উত্তর আফ্রিকার আরব দেশ লিবিয়া তার প্রতিবেশি মিশর বা তিউনিশিয়া থেকে অনেকটাই আলাদা। প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো মিশরীয় সভ্যতার উত্তরসূরী আজকের মিশরীয়রা। কালের পরিক্রমায় প্রাচীন মিশরীয়, গ্রীক, রোমান ও আরব উপদ্বীপ হতে আগত আরবদের মিশেলে গঠিত হয়েছে আজকের মিশরীয় জাতি। আর এসকল প্রাচীন সভ্যতার সংমিশ্রণে মিশরীয় সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ। মিশরীয়রা তাদের জাতিগত পরিচয়ে গর্ব বোধ করে।
আর তিন হাজার বছরের পুরনো ফিনিসীয় সভ্যতার উত্তরসূরী আজকের তিউনিসিয়া। ফিনিসীয় রাজধানী কার্থেজ একসময় নগর হিসেবে রোমের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ভুমধ্যসাগরীয় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের যুদ্ধে। রোমান যুগেও কার্থেজ ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান নগর। তিউনিসিয়ানদের রয়েছে তীব্র জাতীয়তাবোধ। সেই তুলনায় এই দুই দেশের মাঝখানে অবস্থিত লিবিয়ার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
দেশটির তেমন কোন ইতিহাস নেই। আফগানিস্তানের মত উপজাতীয় সংস্কৃতিধারী দেশটির জনগণ রাষ্ট্র অপেক্ষা নিজের গোত্রের প্রতিই বেশি অনুগত।
রাষ্ট্র হিসেবে মিশর ও তিউনিশিয়া যতটা সুসংগঠিত ছিল, লিবিয়া ঠিক ততটাই অসংগঠিত। মিশর ও তিউনিশিয়ার মত লিবিয়ার কোন শক্তিশালি সামরিক বাহিনী নেই, নেই সংগঠিত সংসদ ও বিচার ব্যবস্থা। গাদ্দাফি মূলত মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র স্টাইলে দেশটি পরিচালনা করতো।
অন্য সকল গোত্রের চেয়ে গাদ্দাফির গোত্র সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। আর বৈষম্যের শিকার অন্য গোত্রগুলোর ক্ষোভেরই ফল সাম্প্রতিক বিক্ষোভ/বিদ্রোহ।
মিশর বা তিউনিশিয়ার শাসকদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রায় সকলেই একাট্টা ছিল বিক্ষোভের সময়। কিন্তু লিবিয়ায় সুবিধাভোগী গোত্র এখনো গাদ্দাফির অনুগত। নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে এবং গাদ্দাফিকে ক্ষমতায় রাখতে এই গোত্রের লোকেরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
সেখানে মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোত্রে গোত্রে হাঙ্গামা হচ্ছে। আর বেদুইন গোত্র গুলোর আবহমান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে পরাজিতদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালানো। যুদ্ধে যেই পক্ষই জয়লাভ করুক না কেন, পরাজিত পক্ষের ওপর গণহত্যা নিশ্চিত।
পশ্চিমা বিশ্ব এই সংকটে একটি পক্ষ নিয়েছে বেসামরিক লোকজনকে রক্ষার নামে। কিন্তু গাদ্দাফির গোত্র যুদ্ধে পরাজিত হলে তারা কি তাদের সাধারণ লোকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? লিবিয়া কি পারবে একটি সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।