মেহেদী হাসান খান দুঃখ, কস্ট, সুখ,আনন্দ কিছুই আজকাল আমাকে সেই ভাবে স্পর্শ করতে পারছে না। লক্ষন ভালো না। মহাপুরুষ হয়ে যাচ্ছি কিনা কে জানে! , হুমায়ন স্যারের বই পরে যেটুকু বুঝেছি প্রত্যেক মহাপুরুষদের হন্টন বিদ্যায় বিশেষ পারদর্শী হতে হয়, এই যেমন আমাদের হিমু খালি পায়ে মাইলের পর মাইল হাটে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি প্রচণ্ড অলস, একটু হাঁটলেই ক্লান্ত হয়ে যাই, বাসা থেকে দুই হাত দূরে কাঁচা বাজারে যেতে হলেও আমার রিকশা লাগে। হিমুর মতো মাইলের পর মাইল হাটা আমার কাছে মিশন ইম্পসিবল-০৫, আর আমিও টম ক্রুজ না ।
তারচেয়ে বরং নিরিবিলি একটা বট তলা খুঁজে তার নিচে বসে পরবো, অনেক টা চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত টাইপ। একবার বসলে আর উঠা উঠি নাই। নিরিবিলি টাইপ একটা বট তলা, কোন হইহুল্লা নেই। ইই আবার বেশি নিরিবিলি কিন্তু না, অন্তত কাছাকাছি একটা লাইট পোস্ট যেন থাকে, মুখে যতই বলি ভুতে বিশ্বাস করি না, কিন্তু আমার মধ্যেও কিঞ্চিৎ ভূতের ভয় বিদ্যমান । আমার ভূতের সিনেমা না দেখার পিছনে এটাও একটা উল্লেখযোগ্য কারন, তাই বট তলার আসে পাশে অন্তত একটা লাইট পোস্ট অবশ্যই থাকা লাগবে।
আর ধরেন কাছাকাছি যদি একটা চায়ের দোকান থাকে। মহাপুরুষ হওয়া এত সোজা ব্যাপার না, বট তলায় বসে আমাকে বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের কত কিছু নিয়ে আমাকে চিন্তা ভাবনা করা লাগবে কে জানে , মাঝে মধ্যে দু এক কাপ চা হলে মন্দ হয় না , তবে দুইটা বিষয় লক্ষ্য রাখা লাগবে, এক-চায়ে যেন প্রচুর পরিমানে চিনি দেয়া থাকে, আমি একটু চিনি বেশি খাই কিনা , তাছাড়া শুনেছি চিন্তা ভাবনা করলেও নাকি শরীরের অনেক ক্যালরি ক্ষয় হয়, তাই বেশি বেশি চিনি খেয়ে সেটি পুষিয়ে নিতে হবে। দুই- আমার কাছ থেকে কোন প্রকার বিল নেয়া তো দূরে থাক চাওয়াও যাবে না
মহাপুরুষ হয়ে আমি চায়ের বিল দিব এইটা কেমন কথা!
মহাপুরুষদের জাগতিক সব হিসাব নিকাশের উদ্ধে থাকতে হয়।
এছাড়া ধরেন, আশে পাশে যদি কোন বিল্ডিং থাকে আর সেই বিল্ডিং এর কোন বাসিন্দার বাংলা বিলাই কিংবা কুইবির wifi যদি আমার বট তলা কে কাভার করে, তাহলে মাঝে মধ্যে লেপিটেপি টা নিয়েও একটু বসা যেত, ইয়ে মানে বুঝেন ই তো মহাপুরুষদের ও তো রিলাস্ক হওয়া লাগে, মহাপুরুষ সাধনার ফাকে ফাকে রিলাস্ক হবার জন্য একটু না হয় ব্লগ কিংবা ফেসবুকে ঘুরতাম , এবং সেই সাথে আপনাদের ও আমার মহাপুরুষ সাধনার আপডেট জানাতে পারতাম।
আর ধরেন সেই বিল্ডিঙের কোন ফ্লাটের বারান্দা যদি আমার বট তলার দিকে মুখ করা থাকে, যেখানে একটি সুন্দরী মেয়ে প্রতিদিন কাপড় নাড়তে এসে আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসতো , প্রত্যুত্তরে আমিও না হয় সেই মহাপুরুসীয় ভুবন ভুলানো হাসি টি দিতাম যার অনেকগুলো অর্থ হয় ।
আজিব আপনারা হাসেন কেন? হতে পারে না?
মহাপুরুষদের আসেপাশে সব সময় সৌন্দর্যের টান থাকা লাগে, সেইটা উপেক্ষা করেই না মহাপুরুষ হতে হয়
থাক আর লিখব না, আপাতত এই গুলা হলেই চলবে, কারো সন্ধানে এরকম একটা বটতলা থাকলে একটু আওয়াজ দিয়েন।
মনে রাখবেন মহাপুরুষদের উপকার করে আজ পর্যন্ত কারো লাভ বিনে ক্ষতি হইনি, আপনারও হবে, কিভাবে হবে আপনি জানবেন না কিন্তু হবে।
শেষ করছি শেক্স পিয়রের সেই বিখ্যাত লাইনটি দিয়েঃ “'There are many things in heaven and earth”
কেউ আবার জিজ্ঞেস করে বসবেন না, এই লেখার সাথে এই লাইনটার কি সম্পর্ক । মহাপুরুষেরা এত চিন্তা ভাবনা করে কিছু লিখে না, মনে যা আসে তাই লিখে ফেলে, আমার ও মনে আসছে তাই লিখে ফেলছি। কুনু সমস্যা আছে? থাকলেও কোন সমস্যা নাই, জাগতিক সমস্যায় বিচলিত হওয়া মহাপুরুষের কাজ নয় ।
খুদা হাফেয
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।