দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
পানির ওপরে ভাসছে আফ্রিকা মহাদেশ। বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন তথ্যটি। তারা জানিয়েছেন, আপাত শুষ্ক নিষ্প্রাণ মরু এলাকা হিসেবে খ্যাত আফ্রিকার ভূগর্ভে সঞ্চিত রয়েছে পানির বিশাল আধার। এখানকার ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে যে পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে বর্তমানে, তার চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ বেশি পানি এখনও জমা রয়েছে মহাদেশটির মাটির নিচে।
এনভায়রনমেন্টাল জার্নাল রিসার্চ নামে শীর্ষ পরিবেশ বিষয়ক পত্রিকায় এ বিষয়ক এক নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানান, ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে পানি তোলার চেষ্টা করাটা ভুল পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মহাদেশের অধিবাসী প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ এখনও সুপেয় পানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত। যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে আগামী দিনগুলোয় আরও তীব্র রূপ ধারণ করবে পানির এই চাহিদা। পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচের কারণেও বেড়ে যাবে পানির চাহিদা। মিষ্টি পানির নদী কিংবা হ্রদগুলো প্রধানত বন্যা অথবা খরার মর্জির ওপর নির্ভরশীল। আপাতত চাষযোগ্য মাত্র পাঁচ শতাংশ জমিকে আনা হয়েছে সেচের আওতায়।
ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি গোটা মহাদেশের ওপর জরিপ চালিয়ে ভূপৃষ্ঠের গভীরে সঞ্চিত থাকা গোপন জলাধারের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনের অন্যতম নির্মাতা হেলেন বনসর এ ব্যাপারে জানান, ভূপৃষ্ঠের ওপরে থাকা যত্সামান্য পানির তুলনায় ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান লাভের কারণে মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার ঘটেছে।
উত্তর আফ্রিকা, বিশেষত, লিবিয়া, আলজেরিয়া এবং চাদের ভূপৃষ্ঠের প্রাথমিক স্তরের নিচেই সঞ্চিত রয়েছে পানির বিশাল মজুদ। এক হিসাবে এসব পানি ওপরে তোলা হলে সমগ্র অঞ্চল তলিয়ে যাবে ৭৫ মিটার পানির নিচে। বহু শতক ধরে আবহাওয়া বদলের পরিণতি হিসেবে সাহারা অঞ্চল একটি মরুভূমিতে পরিণত হলেও এর মাটির নিচে জমে থাকা জলাধারগুলো শেষবার পূর্ণ হয়েছে আজ থেকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার বছর আগে।
বিজ্ঞানীরা জানান, আফ্রিকা মহাদেশে অনেক দেশ রয়েছে যারা এই মুহূর্তে ‘সঙ্কটাপন্ন’ হিসেবে গণ্য করছে নিজেদের, অথচ তারা জানে না কী বিপুল পরিমাণ পানি জমা রয়েছে তাদের মাটির নিচে। সূত্র বিবিসি।
তথ্যসূত্র-
Click This Link
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।