আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

টিপাইমুখ বাধ ও আমাদের করনীয়

খুব সাধারন একজন মানুষ। স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। সবসময় আশায় থাকি। আলোকিত সকালের প্রত্যাশায় চলি নিরবধি। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বিভিন্ন রকম আশঙ্কা।

এটি হবে আরেক ফারাক্কা বাধ বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়ার আশংকা : • গ্রীষ্মকালে ৯৪৬ বর্গ কি•মি• এলাকা মরুভূমির ন্যায় শুকনো থাকবে • বাংলাদেশ পানি সমস্যায় ভুগবে, স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও নারায়নগঞ্জ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হব.বাংলাদেশের কিছু এলাকা মরুভূমি হয়ে যাবে,বর্ষাকালে হঠাৎ পানি ছাড়লে ব্যাপক বন্যা হবে,প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রভাবিত হবে,ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়বে,খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে,শতাধিক নদী মরে যাবে। এই আশঙ্কা যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হবে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেবে না। গঙ্গাসহ অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভারত সেগুলো রক্ষা করেনি।

তাদের মৌখিক আশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে লিখিত চুক্তি হতে হবে। দৈনিক প্রথম আলোর গোলটেবিল আলোচোনায় ড.আকবর আলি খান বলেছেন: 'টিপাইমুখ নিয়ে বাংলাদেশে কথা বলার অনেকে আছেন, কিন্তু গবেষণা করে লেখালেখি খুব কম। এ বিষয়ে জানতে বাধ্য হয়ে ভারতীয় কাগজপত্র পড়তে হয়। আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমাদের দেশে যথেষ্ট গবেষণামূলক কাগজপত্র নেই।

' বাংলাদেশ ভারতের কাছে সেই ব্যবহার পায়, ভারত চীনের কাছে যে ব্যবহার পায়। চীন ব্রহ্মপুত্রের ওপর জলবিদ্যুৎকেন্দ্র করছে, যা নিয়ে ভারতীয় সংসদে অনেক হইচই হয়েছে। কিন্তু আফসোস, আমাদের জাতীয় সংসদে এই ব্যাপারে কোনো উন্মুক্ত আলোচোনাও হয়না। সরকারের কেউ এই টিপাইমুখ বাধের বিরোধীতাও করেনা। প্রতি তিন বছর পরপর বিশ্ব পানি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মন্ত্রী যান। পরবর্তী সম্মেলন হবে ফ্রান্সে। এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পানি নিয়ে যারা সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের একত্র করা। সরকারের উচিত পরবর্তী সম্মেলনে টিপাইমুখ বাধের বিরোধ্যে সোচ্চার হওয়া। টিপাইমুখ প্রশ্নে সব থেকে বড় উদাহরণ ফারাক্ষা বাধ।

তারা কি চুক্তিমত কাজ করছে?আরেক উদাহরন গোমতীতে বাঁধ। ভারত সরকারের যে বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের বুঝতে হবে। তারা তেহেরি বাঁধের ব্যাপারে কারও কথা শোনেনি, সুবানসিড়ির ওপরে শোনেনি। সেখানে তারা জোরজবরদস্তি করছে। আমাদের এই আপত্তি শুনবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তার পরও আমাদের এই আপত্তি করতে হবে। আমাদের সমস্যা সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিজেদেরও সমাধান করার কথা চিন্তা করতে হবে। সুতরাং ভাবতে হবে, হিমালয় পর্বতমালা-যা এই অণ্চলের নদী নালার একমাত্র উৎস স্থল, তাকে লুঠ করার সমস্ত ব্যাবস্থা তৈরী। অজুহাত আরো বিদ্যুত চাই। কত চাই? ভারতের প্ল্যান আরো ৫০,০০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুত।

বিদ্যুত অবশ্যই চাই। ভারত এখন শিল্পোন্নত দেশ-সেখানে ঘন্টায় ৪-১০ ঘন্টা গড়ে লোডশেডিং নিশ্চয় কাম্য না। কিন্ত সেটা হিমালয়ের জল সম্পদকে লুন্ঠন করে কোটি কোটি মানুষের জীবিকাকে ধ্বংশ করে কেও নিশ্চয় চাইবে না । কে থামাবে টিপাইমুখ বাঁধ? মনিপুরের এই বাঁধটির ১০০ কি•মি• দূরেই বাংলাদেশ। • সিলেটের জকিগঞ্জ হতে ১০০ কি•মি• উজানে ভারতের মনিপুর রাজ্যে • সুরমা-কুশিয়ারা ও মেঘনা নদীর পানি আসে এই পথে • ৯৩০ মি• দীর্ঘ ও ৯৬৯ মি• উচু একটি বাঁধ • ২০০৬ সালে নির্মাণ কাজ় শুরু হয় ও তা ২০১২ সালে শেষ হবে মণিপুরের আদিবাসিরা তো বটেই-সাথে সাথে বাংলাদেশের সিলেট সহ আরো চার পাঁচটি জেলা পরিবেশ বিপর্যয়ের সামনে পড়বে।

টিপাইমুখ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হিমালয়ের বুকে এই রকম আরো ১০০ টী জলবিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার পরিকল্পনা করেছে ভারত। বিদ্যুতের প্রয়োজন অস্বীকার করি না। দরকার, সব থেকে বেশী দরকার এই শতাব্দিতে। আমেরিকা বিদ্যুত ঘাটতি ঢাকতে একাধারে যেমন ৩০টি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট বসাচ্ছে (২০২০ সালের মধ্যে)-ঠিক তেমনই বিদ্যুতের চাহিদা কমাতে প্রতিটি বাড়িতেই সোলার প্ল্যান্ট বসানো বাধ্যতা মূলক করছে।

আর ভারত কি করছে? এখন থেকে পরমানু বিদ্যুত প্রকল্পগুলিতে হাত না দিলে উপায় নেই। ফ্রান্স বহুদিন আগে থেকে তাই করেছে। জাপান, আমেরিকা পরিবেশের অজুহাতে পরমানু প্রকল্প বন্ধ রেখে ছিল আগের দুই দশক। এখন আবার দ্রুত গতিতে পরমানু বিদ্যুতের দিকেই এগিয়ে চলেছে। কারন বর্তমান ফিফথ জেনারেশনের প্ল্যান্ট গুলোতে বিপর্যয় ঘটার সুযোগ প্রায় নেই-যা দ্বিতীয় প্রজন্মের পরমানুবিদ্যুত কেন্দ্রগুলিতে ছিল।

পারলে উন্নত দেশগুলোর মত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বাধ সংশ্লিষ্ট এলাকা সহ ভাটির দেশ বাংলাদেশের ক্ষতি এড়িয়ে টিপাইমুখ বাধ নির্মাণ করুক ভারত। আমাদের আপত্তি থাকবেনা। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষি ভারত ফারাক্ষা দিয়ে আমাদের ক্ষতি করেছে। সুতরাং আমরা ধরে নিতে পারি টিপাইমুখ বাধ হলে নিম্নোক্ত ক্ষতিগুলো হওয়ার সম্ভাবনা : বাংলাদেশ পানি সমস্যায় ভুগবে। স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্থ হবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও নারায়নগঞ্জ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ ,বাংলাদেশের কিছু এলাকা মরুভূমি হয়ে যেতে পারে,বর্ষাকালে হঠাৎ পানি ছাড়লে ব্যাপক বন্যা হবে,প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রভাবিত হবে,ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়বে,খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে,শতাধিক নদী মরে যাবে।

ভারত বা বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রকৃতি যা ধারণ করতে পারে তার থেকে অনেকগুন বেশী। সুতরাং এই অবস্থায় জলবিদ্যুত কেন্দ্র করে, আরো বেশী সমস্যা সৃষ্টি না করাই শ্রেয়। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.