সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল মনে হয় আমাকে দাওয়ার দেওয়ার ভয়ে আমার আগের পোস্টে নিয়মতি মন্তব্যকারিদের অনেকেই কোন মন্তব্যই করেননি। হায় ! খেতে পছন্দ করি বলি, এহেন আচরণ? তাদের খাওয়ায় যেন বিলাই মুখ দেয়।
আমার খাদক জীবন ১ (নাস্তা পর্ব)
খালি নাস্তায় কি আর দিন চলে? দুপুরের খাওয়া তো চাই? নাকি? তবে দুপুরর খাওয়ার আগে চটজলদি স্কুল কলেজের দিনগুলিতে ফিরে তাকানো যাক।
দুপুরের আগে প্রাক দুপুর পর্বে স্কুলে টিফিন পিরিয়ড ছিল। টিফিন বক্সে করে কোনদিন পাউরুটি মাখন ডিম, কোনদিন পরাটা অমলেট, কোনদিন হাল্কা কিছু।
কিন্তু ওইসব খাবার কয়েক ঘন্টা খেয়ে এসে আবার খাওয়া রুচি থাকে?
তাই চোখ পড়ে থাকতো স্কুলের বাইরের দোকান গুলিতে। চটপটি-ফুচকা, আইস্ক্রীম, ঝালমুড়ি, আচার, হজমি ইত্যাদি। তবে চটপটিটাই বেশি ভালো লাগতো। বেশ খাওয়া যেতো না। কারণ ঘরে ফিরে দুপুরে কম খেলে ধরা পড়তাম যে বাইরের খাওয়া খেয়েছি।
ফলাফল? মায়ের হাতে ঝাড়ি ও হাল্কা মারধোরের প্রবল সম্ভাবনা।
কলেজ উঠার পর নিজেকে আমি কি হনু মনে হতে করে স্কুলের টিফিন নেয়া বা স্কুলের বাইরের খাবারগুলিকে বাচ্চা পোলাপাইনের কাম/খাবার জ্ঞান হতো। তাই কলেজের বাইরের রেস্টুরেন্টে বন্ধুবান্ধব সহযোগে "অত্যাচার" চলতো। কাকলেট -পরাটা, আলুকিমা বার্গার, কলিজার সিংগারা-সমুচা ইত্যাদি চা সহযোগে বেশ জম্পেশ করেই চলতো। যে আইটেম ভালো লাগতো, সেটা ঘরের জন্যও নিয়ে যেতাম।
যেহেতু কলেজে উঠার পর হাতখরচের পরিমানটাও ততদিনে স্ফিত, তাই নিজে খেয়ে ঘরে নেবার মত পর্যাপ্ততা ছিল।
দুপুরের খাওয়া
সাধারণ দিন গুলিতে...
মনে করেন বর্ষার দিন। প্রচন্ড বৃস্টি, সাথে ঠান্ডা হাওয়া। এই সময়ের যার খিচুড়ি আর গরুর মাংসের ঝোল না খেতে ইচ্ছা করবে, সে কোন খাদকই না।
আমার মা যে ধরণের খিচুড়ি রান্না করেন, সেধরণের খিচুড়ি আমার পরিচিত কারো বাসায় রান্না হতে দেখিনি।
সবরকমের ডাল আর চাল, আদা কুচি আর তেজপাতা দিয়ে অন্তত ঘণ্টা দুই জাল দিয়ে একেবারে ঘন করে ফেলা হতো। এর পর উপর দিয়ে ঘি ঢেলে দেয়া হতো। গরুর মাংসের ঝোল রান্না হতো আলু দিয়ে।
প্লেটে সেই গরম গরম খিচুরি আর মাংস আলুর ঝোল দিয়ে পেটভর্তির পর, কার সাধ্য আছে দুচোখের পাতা খুলে রাখতে পারে? তবে এই জিনিস শুধু বর্ষার সময়। জ্বি, ঘোর বর্ষায় এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় খাবার।
যাকগে। বর্ষা আসতে ঢের বাকি। এখন অন্যান্য খাবারে চোখ বুলানো যাক।
দুপুরের খাবারে অবশ্যই ভাত। কোন ব্যাতিক্রম নেই (ছুটির দিন ছাড়া) সাথে একটা শাক-একটা সব্জি-একটা আমিষ-একটা ডাল থাকবেই।
মাঝে মাঝে শুটকি অবশ্যই।
শাক- পুই শাকের সাথে চিংড়ি কিংবা চ্যাপা শুটকি দিয়ে লাল শাক, রসুনের বাগাড় দেয়া লাউশাক (লাল মরিচ ভাজা সহযোগে), চিংড়ি দিয়ে মুলাশাক, আমার সবচেয়ে প্রিয়।
ভাজি- খুব পছন্দের না। তবে সীম আলু ধৈনাপাতা দিয়ে ভাজি হলে বেশ খাওয়া চলে।
শুটকি- অনেকে এই মহার্ঘ্য বস্তটির স্বাদ নেননি বা নিতে চান না।
সেটা গন্ধের কারণে। তবে গন্ধ সহ্য হয়ে গেলে এটাই মহা সুস্বাদু জ্ঞান হতে বাধ্য।
চ্যাপা শুটকির ভর্তা (রসুন পিয়াজ সরিসার তেল মিশ্রিত), বড় সামুদ্রিক মাছের শুটকির দোপিয়াজা (জিরার গুড়া দেয়া), কাইক্যা মাছ কিংবা কেচকি মাছের শুটকির (পুদিনা পাতা দিয়ে) চর্চরি, আমার সবচেয়ে প্রিয়।
আমিষ- আমাদের মত গরুখোর আর কোন জাতি আছে বলে জানি না। গরুর মাংসের মধ্যে ঝাল কসা, পুদিনাপাতা (জ্বি পুদিনা পাতা) দিয়ে হাল্কা ঝোল, আলুর ঝোল, শালগম/বাধা কপি/ফুলকপি/মুলা দিয়ে মাংস, সংক্ষেপে গরুর মাংসের এই রেসিপিই আমার পছন্দ।
মুরগির মাংস শুধু সব মসলা দিয়ে কসানো ছাড়া ভাল লাগে না। খাসিরর মাংস শুধু বিয়ের খাবারের রেজালা ছাড়া চলে না। তবে খাসির মাথা কিংবা কলিজা ভুনা বেশ চলতো।
মাছে ভাতে বাঙালি, তাই মাছের কথা তো আসবেই। তাছাড়া বাপের গুস্টি ভয়াবহ রকমের গরুর মাংসের ভক্ত বলে, মায়ের খেদ।
তারই প্রতিবাদে বেশি করে মাছ রান্না হতো।
ইলিশ মাছ ভাজা, তেজপাতা দিয়ে ইলিশের দোপিয়াজা, কৈ মাছ ফুলকপি, আলু মটরশুটি জিরার গুড়া দিয়ে শিং মাছের ঝোল, শিমের বিচি দিয়ে মাগুর মাছ, আলু বেগুন জিরার দিয়ে পাঙ্গাস মাছের ঝোল, চিংড়ির দোপিয়াজা, গলদা চিংড়ির মাথা ভাজা, বজুরি/টেংড়া মাছের ঝোল (রসুন ধনেপাতা দিয়ে) , চিতল মাছের পেটি ধইনাপাতা দিয়ে দোপিয়াজা, এবং কালিবাউস সিম দিয়ে।
আরেকটা মাছের নাম না বললেই না। সাপের মত দেখতে বলে অনেকেই ঘেন্না করেন। সেটাও আমার অনেক প্রিয় মাছের মধ্যে একটা।
কেউ কি নাম বলতে পারবেন? (না, এটা বাইন মাছ না। )
ওহ। মাছের ডিমও সাংঘাতিক প্রিয়। ইলিশের ডিমের দোপিয়াজা সবচেয়ে প্রিয়। তবে শিং মাছের ডিমের ভর্তা, অথবা ডিমভরা কৈ, পুটি, ইত্যাদি পেলে আর কি চাই?
ডাল- মুসুর ছাড়া অন্য কোন ডালই আমি পছন্দ করি না।
মুসুরের ডাল সে টমেটো দিয়েই হোক, কিংবা রসুনের বাগাড় সমান প্রিয়। তবে ডালে ধইনাপাতা দিলে সেই ডাল আমার মুখে উঠবে না।
এই মোটামুটি এই গরীবের দুপুরের পছন্দের খাবার।
আর আপনার পছন্দ? ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।