আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আকাশের সাথে কথা বলা শেষ পর্ব

আমি অনেক সহজ সরল বোকা একজন মানুষ। দুনিয়ার সাথে তাল মিলায়ে চলতে একটু কষ্ট হয় বৈকি। আকাশের সাথে কথা বলাপর্ব-১ আকাশের সাথে কথা বলাপর্ব-২ ১/১০/০৯,১৫/১০/০৯,৫/১১/০৯,১৬/১১/০৯ ইং তারিখে আকাশ চট্টগ্রাম যায় একটুক্ষন কথা বলে আবার ঢাকা ফিরে আসে। ২০১০ সালের ১৯ শে জানুয়ারি আকাশ তার কলেজ থেকে সেন্টমার্টিন ট্যুরে যায় । অপরদিকে সুকন্ঠী পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কথা আগের থেকে কম হয়।

অনেক রোমাঞ্চের মাঝে আকাশ এর ট্যুর শেষ হয় ২২ তারিখ । প্ল্যান ছিল আকাশ তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু কে নিয়ে কলেজ এর বাস থেকে নেমে আবার চট্টগ্রাম এর বাস এ উঠবে। আকশের এই বন্ধুটি কলেজ জীবনের। সময় অনেক অল্প হলেও কেন জানি আকাশের মনে হয় তাদের দুইজনের পছন্দের কোন পার্থক্য নাই। আর সব ব্যপারে তাদের মতামত মিলে যায়।

অনেক ভালো বন্ধু বলেই আকাশ তার সব কিছু এই বন্ধুটির সাথে শেয়ার করেছে। এছাড়াও সে এমন কয়েকজ়ন মানুষ তার জীবনে পেয়েছে অই সময়টায় যারা তাকে আজীবন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত থাকবে। এত্ত সব প্ল্যানের বারোটা বাজল যখন কলেজ বাস রাত ১২ টায় ক্যাম্পাস এ পৌছাল । তখন ওরা দুইজন বাস না পেয়ে অগত্যা বাসায় চলে গেল। আকাশের মনে শুদু ছিল যে কালকে কখন সে চট্টগ্রাম যাবে।

পরদিন বাসায় কাউকে কিছু না বলেই বের হয়ে গেল। অপরদিকে তার বন্ধুটি আটকা পড়ে গেল বোনের বাসায়। আকাশ যখন চট্টগ্রাম এ পৌছে তখন দুপুর। দুজন দেখা করল। ।

আকাশের মন খুশি থাকলেও সুকন্ঠী গম্ভীর। নিশ্চুপ। অনেকক্ষন পর সে বলল যে সে আকাশের সাথে এক জায়গায় বসে কিছু কথা বলবে। আকাশ ও বলল -চলো কোথাও বসি ,অনেক ক্লান্ত আমি। দুজনে ফয়েজ লেক এর বেঞ্চিতে বসল।

আকাশ পকেটে হাত দিয়ে দেখল -এক প্যাকেট সিগারেট তার পকেট এ রয়ে গেছে। সে হঠাৎ তার পাশে তাকায়। তাকিয়ে দেখে সুকন্ঠীর চোখে পানি। ঘটনার প্রবাহ না বুঝতে দিয়েই সুকন্ঠী আকাশ কে বলল-তুমি আমাকে খারাপ ভেব না। আমার আম্মা বলেছে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখতে না।

আকাশ নির্বিকার ভাবে বলল-কেনো? সুকন্ঠীঃআম্মু বলেছে যে তুমি ঢাকার ছেলে,তোমার সাথে সম্পর্ক রাখাটা উচিত না। এটা আমার পড়ার সময় । তোমার কারণে আমার পড়ায় ব্যঘাত ঘটতে পারে। এটা সম্পর্ক স্থাপনের বয়স না। আকাশ চুপ করে কথাগুলো শুনল,কিছু বলল না।

তখন মনে হচ্ছিল তার চোখ অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে বলতে চাচ্ছিল--তুমি যখন আমাকে ভালোবাসার কথা বলেছিলে তখন কোথায় ছিলাম আমি?রাতের পর রাত যখন কথা বলেছিলে তখন কোথায় ছিল তোমার পড়া?আমি আমার নিজের জীবনের সব ফেলে রাখি যে একবার তোমাকে দেখার আশায় এখানে ছুটে আসি ,এইটা তোমার কাছে কোন বিষয় ই না?কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারল না। কি বলবে ? মনকে সান্তনা দিচ্ছিল এই বলে যে- ওর সুকন্ঠী ওকে অনেক ভালোবাসে। সে ওর সাথে এরকম করতে পারে না। আর যে যেতে চায় তাকে যেতে দিতে হয় ,যখন সে ফিরে আসবে তখন শুধু আমার হয়েই ফিরে আসবে। হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শুনে আকাশ আবার বাস্তবতায় ফিরে এল।

সুকন্ঠী বলছে-আকাশ,তুমি ভাল করে পড়ালেখা কর। ভালো জায়গায় নিজেকে দাঁড় করাও ,যেন তোমাকে আমার বাসা থেকে ফিরিয়ে দিতে না পারে। আকাশ এবারো কিছু বলল না। পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে সিগারেটে আগুন ধরাতে গেলে না করল সুকন্ঠী,সাথে সাথে তীব্র রাগে পুরো প্যাকেট পানিতে ছুড়ে মারে। সময় শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

সুকন্ঠী আকাশের হাত ধরেই বসে ছিল। আকাশ কে দেখে তখন মনে হচ্ছিল মাথার উপরের আকাশও আজ এতো কান্না করতে পারবে না যতটা সে করেছে। তার মনের উপর কেউ মনে হয় একটা ভারী পাথর চাপিয়ে দিয়েছে। সুকন্ঠীকে বাড়ী পৌছে দিল আকাশ। তার গন্তব্য ঢাকা।

বাস এক ঘন্টা পর। সে আরেক প্যাকেট সিগারেট কিনল, ঘন্টার মধ্যে পুরো প্যাকেট শেষ করে সে বাস এ উঠতে যাবে তখন মনে পড়ল-সুকন্ঠীর জন্যে কক্সবাজার থেকে কিনা অলঙ্কার তাকে দেয়া হয়নি। তখন চট্টগ্রাম এর এক বন্ধুর কাছে ওগুলো রেখে আসে। বাস মিস করে। রাতে বাস।

বাসা থেকে ফোনের পর ফোন । কিন্তু আজ যেন কিছুতেই তার কিছু যায় আসে না। । ফোন বন্ধ করে বাসে উঠল আকাশ। ছেড়ে আসল চট্টগ্রাম ২৩ শে জানুয়ারি ২০১০ ইং।

। এরপর আর কখনো মেয়েটিকে দেখেনি আকাশ। । মাঝে মাঝে মুঠোফোনে কথা হত। কিতু তাতেই বা কি?এখন আকাশের কাছে আছে তার ই কিছু স্মৃতি।

যেমন?যেমন--সেই টিস্যুর প্যাকেট ,আসা যাওয়ার টিকিট,এবং একটি সুন্দর কন্ঠ -যা তাকে বলেছিল--আমি তোমাকে ভালোবাসি। চোখ বন্ধ করলেও এই ভালোবাসার আওয়াজ আকাশ এখনো পায়। । দেখতে পায় হাস্যেজ্জল চেহারা। ।

এতো কিছু হওয়ার পরও সামান্যতম ক্ষোভ দেখা যায়নি তার আচরণে। সম্পর্ক ভাঙ্গার দুমাসের মধ্যেই আকাশ জানতে পারে তার সুকন্ঠী অন্য এক ছেলের সাথে কথা বলে,ভালোই চলছে দিনকাল। ছেলে ওর সাথেই ওর কলেজে পড়ে । এইসব কথা চিন্তা করতে করতে আকাশ হাত ধরে সিগারেটের। পান করে ধুয়া।

কিছুদিন পর অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেডিকেল টেস্টে ধরা পড়ে অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে তার লিভার সিরোসিস হয়েছে। । যার থেকে পিঠেও ব্যাথা হয়। ডাক্তার বলেছিলেন-ওর মাথা থেকে সব টেনশন দূর করতে না পারলে ,ওর ধূমপানের অভ্যাস পরিবর্তন না করলে বাঁচানো সম্ভভপর হবে না।

। আল্লাহ র অশেষ মেহেরবাণিতে আকাশ এখন সুস্থ। আকাশ ছোট মানুষ। ভুল করে ফেলেছিল। কখনো ভাবতেই পারেনি যে কেউ খাবার দিলে খাবার টআ বিষাক্ত ও হতে পারে।

সদ্য এইচ এস সি পাশ করেছে । ২০ বছরের টগবগে যুবক। সামনে পড়ে রয়েছে তার সারাটি জীবন। তার প্রতি দোয়া রইল যেন জীবন টাকে ধ্বংস না করে সৌন্দর্যের সাগর বানায়। ।

। পরিসমাপ্তিতে বলব,আকাশ যদি আজ বেচে থাকে তাহলে আছে শুধুমাত্র তার পরিবার ও বন্ধুদের জন্য। পরামর্শঃধূমপান করে জীবনটাকে নষ্ট করবেন না। মেয়েদের প্রতি আকুল আবেদনঃ আপনার একটি মাত্র সিদ্ধান্ত একটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।