আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আকাশের সাথে কথা বলাপর্ব-২

আমি অনেক সহজ সরল বোকা একজন মানুষ। দুনিয়ার সাথে তাল মিলায়ে চলতে একটু কষ্ট হয় বৈকি। আকাশের সাথে কথা বলা পর্ব-১ আকাশের বন্ধু বলল,সুকন্ঠী কাঁদতে কাঁদতে কথা বলছিল এবং ফোন রাখার আগ মুহূর্তে বলেছিল যে সে আকাশ কে ভালোবাসে । দুজনের মধ্যে এত ফারাক থাকা সত্বেও আকাশ কোথা থেকে যেন একটু শান্তির দেখা পেল -সব কথা,সকল অনুভূতি যাকে বলতে পারা যায়,সেই তো হলো আসল জীবনসাথী -এই ভেবে। সুকন্ঠীকে ফোন দিয়ে আকাশ ভারী কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল-তুই দস্যু (আকাশের বন্ধু) কে কি বলেছিস? কান্নার আওয়াজ ছাড়া ৫ মিনিট আকাশ কিছুই শুনতে পারল না।

রাত তখন দেঢ়টা। সুকন্ঠী বলল-আমি তোমাকে ভালোবাসি। আকাশ কিছু বলতে পারল না। অনেকক্ষন চুপ করে থেকে বলল-''আমিও তোমাকে ভালোবাসি। '' আবেগ ছিল,বয়সের তাড়না ছিল,দুজনের ই অনুভূতে ছিল প্রখর ।

এটাকেই মনে হয় বলা হয় AGE FACTOR। আকাশ কখনো ঢাকার বাইরে গিয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। তবে ১ লা সেপ্টেম্বর ,২০০৯ ইং এ সে ঠিক ই চট্টগ্রাম গিয়েছিল। একটিবার তার সুকন্ঠীকে দেখার প্রয়াসে। অনেকগুলো চকোলেট,একটা ব্রেসলেট নিয়ে রওনা হল।

দুইটি মানুষের মনে ছিল প্রিয়জনকে দেখার আকুলতা । ছিল ভয়,সংশয়। কেউ কাউকে এখন দেখেনি কিন্তু দুইজন দুইজনকে এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিল যা আমার ক্ষুদ্র লেখনীকে হার মানাতে সক্ষম। সেই প্রথম চট্টগ্রামের মাটিতে পা । আকাশ তাকালো তার প্রিয় বন্ধু উপরের আকাশের দিকে,রোদ ছিল ।

চিলতে হাসি দিয়ে উপরের আকাশ নিচের আকাশ কে জিজ্ঞেস করল-কেমন লাগছে শুনি?আকাশ পকেট থেকে মোবাইল বের করে ফোন দেয় সুকন্ঠীকে । সুকন্ঠী কোন এক মর্কেটের ঠিকানা দিয়ে বলল এই মার্কেট এ যেতে । আকাশ গেল রিক্সায় চড়ে । বাস তাকে নামিয়েছিল জিইসি মোড়ে । ঐখান থেকে বামে চলে গেল রিক্সাওয়ালা ।

কিছুক্ষন পর ই গন্তব্য । নিচ থেকে escalator এর উপরে উঠে যাওয়া দেখতে দেখতে আকাশ দেখতে পেল একটা মেয়ে কে ,যে তার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রয়েছে । আকাশ উপরে উঠল। মেয়েটাকে দেখে কেন জানি মনে হচ্ছিল,আমি আজ এই মেয়ের জন্যেই এসেছি। উপরে উঠতেই মেয়েটি পরিচয় দিল-সেই সুকন্ঠী।

অনেক বড় জ়ার্নি করার পর ও তার সব ক্লান্তি নাই হয়ে গিয়েছিল । একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে বসল। বসার পর ও তারা কথা বলছিল না। মনে হচ্ছিল যেন বিবাহ.কম এর থেকে ঠিকানা নিয়ে দুইজন ই আজকে প্রথম দেখা করতে এসেছে। ছেলেটা অনেকক্ষন চুপ করে থেকে বলল- আমার মনে হয় জ্বর উঠতেছে,একটু দেখো তো।

। মেয়েটা ছেলেটাকে প্রথম স্পর্শ করল কপালে আকাশ কে বলল-না এমনিতেই গরম । সুকন্ঠীর হাতে এপ্রন ছিল, কলেজ থেকে এসেছিল। খাওয়ার পর তারা বের হল। বাইরে হাঁটবে।

সিএনজি তে করে চলে গেল চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের পাশে যেই বীচ আছে সেখানে। কথা বার্তা বলল। ব্রেসলেট টা নিজের হাতে আকাশ সুকন্ঠীকে পড়িয়ে দিল। সুকন্ঠীকে অনেকগুলো চকোলেট দিল । খুশি হল।

আকাশের বাসা থেকে ফোন আসল। সে কোথায় আছে জিজ্ঞাসা করার জন্যে। আকাশ রাতে তার বাসার বাইরে থাকার অনুমতি পায় নি। সে সুকন্ঠীকে বলল যে তার যেতে হবে। এই কথায় সুকন্ঠীর চেহারায় কান্না ভাব এসে পড়ল।

সিএনজি তে উঠার পর ও কাদল। কিন্তু লাভ কি?যেতে তো দিতেয় হবে। তখন বাস স্ট্যান্ড এ দারিয়ে সুকন্ঠী আকাশ কে টিস্যু দিয়েছিল মুখ মুছতে। । সুকন্ঠী কে সিএনজি তে উঠিয়ে দিয়ে আকাশ বাস এ উঠে গেল।

চরম বিষন্নতা নিয়ে রাত ১ টায় বাসায় পৌছাল। । কিন্তু এর মধ্যে একবারও সুকন্ঠী ফোন দেয়নি। আকাশের মোবাইলের ক্রেডিট শেষ হয়ে গিয়েছিল তাই সে নিজেও ফোন দিতে পারেনি... বিঃদ্রঃ এখানে অনেক রূপক নাম ব্যবহার করা হয়েছে । আর একটি মাত্র পর্ব রয়েছে।

আশা করব সাথে থাকবেন । । সবসময় বলা হয় যে সব সার্থক পুরুষের পিছনে একজন মেয়ের হাত থাকে। কিন্তু কখনোই বলা হয় না যে একজন পরাজিত ব্যাক্তির পরাজয়ের পিছনেও একটি মেয়ের হাত থাকে। --চিরন্তন সত্য ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।