করে কথা বললে সেটা কখনই সৌন্দর্য হতে পারে না। যদি এই লেখার বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করতেই হয় করুন। কিন্তু logic দিয়ে কথা বলুন। তাহলেই হয়তো আলোচনা তাৎপর্যপূর্ণ হবে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।