আপনি স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরযোদ্ধা। দেশি-বিদেশি বহু লেখক তাদের বইয়ে আপনার মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা বীরত্ব ও গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেছেন। আমি সেদিকে যাব না। আপনাকে চেনে না বা জানে না এমন বাংলাদেশি সম্ভবত বাংলাদেশে নেই। আপনি দেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রানিত লোকদের কাছে কতটা জনপ্রিয় তা একটা উদাহরন দিলেই বুঝতে পারবেন।
নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে বিজয়মেলার আয়োজন করা হত। জিমনেসিয়ামের কাছে স্থাপিত বিজয়মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হত। সাধারন জনগন আলোচনা শোনাতে যত না আগ্রহ তার চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল মেলা প্রাংগনে ঘোরাঘুরি করা আর কেনাকাটাতেই। আয়োজকরাও তা বুঝত তাই কতক্ষন পরপরই ঘোষনা দিতে,-“আজ বক্তব্য রাখবেন বংগবীর কাদের সিদ্দিকী । দর্শকরা আপনার নাম শুনেই বিপুল করতালিতে মেলা প্রাংগন মুখরিত করত আর অধীর আগ্রহে আপনার আগমনের অপেক্ষা করত।
আপনি হয়ত জানতেনও না ব্যাপারটা।
’৭৫ সালে বংগবন্ধু হত্যার পর যখন আওয়ামীলীগের বেশিরভাগ নেতা মোশতাকের মন্ত্রীসভায়, তখন একমাত্র আপনিই বংগবন্ধুর চতুর্থ পুত্র ঘোষনা দিয়ে অস্ত্র হাতে প্রতিবাদ করেছিলেন।
’৯৬ সালে আওয়ামীলীগের মনোয়নে এমপি হয়েছিলেন। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা লোকদের সাথে মতের মিল না হওয়ায় আওয়ামীলীগ ছেড়েছিলেন। নতুন দল করেছেন।
সবই ঠিক আছে।
২০০১ সালের নির্বাচনে আপনি একাই ৫ আসনে প্রার্থী হয়ে ৫ জন আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন। এবার আওয়ামীলীগ বুঝুক ঠেলা- ভাবটা এমনই। তাও ঠিক আছে।
কিন্তু জোট সরকারের সময়ই পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় আপনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাংগাইলের বিভিন্ন এলাকায় কাজ পেয়ে(৫ আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ফেল করানোর পুরস্কার!) - কাজ না করার খবর।
অর্ধসমাপ্ত, অসমাপ্ত ব্রীজ-কালভার্ট আর ভবনের ছবি। সেই সাথে খবর এলো কোন এক কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন অন্যায়ভাবে দখল করে রাখার । তা কি ঠিক আছে!! ধীরে ধীরে আপনার অধঃপতন শুরু হল।
২০০৯ এর নির্বাচনে কিছুই করতে পারলেন না । কিন্তু নির্বাচনের পরপরই আওয়ামী বিরোধীতার নামে স্বাধীনতা বিরোধিদের পত্রিকা আর মিডিয়ায় নিয়মিত হাজিরা দিতে থাকেন ।
ধরে নিলাম অর্থের প্রয়োজন, অর্থের জন্য।
সর্বশেষ শাহবাগ আন্দোলন যখন তুংগে তখন আন্দোলনের আবহকে হালকা করার জন্য কিছু উলটাপালটা কথা বলা শুরু করলেন। কোথায় আন্দোলনে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করবেন তা না করে যেসব মিডিয়া শাহবাগের আন্দোলনকে কটাক্ষ করছে সেসব মিডিয়ায় আপনার উপস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছেন। কোন এক আওয়ামীলীগ নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে বংগবন্ধুকে বলেছেন,”রাজাকার কমান্ডার”।
কী সুন্দর লাগে শুনতে তাই না ! আপনি না বংগবন্ধুর চতুর্থ পুত্র।
পিতার প্রতি এই শ্রদ্ধা!
হুমায়ুন আজাদ যিনি কারো কাছে ভালো লাগবে কি লাগবে না তা না ভেবেই যথার্থ উক্তি করতেন -বলেছিলেন,একদিনের রাজাকার চিরদিনের রাজাকার কিন্তু একদিনের মুক্তিযোদ্ধা চিরদিনের মুক্তিযোদ্ধা নয়।
এখন মনে হচ্ছে কথাটা আপনার চরিত্রের সাথে হুবহু মিলে যায়।
তাই বংগবন্ধু সরকারের দেয়া “বীরউত্তম” খেতাবটা দিগন্ত টিভিতে গিয়ে আনুষ্টানিকভাবে বর্জন করবেন ?? ? ? ? ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।