স্যুটেড-বুটেড ও কেতাদুরস্ত রাজনীতিকদের দেখলে মনে হয় - ক্ষমতাসীনদের ছেড়ে যাওয়া গদি ঠান্ডা হওয়ার আগেই গদিতে বসে যেতে তারা তৈরী হয়ে আছেন। কারণ, ক্ষমতাই তাদের লক্ষ্য, ক্ষমতাই তাদের দেবতা। শক্তি-পূজারী যেমন নর বলিদান করে দেবতাকে তুষ্ট করার চেষ্টা করে তেমনি দেশের স্বার্থকে বলি দিয়ে ক্ষমতালিপ্সুরা ক্ষমতা দেবতাকে তুষ্ট করতে চান। আমরা দেখেছি, যারা ক্ষমতা দেবতার পূজা দিয়ে ক্ষমতাসীন হন, তারা ক্ষমতার দেবত্বকে বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতা-দানব হয়েই আবির্ভূত হন।
এই দেশের স্বার্থবিরোধী মীরজাফর ক্ষমতা-দানব সরকারকে উৎখাত করার জন্য প্রতিপক্ষ রাজনীতিকদের পরিশ্রম করতে হবে, যা তারা সহজে করতে চান না।
রাজনীতিকদের উচিৎ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরাসরি মোকাবেলা করা। দেশের মানুষকে জিম্মি রেখে দাবী আদায়ের ফর্মুলা প্রাগৈতিহাসিক ও অমানবিক।
কিন্তু, সমস্ত দেশের হৃদস্পন্দন বন্ধ করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা হলো রাজনৈতিক পান্ডাদের সবচেয়ে সহজ পন্থা। এদের জন্য ঘরে বসে হারবাল চা খেতেখেতে হরতালের ডাক দিলেই হলো। মাঠ গরম করার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী তো প্রস্তুত।
আওয়ামী লীগের জন্য যা আমরা জঘন্য ভেবেছি তা বিএনপির জন্য উত্তম হবে কেন? যারা ‘সার্বজনীন’ হরতাল ডেকে ক্ষমতায় যাবার সোপান তৈরী করেন তারা দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট ক্ষমতায় যাবার আগে যেমন ভাবেন না, ক্ষমতায় যাবার পরেও না।
মিথ্যাচারী, বেঈমান ও এই দেশের প্রতি অকৃতজ্ঞ সরকারকে উৎখাত করার জন্য সরকারেরই টুঁটি চেপে ধরুন, সমস্ত দেশের নয়। পুরো দেশটাকে অচল করে দিয়ে নয়, যেখানে ‘হরতাল’ করা দরকার সেখানেই হরতাল করুন। স্যুট-বুট ছেড়ে ‘পথে’ নামুন। দেশ ও দেশের মানুষকে নয়, নিজেদেরকে উৎসর্গ করুন দেশমাতৃকার সেবায় ও কল্যাণে।
আপনারা ভাববেন না আমরা ভুলে গেছি! আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ভক্তদের প্রতি ভারতের প্রণব মুখার্জীর এরূপ একটা উপদেশ ছিল, ‘রাস্তা গরম রাখ, ক্ষমতায় যেতে হলে ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করা যাবে না’। আমরা সেই উপদেশের হৃদয়-বিদারক আলামত দেখেছি বাংলাদেশে বছরের পর বছর। বাংলাদেশের তাওয়া গরম রেখে ভারতের রুটি ভেজে নেয়ার এই ষড়যন্ত্রকে আমরা ‘প্রণব বাবুর পর্ণো ফর্মুলা’ বলে অভিহিত করতে পারি। বাংলাদেশের গরম তাওয়ায় প্রণব বাবুদের রুটি ভেজে নেবার লিমিট নাই, কিন্তু বাংলাদেশীদের সহ্যের তো একটা লিমিট আছে। মনে হয়, প্রণববাবুরা পয়দাখাঁদের মত বাংলাদেশীদেরকে ‘চ্যুতিয়া বাঙ্গাল’ ভাবতেই বেশি পছন্দ করেন।
এখনকার বাংলাদেশের হালচাল দেখে মনে হচ্ছে, দেশের অবস্থা বাংলাদেশীদের কাছে সত্যিকারের অসহ্য হয়ে উঠেছে। তাই, দেশের গরম তাওয়াটাকে তারা গরমের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত দেখতে চান, যাতে বাবু-সাহেবদের রুটিগুলো ভাজতে গিয়ে পুড়েই যায়।
এ মুহূর্তে বাংলাদেশীদের আর কোন বিকল্প আছে বলে মনে হয় না!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।