আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হুমম

............................................

আব্বুকে নিয়ে ভীষণ সমস্যা। ইদানীং সে কিছুই বুঝতে চায় না। গত তিন বছর ধরে সে আমার উপর বিরক্ত। তাকে আমি কিছু বলতেই পারিনা। কথা তার পছন্দ না হলে বকা দিবে।

আর পছন্দ হলে এমনভাবে তাকাবে যে এমন নির্বোধ সে কখনোই দেখেনি! তারপর আমার কথাটাই সে অন্যভাবে রিপিট করবে। আব্বুর সাথে একদিন বাসে করে ঢাকা থেকে খুলনায় আসছিলাম। বাস যখন ফেরিতে তখন আমাদের সিটের পিছনের সিটে একটা লোক ধূমপান করা শুরু করে দিলো। আমার খুবই অসুবিধা হচ্ছিল। আমি নাক সিঁটকিয়ে আব্বুকে বললাম, আব্বু দেখো পিছনে একটা লোক ধূমপান করছে।

কথাটা যথেষ্ট জোরেই বললাম যাতে লোকটারও কানে ভালো মতো ঢোকে। আব্বুকে আমার এইসব কথা বলার উদ্দেশ্য হলো লোকটাকে যাতে আ্‌ব্বু নিষেধ করে। এসব ব্যাপারে সে খুবই কঠোর। কিন্তু আব্বুর মনে হলো ব্যাপারটা মাথার উপর দিয়ে গেল। লোকটার দিকে তাকালোও না! আমাকে উল্টা বললো, পাবলিক প্লেসে এসব হবেই! এসব সহ্য করতে হবে! আব্বুর কথা শুনে আমি মনের দু:খে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

আব্বু আবার বলতে শুরু করলো, আজকাল কত ব্র্যান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়। আগে তো এত ছিল না। গ্রামের লোকজন তো বিড়ি খেতো। আমরা যুদ্ধের সময় যখন ক্যাম্পে ছিলাম তখন পাতার এক প্রকার বিড়ি আমাদের দিতো। সেই বিড়ি আমি ফুঁকেছি।

আগে দেশের সকল স্তরের মানুষই ধূমপান করতো। আজকাল পাবলিক প্লেসে শুধুমাত্র অভদ্র আর অশিক্ষিত যারা তাদেরকেই ধূমপান করতে দেখা যায়। আমি কথাগুলো শোনার দরকার তাই শুনছিলাম। কিন্তু শেষের লাইনটা শুনে আমি তো হাসতে হাসতে শেষ। আব্বু কিন্তু এই কথাগুলো ইন্টেনশনালি বলেনি।

এমনি এমনিই বলেছে। আব্বু খুব ক্লিয়ারলি কথা বলে তাই আমি নিশ্চিত লোকটার কানে এই কথা গেছে। এই জন্যই বোধহয় বাকী পথটা সে মনের দু:খে ধূমপান করেনি (পোস্টের টাইটেল পরিবর্তন করলাম)

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।