আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মতবাদ ও পর্যালোচনা

ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক প্রতিটি মানুষই সভ্যতার অন্তর্ভূক্ত। আবার এই মানুষই জন্মদেয় সভ্যতার। তবে সব মানুষ নয়, কিছু কিছু। ব্যাপারটা এরকম, মানুষই সময়ের সন্তান, আবার সময়ের উজ্জ্বলতম ইতিহাসের জনকও মানুষ। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও ইসলামী সভ্যতার উপর আলোচনা করার পূর্বে সভ্যতার সংঙ্গা নিশ্চিত করা দরকার।

বহু বছর আগ থেকে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীর বিশ্বাস, আচার - আচরন, বিচার আচার, লেনদেন, ধ্যান ধারনা, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন প্রত্যেকটা বিষয়কে নিয়ে আমরা সভ্যতার সংঙ্গা রচনা করি। সময়ের পালাবর্তনে এ সভ্যতাও আবার পরিবর্তীত হয়ে নতুন রুপ ধারণ করে থাকে। যে কারণে আজকের এ সময়ে সভ্যতার সংঙ্গা একেক জনের কাছে একেক রকম মনে হবে। বর্তমানে এ পরিবর্তনশীল সভ্যতাকেই আমরা দুটি অংশে ভাগ করে বলছি পাশ্চাত্য সভ্যতা (ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশন) ও ইসলামী সভ্যতা। প্রাচ্য সভ্যতা বলতে আমরা বুঝি ইউরোপ, আমেরিকা সহ তাদের দাদাদের তৈরী করা সভ্যতা।

যে সভ্যতা তাদের সংস্কৃতি, বিচার ব্যবস্থা ও বিশ্বাস এর উপর প্রতিষ্ঠিত। এ সভ্যতা যে শুধুমাত্র ইউরোপ কিংবা আমেরিকাতে সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের দেশ বললে ভুল হবে, কোন্ পাড়া বা মহল্লা এ সভ্যতার নগ্ন প্রভাব থেকে মুক্ত তা খুুজে বের করা কঠিন হবে বলে আমার মনে হয়। অন্যদিকে ইসলামী সভ্যতা বলতে আমরা বুঝি, মুসলমানদের মৌলিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধ যার মূল উৎস হচ্ছে কোরআন ও সুন্নাহ। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও ইসলামী সভ্যতা একে অপরের সাথে দ্বন্ধ, সংঘাতে লিপ্ত। এ সংঘাত যে এখন শুরু হয়েছে তা নয়, বরং এ সংঘর্ষ বহু বছর আগে থেকে হয়ে আসছে এবং তা চলতে থাকবে।

পূর্বে আমরা হয়তোবা কেউ এ দ্বন্ধ বা সংঘাতের ব্যাপারে খুব বেশী অনুধাবন করিনি যে কারণে এ বিষয়টি নিয়ে স্কলাররাও চুপ চিলেন। আমরা এই দ্বন্ধের ধারনা লাভ করি হান্টিংটনের ‘ক্ল্যাশ ওব দ্যা সিভিলাইজেশান’ এ প্রবন্ধ থেকে। হয়তোবা এর আগেও অনেকে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করে থাকবেন। যাই হোক আমার আলোচনার বিষয় কিভাবে এ দ্বন্ধ প্রভাব বিস্তার করছে, কি তার আসল রুপ এবং আমাদের করনিয় কি? পাশ্চাত্য সভ্যতা তাদের বন্ধু হিসেবে যুগে যুগে অনেকগুলো মতাদর্শ গ্রহণ করেছে; উদাহরণ স্বরুপ আমরা চিহ্নিত করতে পারি বস্তুবাদী চিন্তা ধারা, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও অন্যান্য মতবাদ যার মধ্যে বর্তমান সময়ে পুজিবাদ ব্যবস্থা এর অত্যন্ত পছন্দের মিত্র। তাদের বিশ্বাস হচ্ছে, মানুষের সামাজিক জীবন সষ্টার হুকুম দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত নয়, রাজনীতি কিংবা অর্থনিতীতে ধর্মকে টেনে আনা ঠিক নয়।

যার বস্তুবাদী চিন্তা-চেতনার কারনে তাদের মূল কথা এটাই হয়ে দাড়িয়েচে যে, বেশী বেশী উপার্জন কর, বেশী ভোগ কর এবং বেশী আনন্দ কর। এটা ছাড়া মানুষের ঁেবচে থাকার আর কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। খাই, দাই, পূর্তী কর (eat, drinks & be marry) এটাই তাদের শ্লোগান। কবি ওমর খৈয়ামের ভাষায়: এই বেলা ভাই মদ পান করে নাও, কাল নিশিতের বরশা কই; চাঁদনী জাগিবে যুগ যুগ দরে, আমরাতো আর রবনা সই নগদ যা পাও হাত পেতে নাও বাকীর খাতা শূন্য থাক; কি লাভ শূনে দুরের বাধ্য মাঝখানে যে বেজায় ফাক। এ দুটি সভ্যতা যে আদর্শিক সংঘাতে জড়িত তার নির্দিষ্ট কোন সীমান্ত নেই।

পাশ্চাত্য সভ্যতা যদি তার অবস্থান থেকে সক্রিয় থাকে তাহলে ইসলামী সভ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্যদিকে, ইসলামী সভ্যতা সক্রিয় থাকলে প্রাশ্চ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এটাই শতাব্দীর ইতিহাস থেকে প্রমাণিত। তারা চাচ্ছে আমাদের বিনোদনকে তাদের মত করতে এবং আমাদের প্রচার মাধ্যম গুলোকে তাদের অনুসারী বানাতে। যাতে করে আমাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য তাদের মত যৌনতা নির্ভর হয়ে যায়। আর এ উদ্দেশ্যে তারা মিডিয়াকে একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং আমাদের ঘরে ঘরে তাদের মাধ্যম গুলো পৌছে দিচ্ছে যার কারণে আজকে আমাদের ঘরে ঘরে এ সংঘাত পৌছে গেছে।

এ পরস্পর বিরোধী সংঘাত চলছে মূলত শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে। তাদের সংস্কৃতির আগ্রাসনকে আমরা প্রতিরোধ করতে চাচ্ছি। আজকে যে আমরা শুধু এর প্রতিরোধ করটি তা নয়, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদেও সংস্কৃতিও তাদেও মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছি। আর এটা সম্ভব হচ্ছে নও মুসলিমদেও মাধ্যমে। তারা সমগ্র বিশ্বের মাঝে আদিপত্য কায়েম করলেও তাদের ঘরের অনেক সদস্য সত্য গ্রহণ করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে অংশ গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।

যার কারণে ইসলাম গ্রহণের পর পরই তারা আজ অনেকেই আর্থিকভাবে এবং মুসলিম সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে সমগ্র শক্তি প্রয়োগ করছে। এ সমস্ত নও মুসলিমরা প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিপরীতে ইসলামী সংস্কৃতি তাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। যা তাদের জন্য তাদের মাটিতে দারালো অস্ত্রের মত কাজ করছে। তাই আমরা বলতে পারি আজকে শুধু আমরা চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করছি না বরং তারাও চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করছে। চলেব...... ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।