হিংস্র কিছু শকুন আজ খামছে ধরেছে মানবতার পতাকা...জেগে উঠার এইতো সময়... প্রথম বারের মতো অফিসে লেটে আসলাম। কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে বুকটা। আমি আঁতেল টাইপের কর্পোরেট না। কিন্তু কেন যেন একমি'তে জয়েন করার পর থেকে একটা চ্যালেঞ্জের মতো নিয়ে ফেলেছিলাম চেষ্টা করবো লেট না করতে। অন্তত প্রবেশান পিরিয়ডে তো না ই।
৪ মাস পরে হুট করে দেখি রেকর্ডের মতো হয়ে যাচ্ছে। আমি একদিনও লেট না। হঠাত একদিন লিফটের গোড়ায় দাঁড়িয়ে দেখি আর ৩ মিনিট আছে। আমি লিফটের জন্য অপেক্ষা না করে সিড়ি দিয়ে দৌড় লাগালাম। ৯ তলায় উঠে এলাম আড়াই মিনিটে।
কার্ড পাঞ্চ করার সময় দেখি ৩০ সেকেন্ড বাকি। হঠাত টের পেলাম বুক ধরফর করছে। ইন্সট্যান্ট পালস রেট মেপে দেখি ১২০ এর উপরে। টের পেলাম কি ভুল করতে যাচ্ছিলাম আরেকটু হলেই। মারাও যেতে পারতাম এভাবে।
প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগছে আমার স্বাভাবিক হতে। তাও লেট করিনি।
শ্যামলীতে প্রায় প্রায়ই জ্যাম থাকে। এমনও হয়েছে, নেমে হাঁটা ধরেছি। দেখি কুলাচ্ছেনা, জগিং এর স্টাইলে দৌড়।
ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে, চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হবার বিরাট ঝুঁকি নিয়েও যখন দেখতাম ঠিক সময় মতো পৌছে গেছি, মনটা কেমন যেন শান্তি লাগতো। মনে হতো কিছু একটা অর্জন করেছি। ছোটবেলায় দেখা "বন জোভি'র" "ইটস মাই লাইফ" গানটার চিত্রায়নের মতো। আমি দৌড়াতাম অফিস আসার জন্য, ক্লান্তিহীন।
বস একদিন বলেছিলো, আপনি কি সুপারম্যান নাকি? ক্যামনে পারেন?
একজন মহান যোগালী কিংবা চাষাভূষার (ষাটোর্ধ, ভিক্ষা করেনা, কোদাল কাস্তে নিয়ে রোজ সকালে কাজে যায়, একদিন উনাকে টেম্পুর পাদানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সিট ছেড়ে নেমে গিয়েছিলাম) জন্য সিট ছেড়ে দিয়ে অনেকটা পথ হেঁটেও লেট হয়নি কখনো আমার।
এক বড় আপুকে পেয়েছিলাম টেম্পুতে। আমার সাথেই জব করেন। উনি হন্টন প্রেমী। বিকালে দেড় ঘন্টা হেঁটে বাসায় যান। উনার সাথে অর্ধেকের বেশী রাস্তা হেঁটে এসেও লেট হয়নি আমার।
ঠিক সময় মতো পৌঁছে গেছি।
আর পারলাম না আজ। ৭.৪৫ এ ঘুম ভাঙ্গলো। প্রকৃতির ডাক এরকমই হয়। শত এলার্মেও কারো হাত থাকেনা কোন।
যা হবার তাই হলো। বের হয়ে গাড়ি পেলাম না। রিকশা নিলাম একটা তাও ভাঙ্গাচোরা। অকেশনাল রিকশাওয়ালা। তেল-গ্রীজ শেষ কবে দিয়েছিলো কে জানে।
শেষে শ্যামলীর জ্যাম। যখন অফিসের সামনে পৌছালাম দেখি ৮.৪০ বাজে। । টাইম শেষ। ভগ্ন মনোরথে বসকে একটা এসএমএস দিলাম।
বস, অনেক ট্রাই করেও পারলাম না আজ। প্রথম বারের মতো আমি লেট। নাস্তাটা তবে করেই আসছি।
কেমন যেন বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগলো। এখনো লাগছে।
মনে হচ্ছে লেট না করাটা আমার সন্তানের মত। হারিয়েছি আমি আজ। অদ্ভুত না? কর্পোরেট লাইফের সবচেয়ে জঘন্য জিনিসটার প্রতিও মায়া।
মায়া খুব অদ্ভুত জিনিস। খুব অদ্ভুত !!! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।