আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আকাশের সাথে কথা বলাপর্ব-১

আমি অনেক সহজ সরল বোকা একজন মানুষ। দুনিয়ার সাথে তাল মিলায়ে চলতে একটু কষ্ট হয় বৈকি। ভালোবাসা শব্দটা শুনতে যতটা সুন্দর জীবনে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে ততটা নিষ্ঠুরভাবে । মানুষ তো সবসময় তার নিজের ইচ্ছায় চলতে পারে না । কেউ একজন কখনো না কখনো এসে হাত ধরে ঠিক ই বলবে - চলো আজ তোমার পকেট খালি করি ।

''আকাশ'' -একটি ভদ্র, শান্ত ,মিতভাষী স্বভাবের ছেলে । ৭ ভাইয়ের বড়জনের বড় ছেলে । অর্থ্যাৎ ৬ চাচার এক ভাতিজা । সাধারণত বড় ছেলেরা একটু গোবেচারা টাইপের হয় । তার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম কিছু চোখে পড়ল না ।

বাবা ব্যবসায়ী । চাচারাও সেই লাইনেই আছেন । । কিন্তু সবার ইচ্ছা আকাশ হবে ইঞ্জিনিয়ার । সাল ২০০৯ ।

এস.এস.সি পাশ করলো আকাশ । মেয়েদের প্রতি তেমন আসক্ত ছিল না । কিন্ত বন্ধুরা ক্ষেপাত। মাঝে মাঝে খোটাও মারত-তুই কোন মাইয়া পাইলি না? মার্ক জুকারবার্গ একটা অকাজ করে ফেলেছিলেন-তা হল ফেসবুক। এই ফেসবুক ই ছেলেটাকে প্রেম-জটিলতায় ফেলল ।

আমি যখন লেখাটি লিখছি,তখন ২৮শে অগাস্ট ২০১১রাত ৩-১৭মিনিট । এই তারিখ থেকে ২ বছর আগে চটপটে মেয়েটার সাথে কথা হয় । প্রথমে ফেসবুক বন্ধুত্ব । ১০০ টি মেসেজ চালাচালির পর নাম্বার আদান-প্রদান,তারপর লজ্জা পাওয়া । তারপর ৭ ঘন্টা পর ফোন দেয়া ।

৭ ঘন্টা পর ফোন দেবে,দিল। ট্রিং ট্রিং আওয়াজের পর ওপাশ থেকে সুন্দর কন্ঠে ভেসে এল 'হ্যালো'। আকাশঃ জ্বি,আসসালামু আলাইকুম,কে বলছিলেন? সুকন্ঠীঃ আপনি কাকে চাচ্ছিলেন? আকাশঃ এটা কি সুকন্ঠীর নাম্বার? এভাবেই এক কথা -দুই কথার মাধ্যমে পরিচয় । তখনো ছেলেটি বুঝতে পারেনি তার জ়ীবনে কি ঘটতে যাচ্ছে । দিন যায় কথা বাড়ে ।

বন্ধুত্ব বাড়ে। সুকন্ঠীর তখন একটা ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলেন । । কিন্তু তার মনে হয় না যে ঐ ছেলেটা তাকে আসলেই ভালোবাসে । আকাশ মাঝে মাঝে ওর একটা বন্ধুর বাসায় যেত।

মেয়েটা আকাশের বন্ধুর সাথেও কথা বলত । রোযার মাস ,সেহরির আগ পর্যন্ত ওয়ারিদ টেলিকম এর অশেষ সেবায় ২৫ পয়সা /মিনিট এ সারা রাত ওরা তিনজন কথা বলত। কখনো বা দুজন। সুকন্ঠী অনেক চতুর। সে এক রাতে আকাশ কে বলল এইবার ঈদ এ তোকে একটা সারপ্রাইজ দিব।

শত চেষ্টা করেও বের করতে পারল না যে সারপ্রাইজ টা কি? আকাশ আশঙ্কা করে যে সুকন্ঠী হয়তোবা তার সাথে জড়াতে চাচ্ছে । । বুঝেও না বুঝার ভান করে । সুকন্ঠীর বাড়ি চট্টগ্রাম এ। এস.এস.সি তে golden A+ পেয়েছে।

ছাত্রী ভাল। মা শিক্ষকতা করেন। অপঅরদিকে আকাশ সাধারণ জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা ব্যাবসা করেন। ।

ফারাকটা একটু বেশি ই হয়ে যায়। । এসব চিন্তার মাঝে ফোন বেজে উঠে । আকাশের বন্ধু। ফোন ধরতেই সে বলল -সুকন্ঠী তোকে ভালোবাসে।

আকাশ জিজ্ঞাসা করল-তোকে কে বলেছে? ও বলল-সুকন্ঠী নিজেই। । বিঃদ্রঃসুকন্ঠী নামটি কাল্পনিক কিন্তু ঘটনাটি বাস্তব। আশা করব সাথে থাকবেন। চলবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।