আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রিয় কবিতা - কাজী নজরুল ইসলাম সিরিজ -১

স্বপ্ন দেখে যাই... সাহেব ও মোসাহেব – কাজী নজরুল ইসলাম সাহেব কহেন, “চমৎকার ! সে চমৎকার !” মোসাহেব বলে, “চমৎকার সে হতেই হবে যে ! হুজুরের মতে অমত কার ?” সাহেব কহেন, “কী চমৎকার, বলতেই দাও, আহা হা। ” মোসাহেব বলে, “হুজুরের কথা শুনেই বুঝেছি, বাহাহা বাহাহা বাহাহা !” সাহেব কহেন, ”কথাটা কি জান ? সেদিন– ? মোসাহেব বলে, “জানি না আবার ? ঐ যে, কি বলে, যেদিন–” সাহেব কহেন, ”যেদিন বিকেলে বৃষ্টিটা ছিল স্বল্প। ” মোসাহেব বলে, “আহা হা, শুনেছ ? কিবা অপরূপ গল্প !” সাহেব কহেন ”আরে ম’লো ! আগে বলতেই দাও গোড়াটা ! মোসাহেব বলে, “আহা-হা গোড়াটা ! হুজুরের গোড়া ! এই, চুপ, চুপ ছোঁড়াটা !” সাহেব কহেন, ”কি বলছিলাম, গোলমালে গেল গুলায়ে !” মোসাহেব বলে, “হুজুরের মাথা ! গুলাতেই হবে ! দিব কি হস্ত বুলায়ে !” সাহেব কহেন, “শোনো না। সেদিন সূর্য উঠেছে সকালে !” মোসাহেব বলে, “সকালে সূর্য ? আমরা কিন্তু দেখি না কাঁদিলে কোঁকালে !” সাহেব কহেন, “ভাবিলাম, যাই, আসি খানিকটা বেড়ায়ে,” মোসাহেব বলে, “অমন সকাল ! যাবে কোথা বাবা, হুজুরের চোখ এড়ায়ে !” সাহেব কহেন, “হ’ল না বেড়ানো, ঘরেই রহিনু বসিয়া !” মোসাহেব বলে, “আগেই বলেছি ! হুজুর কি চাষা,’ বেড়াবেন হাল চষিয়া ?” সাহেব কহেন, “বসিয়া বসিয়া পড়েছি কখন ঝিমায়ে !” মোসাহেব বলে, “এই চুপ সব ! হুজুর ঝিমান ! পাখা কর্, ডাক্ নিমাইএ !” সাহেব কহেন, “ঝিমাইনি, কই এই ত জেগেই রয়েছি। ” মোসাহেব বলে, “হুজুর জেগেই রয়েছেন, তা আগেই সবারে কয়েছি !” সাহেব কহেন, “জাগিয়া দেখিনু, জুটিয়াছে যত হনুমান আর অপদেব !” “হুজুরের চোখ, যাবে কোথা বাবা ?” প্রণমিয়া কয় মোসাহেব।

। -------------------------------------------------------------------------- অবেলার ডাক – কাজী নজরুল ইসলাম অনেক ক’রে বাসতে ভালো পারিনি মা তখন যারে, আজ অবেলায় তারেই মনে পড়ছে কেন বারে বারে। । আজ মনে হয় রোজ রাতে সে ঘুম পাড়াত নয়ন চুমে, চুমুর পরে চুম দিয়ে ফের হান্‌তে আঘাত ভোরের ঘুমে। ভাব্‌তুম তখন এ কোন্‌ বালাই! কর্‌ত এ প্রাণ পালাই পালাই।

আজ সে কথা মনে হ’য়ে ভাসি অঝোর নয়ন-ঝরে। অভাগিনীর সে গরব আজ ধূলায় লুটায় ব্যথার ভারে। । তর”ণ তাহার ভরাট বুকের উপ্‌চে-পড়া আদর সোহাগ হেলায় দু’পায় দ’লেছি মা, আজ কেন হায় তার অনুরাগ? এই চরণ সে বক্ষে চেপে চুমেছে, আর দু’চোখ ছেপে জল ঝ’রেছে, তখনো মা কইনি কথা অহঙ্কারে, এম্‌নি দার”ণ হতাদরে ক’রেছি মা, বিদায় তারে। ।

দেখেওছিলাম বুক-ভরা তার অনাদরের আঘাত-কাঁটা, দ্বার হ’তে সে গেছে দ্বারে খেয়ে সবার লাথি-ঝাটা। ভেবেছিলাম আমার কাছে তার দরদের শানি- আছে, আমিও গো মা ফিরিয়ে দিলাম চিন্‌তে নেরে দেবতারে। ভিক্ষুবেশে এসেছিল রাজাধিরাজ দাসীর দ্বারে। । পথ ভুলে সে এসেছিল সে মোর সাধের রাজ-ভিখারী, মাগো আমি ভিখারিনী, আমি কি তাঁয় চিন্‌তে পারি? তাই মাগো তাঁর পূজার ডালা নিইনি, নিইনি মণির মালা, দেব্‌তা আমার নিজে আমায় পূজল ষোড়শ-উপচারে।

পূজারীকে চিন্‌লাম না মা পূজা-ধূমের অন্ধকারে। । আমায় চাওয়াই শেষ চাওয়া তার মাগো আমি তা কি জানি? ধরায় শুধু রইল ধরা রাজ-অতিথির বিদায়-বাণী। ওরে আমার ভালোবাসা! কোথায় বেঁধেছিলি বাসা যখন আমার রাজা এসে দাঁড়িয়েছিল এই দুয়ারে? নিঃশ্বসিয়া উঠছে ধরা, ‘নেই রে সে নেই, খুঁজিস কারে!’ সে যে পথের চির-পথিক, তার কি সহে ঘরের মায়া? দূর হ’তে মা দূরন-রে ডাকে তাকে পথের ছায়া। মাঠের পারে বনের মাঝে চপল তাহার নূপুর বাজে, ফুলের সাথে ফুটে বেড়ায়, মেঘের সাথে যায় পাহাড়ে, ধরা দিয়েও দেয় না ধরা জানি না সে চায় কাহারে? মাগো আমায় শক্তি কোথায় পথ-পাগলে ধ’রে রাখার? তার তরে নয় ভালোবাসা সন্ধ্যা-প্রদীপ ঘরে ডাকার।

তাই মা আমার বুকের কবাট খুলতে নারল তার করাঘাত, এ মন তখন কেমন যেন বাসত ভালো আর কাহারে, আমিই দূরে ঠেলে দিলাম অভিমানী ঘর-হারারে। । সোহাগে সে ধ’রতে যেত নিবিড় ক’রে বক্ষে চেপে, হতভাগী পারিয়ে যেতাম ভয়ে এ বুক উঠ্‌ত কেঁপে। রাজ ভিখারীর আঁখির কালো, দূরে থেকেই লাগ্‌ত ভালো, আসলে কাছে ক্ষুধিত তার দীঘল চাওয়া অশ্র”-ভারে। ব্যথায় কেমন মুষড়ে যেতাম, সুর হারাতাম মনে তরে।

। আজ কেন মা তারই মতন আমারো এই বুকের ক্ষুধা চায় শুধু সেই হেলায় হারা আদর-সোহাগ পরশ-সুধা, আজ মনে হয় তাঁর সে বুকে এ মুখ চেপে নিবিড় সুখে গভীর দুখের কাঁদন কেঁদে শেষ ক’রে দিই এ আমারে! যায় না কি মা আমার কাঁদন তাঁহার দেশের কানন-পারে? আজ বুঝেছি এ-জনমের আমার নিখিল শানি–আরাম চুরি ক’রে পালিয়ে গেছে চোরের রাজা সেই প্রাণারাম। হে বসনে-র রাজা আমার! নাও এসে মোর হার-মানা-হারা! আজ যে আমার বুক ফেটে যায় আর্তনাদের হাহাকারে, দেখে যাও আজ সেই পাষাণী কেমন ক’রে কাঁদতে পারে! তোমার কথাই সত্য হ’ল পাষাণ ফেটেও রক্ত বহে, দাবাললের দার”ণ দাহ তুষার-গিরি আজকে দহে। জাগল বুকে ভীষণ জোয়ার, ভাঙল আগল ভাঙল দুয়ার মূকের বুকে দেব্‌তা এলেন মুখর মুখে ভীম পাথারে। বুক ফেটেছে মুখ ফুটেছে-মাগো মানা ক’র্‌ছ কারে? স্বর্গ আমার গেছে পুড়ে তারই চ’লে যাওয়ার সাথে, এখন আমার একার বাসার দোসরহীন এই দুঃখ-রাতে।

ঘুম ভাঙাতে আস্‌বে না সে ভোর না হ’তেই শিয়র-পাশে, আস্‌বে না আর গভীর রাতে চুম-চুরির অভিসারে, কাঁদাবে ফিরে তাঁহার সাথী ঝড়ের রাতি বনের পারে। আজ পেলে তাঁয় হুম্‌ড়ি খেয়ে প’ড়তুম মাগো যুগল পদে, বুকে ধ’রে পদ-কোকনদ স্নান করাতাম আঁখির হ্রদে। ব’সতে দিতাম আধেক আঁচল, সজল চোখের চোখ-ভরা জল- ভেজা কাজল মুছতাম তার চোখে মুখে অধর-ধারে, আকুল কেশে পা মুছাতাম বেঁধে বাহুর কারাগারে। দেখ্‌তে মাগো তখন তোমার রাক্ষুসী এই সর্বনাশী, মুখ থুয়ে তাঁর উদার বুকে ব’লত,‘ আমি ভালোবাসি!’ ব’ল্‌তে গিয়ে সুখ-শরমে লাল হ’য়ে গাল উঠত ঘেমে, বুক হ’তে মুখ আস্‌ত নেমে লুটিয়ে যখন কোল-কিনারে, দেখ্‌তুম মাগো তখন কেমন মান ক’রে সে থাক্‌তে পারে! এম্‌নি এখন কতই আমা ভালোবাসার তৃষ্ণা জাগে তাঁর ওপর মা অভিমানে, ব্যাথায়, রাগে, অনুরাগে। চোখের জলের ঋণী ক’রে, সে গেছে কোন্‌ দ্বীপান-রে? সে বুঝি মা সাত সমুদ্দুর তের নদীর সুদূরপারে? ঝড়ের হাওয়া সেও বুঝি মা সে দূর-দেশে যেতে নারে? তারে আমি ভালোবাসি সে যদি তা পায় মা খবর, চৌচির হ’য়ে প’ড়বে ফেটে আনন্দে মা তাহার কবর।

চীৎকারে তার উঠবে কেঁপে ধরার সাগর অশ্র” ছেপে, উঠবে ক্ষেপে অগ্নি-গিরি সেই পাগলের হুহুঙ্কারে, ভূধর সাগর আকাশ বাতাস ঘুর্ণি নেচে ঘিরবে তারে। ছি, মা! তুমি ডুকরে কেন উঠছ কেঁদে অমন ক’রে? তার চেয়ে মা তারই কোনো শোনা-কথা শুনাও মোরে! শুনতে শুনতে তোমার কোলে ঘুমিয়ে পড়ি। – ও কে খোলে দুয়ার ওমা? ঝড় বুঝি মা তারই মতো ধাক্কা মারে? ঝোড়ো হওয়া! ঝোড়ো হাওয়া! বন্ধু তোমার সাগর পারে! সে কি হেথায় আসতে পারে আমি যেথায় আছি বেঁচে, যে দেশে নেই আমার ছায়া এবার সে সেই দেশে গেছে! তবু কেন থাকি’ থাকি’, ইচ্ছা করে তারেই ডাকি! যে কথা মোর রইল বাকী হায় যে কথা শুনাই কারে? মাগো আমার প্রাণের কাঁদন আছড়ে মরে বুকের দ্বারে! যাই তবে মা! দেকা হ’লে আমার কথা ব’লো তারে- রাজার পূজা-সে কি কভু ভিখারিনী ঠেলতে পারে? মাগো আমি জানি জানি, আসবে আবার অভিমানী খুঁজতে আমায় গভীর রাতে এই আমাদের কুটীর-দ্বারে, ব’লো তখন খুঁজতে তারেই হারিয়ে গেছি অন্ধকারে! ---------------------------------------------------------- অভিশাপ -কাজী নজরুল ইসলাম যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সদিন বুঝবে আস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। ছবি আমার বুকে বেধে পাগল হয়ে কেদে ফিরবে মরু কানন গিরি সাগর আকাশ বাতাশ চিরি সেদিন আমায় খুজবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। স্বপন ভেঙ্গে নিশুত রাতে, জাগবে হঠাৎ চমকে কাহার যেন চেনা ছোয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে- জাগবে হঠাৎ ছমকে, ভাববে বুঝি আমিই এসে বসনু বুকের কোলটি ঘেষে ধরতে গিয়ে দেখবে যখন শুন্য শয্যা মিথ্যা স্বপন বেদনাতে চোখ বুজবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে গাইতে গিয়ে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না বলবে সবাই- সেই যে পথিক তার শোনানো গান না?- আসবে ভেঙ্গে কান্না, পড়বে মন আমার সোহাগ কন্ঠে তোমার কাদবে বেহাগ পড়বে মনে আমার ফাকি অশ্রুহারা কঠিন আখি ঘন ঘন মুছবে, বুঝবে সেদিন বুঝবে।

আবার যেদিন শিউলী ফুলে ভরবে তোমার অঙ্গন তুলতে সে ফুল গাথতে মালা, কাপবে তোমার কঙ্কণ কাদবে কুটির অঙ্গন, শিউলী ঢাকা মোর সমাধি পড়বে মনে উঠবে কাদি বুকের জ্বালা করবে মালা চোখের জলে সেদিন বালা মুখের হাসি ঘুচবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। আসবে আবার আশিন হাওয়া, শিশির ছেচা রাত্রি থাকবে সবাই- থাকবে না এই মরন পথের যাত্রীই আসবে শিশির রাত্রি, থাকবে পাশে বন্ধু সুজন থাকবে রাত বাহুর বাধন বধুর বুকের পরশনে আমার পরশ আনবে মনে বিষিয়ে ও বুক উঠবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। আসবে তোমার শীতের রাতি, আসবে নাকো আর সে তোমার সুখে পড়তো বাধা থাকলে যে জন পার্শ্বে আসবে নাকো আর সে, পড়বে মন মোর বাহুতে মাথা থুয়ে যেদিন শুতে মুখ ফিরিয়ে থাকতে ঘৃণায় সেই স্মৃতি নিত বিছানায় কাটা হয়ে ফুটবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে। আবার গাঙ্গে আসবে জোয়ার, দুলবে তরী রঙ্গে সেই তরীতে হয়তো কেহ থাকবে তোমার সঙ্গে দুলবে তরী রঙ্গে, পড়বে মনে সে কোন রাতে এক তরীতে ছিলে সাথে এমনি গাঙে ছিল জোয়ার নদীর দুধার এমনি আধার তেমনি তরী ছুটবে- বুঝবে সেদিন বুঝবে। তোমার সখার আসবে যেদিন এমনি কারা বন্ধ আমার মত কেদে কেদে হয়তো হবে অন্ধ সখার কারা বন্ধ, বন্ধু তোমার হানবে হেলা ভাঙ্গবে তোমার সুখের খেলা দীর্ঘ লো কাটবে না আর বইতে প্রাণ শ্রান্ত এ ভার সরন মনে যুঝবে বুঝবে সেদিন বুঝবে।

ফুটবে আবার দোলন চাপা, চৈতি রাতের চাদনী আকাশ ছাওয়া তারায় তারায় বাজবে আমার কাদনি চৈতি রাতের চাদনী ঋতুর পরে ফিরবে ঋতু সেদিন হে-মোর সোহাগ ভীতু চাইবে কেদে নীল নভোগায় আমার মত চোখ ভরে চায় যে তারা, তায় খুজবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। আসবে ঝড়ি, নাচবে তুফান টুটবে সকল বন্ধন কাপবে কুটির সেদিন ত্রাসে, জাগবে বুকে ক্রন্দন টুটবে যবে বন্ধন, পড়বে মনে নেই সে সাথে বাধতে বুকে দুঃখ রাতে- আপনি গালে যাচবে চুমা চাইবে আদর মাগবে ছোওয়া আপনি যেচে চুমবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। আমার বুকের যে কাটা ঘা, তোমায় ব্যাথা হানত সেই আঘাতই যাচবে আবার হয়তো হয়ে শ্রান্ত আসব তখন পান্থ, হয়তো তখন আমার কোলে সোহাগ লোভে পড়বে ঢোলে আপনি সেদিন সেধে-কেদে চাপবে বুকে বাহুয় বেধে চরন চুমে পূজবে বুঝবে সেদিন বুঝবে। ------------------------------------------------------------------------------ বারাঙ্গনা – কাজী নজরুল ইসলাম কে তোমায় বলে বারাঙ্গনা মা, কে দেয় থুতু ও-গায়ে? হয়ত তোমায় স-ন্য দিয়াছে সীতা-সম সতী মায়ে। না-ই হ’লে সতী, তবু তো তোমরা মাতা-ভগিনীরই জাতি; তোমাদের ছেলে আমাদেরই মতো, তারা আমাদের জ্ঞাতি; আমাদেরই মতো খ্যাতি যশ মান তারাও লভিতে পারে, তাহাদের সাধনা হানা দিতে পারে সদর স্বর্গ-দ্বারে।

- স্বর্গবেশ্যা ঘৃতাচী-পুত্র হ’ল মহাবীর দ্রোণ, কুমারীর ছেলে বিশ্ব-পূজ্য কৃষ্ণ-দ্বৈপায়ন. কানীন-পুত্র কর্ণ হইল দান-বীর মহারথী স্বর্গ হইতে পতিতা গঙ্গা শিবেরে পেলেন পতি, শান-নু রাজা নিবেদিল প্রেম পুনঃ সেই গঙ্গায়- তাঁদেরি পুত্র অমর ভীষ্ম, কৃষ্ণ প্রণমে যায়! মুনি হ’ল শুনি সত্যকাম সে জারজ জবালা-শিশু, বিস্ময়কর জন্ম যাঁহার-মহাপ্রেমিক সে যিশু!- কেহ নহে হেথা পাপ-পঙ্কিল, কেহ সে ঘৃণ্য নহে, ফুটিছে অযুত বিমল কমল কামনা-কালীয়-দহে! শোনো মানুষের বাণী, জন্মের পর মানব জাতির থাকে না ক’ কোনো গ্লানি! পাপ করিয়াছি বলিয়া কি নাই পুণ্যেরও অধিকার? শত পাপ করি’ হয়নি ক্ষুন্ন দেবত্ব দেবতার। অহল্যা যদি মুক্তি লভে, মা, মেরী হ’তে পারে দেবী, তোমরাও কেন হবে না পূজ্যা বিমল সত্য সেবি’? তব সন্তানে জারজ বলিয়া কোন্‌ গোঁড়া পাড়ে গালি, তাহাদের আমি এই দু’টো কথা জিজ্ঞাসা করি খালি- দেবতা গো জিজ্ঞাসি- দেড় শত কোটি সন্তান এই বিশ্বের অধিবাসী- কয়জন পিতা-মাতা ইহাদের হ’য়ে নিষ্কাম ব্রতী পুত্রকন্যা কামনা করিল? কয়জন সৎ-সতী? ক’জন করিল তপস্যা ভাই সন্তান-লাভ তরে? কার পাপে কোটি দুধের বা”চা আঁতুড়ে জন্মে’ মরে? সেরেফ্‌ পশুর ক্ষুধা নিয়ে হেথা মিলে নরনারী যত, সেই কামানার সন্তান মোরা! তবুও গর্ব কত! শুন ধর্মের চাঁই- জারজ কামজ সন্তানে দেখি কোনো সে প্রভেদ নাই! অসতী মাতার পুত্র সে যদি জারজ-পুত্র হয়, অসৎ পিতার সন্তানও তবে জারজ সুনিশ্চয়! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.