আমি সততা ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরফানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারি কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া সহ বিভিন্নভাবে অর্থ আত্মসাতের ব্যাপরে লিখিতভাবে অভিযোগ এনেছেন শ্রীমঙ্গলে কর্মরত রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে লিখিত অভিযোগের প্রেেিত গত ২০ মে শুক্রবার বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪র্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল শ্রীমঙ্গলে আসলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমদ।
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গরস্থ উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরফানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয়ে রেলওয়ের ৪র্থ শ্রেনীর ২০ জন কর্মচারীর যৌথভাবে স্বারিত এক অভিযোগপত্র গত ১১ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রামস্থ প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) বারবরে প্রেরন করা হয়। অভিযোগপত্রের অনুলিপি হিসেবে বাংরাদেশ সরকারের রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, ঢাকা বিভাগীয় রেল ম্যানেজার, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে প্রদান করা হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরফানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সমূহ :
রেলওয়ের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের অভিযোগপত্র অনুযায়ি জানা যায়, রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরফানুর রহমান গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তারিখে শ্রীমঙ্গলে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০০৯ সালে ৮ ল টাকা ব্যায়ে রেলওয়ের পিডাব্লিউডি’র ই/১নং বাংলোটি সংস্কার করা হলেও বর্তমানে তা বসবাসের অনুপযোগী দেখিয়ে গত ৬ মাস ধরে ওই বাংলোতে নিজে বসবাস করে আসছেন। এতে করে সরকারের বিপুল অংকের রাজস্ব আয়ে বাধা পড়েছে। অথচ র্দর্ঘদিন ধরে ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরও বাংলোর বিদ্যুৎ বিল সরকারি কোষাগার থেকে প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া রশিদপুর থেকে লংলা পর্যন্ত মোট ৬টি রেল স্টেশনের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে অশোভন আচরন এবং যেখানে অস্থায়ী শ্রমিক দ্বারা কাজ করানোর কথা সেখানে স্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে ১১২/ও-২০৭নং ব্রিজে সম্প্রতি টি.এল.আর লোক নিয়োগ দিলেও স্থায়ী শ্রমিকদের দিয়ে সকল কাজ সম্পাদনের পর টি.এল.আর এর সকল টাকা নিজে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি রেলওয়ের শ্রমিকদের নামে বরাদ্ধকৃত সরকারি কোয়ার্টার শ্রমিকদের বসবাসের জন্য না দিয়ে প্রতিটি ঘর মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাড়া প্রদান করে টাকা আত্মসাৎ করছেন। এরফানুর রহমান পুরাতন ভালো স্লিপার কাঠ এবং ব্রীজের কাঠ জি/৪৮ দেখিয়ে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এছাড়া যেসব ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা প্রদান করে তারা কোন রকম কর্ম ব্যতিত বেতন উত্তোলন করতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০নং রশিদপুর গ্যাং এর মেইট দিদার আলী, ১১নং সাতগাঁও গ্যাং এর মেইট আব্দুল খালেক, ১২নং শ্রীমঙ্গল ইয়ার্ড গ্যাং এর মেইট গোলাম ফারুক, ১৩নং ভানুগাছ গ্যাং এর মেইট এমরান মিয়া, ১৪নং শমসেরনগর গ্যাং এর মেইট আব্দুল হাই এবং ১৫নং লংলা গ্যাং এর মেইট আব্দুর রহিমসহ ২০ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী অভিযোগপত্রে স্বর করেন।
এছাড়াও অনেক ঊর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ অভিযোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
সরজমিন প্রতিবেদন :
অভিযোগ সম্পর্কে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঊর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরফানুর রহমানের বাংলোতে চৌকিদারের জন্য বরাদ্ধকৃত ২টি গৃহে সবজি আরতের শ্রমিক মন্নান এবং রেখা বেগম নামের দুই ব্যাক্তি বসবাস করছেন। তারা প্রতি মাসে ৫শত টাকা করে এরফানুর রহমানের নিকট ভাড়া প্রদান করছেন বলে জানান। তার কার্যালয়ের পেছনের অংশে সরকারি কোয়ার্টারে আলাদাভাবে প্রভা চৌধুরী, মায়া বেগম, কাচাঁমাল ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমরা সপরিবারে বসবাস করছেন। এদের প্রত্যকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রত্যেকটি কোয়ার্টারের জন্য তারা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে প্রদান করছেন।
এদিকে লিখিত অভিযোগের প্রেেিত বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪র্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির একটি প্রতিনিধি দল শ্রীমঙ্গলে আসেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মরনচাঁন, অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দপ্তর সম্পাদক সাইদ মো. তাহের এবং হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন। রেলওয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমদ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।