মুক্তি যুদ্ধের গল্প : বাস্তব রক্ত ক্ষরণ
মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন
১৯৯০ এর জুলাই মাসের ঠিক ১৫ তারিখ, অনার্স সেকেন্ড ইয়ার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়। আমি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। রেজাল্ট পেয়েতো মহা খুশি। পুরা ডিপার্টমেন্টে সেরা ৩ জনের মধ্যে আমিই ১ম জন। সুতরাং সবাই একটু অন্য চোখে দেখে।
নিয়মিত ক্লাস করতাম। নোট তৈরি করতাম। একদম আদর্শ ছাত্রই ছিলাম। লেখা পড়া ছাড়া অন্য কোন দিকে একদম মন দিতামনা। যে টুকু সময় ঘরে থাকতাম বইয়ের মধ্যেই ডুবে থাকতাম।
রুমের অন্যরা যেমন গল্প করত, কার্ড খেলতো আমার তাতে একটুও আগ্রহ ছিল না। ওরা অনেক টানাটানি করত কার্ড, দাবা বা নুডু খেলার জন্য। কিন্তু ওদের ডাকাডাকি ব্যার্থই হত।
আমার ক্লাসমেট তিমির মিডেল টাইপ স্টুডেন্ট ছিল। আমার মত এরকম এক রোখা ধরনের ছিলনা।
সারা দিন সাহিত্য-সংস্কৃতি এসব নিয়েই পড়ে থাকত। ওর আবার আমাদের কা¬সের দিয়ার সাথে ভাব ছিল। ভাব বলতে একেবারে দু’জন দু’জনার কত যে আপন টাইপের।
আমি আবার সেই ছোট বেলা থেকে বাস্তবতা আর ভাগ্যে বিশ্বাস করতাম। প্রেম-ভালবাসা এসব আমার বিশ্বাস হতনা।
কারণ প্রেম-ভালবাসা আর বাস্তবতার সমিকরণ কখনই আমি মিলাতে পারতামনা। ভালবাসা আসলেই ভাল বাসা তৈরি করে নাকি মন্দ বাসা তৈরি করে সেই হিসাবও মিলাতে পারিনি। যাক সে কথা, রেজাল্ট পেয়েই ঘরে এসে মাকে চিঠি লিখতে বসলাম-
পরম শ্রদ্ধেয় মা
পত্রের প্রারম্ভেই আমার শত সহস্র সালাম আর কদমবুসি গ্রহণ করবে। মাগো তোমার শরীরের অবস্থা কেমন! তোমার অশেষ দোয়ায় আমার শরীর ভাল।
মা আজ তোমাকে একটা সু-সংবাদ দেয়ার জন্যই লিখতে বসা।
সু-সংবাদটা শোনার আগে আমার সাথে ওয়াদা কর একটুও কাঁদবেনা। তুমিতো আবার আমার কোন সু-সংবাদ পেলেই চোখের অশ্র“ ধরে রাখতে পারোনা।
এবার শোন তোমার ছেলে জার্নাজিলম ডিপার্টমেন্টে সেকেন্ট ইয়ার ফাইনালে ফার্স্ট হয়েছে। মা দেখ আমি কিন্তু কাঁদতে বারণ করেছি। আমি জানি তুমি চোখের অশ্র“ ধরে রাখতে পারনি।
আচ্ছা মা পৃথিবীর সব মা-ই কি তোমার মত? মাগো তুমি এত ভাল কেন?
শোন মা, আগামী মাস থেকে তোমার কোন টাকা পাঠাতে হবে না। ও আচ্ছা মা তোমাকে বলতে তো ভুলেই গিয়েছি- এখানকার একটা দৈনিক পত্রিকাতে পার্ট টাইম চাকরি পেয়োিছ। প্রতিদিন তিন/চার ঘন্টা ডিউটি। মাসে পাঁচশত সত্তুর টাকা বেতন। তাছাড়া দু’টা টিউশনিও করছি।
শোন মা প্রথম টিউশনিটাতে এ মাস থেকে ৫০ টাকা বেতন বাড়াবে তার মানে ২০০ টাকা আর নতুন টিউশটিাতেতো ১০০ টাকা পাচ্ছি সর্বমোট আটশত সত্তুর টাকা দিয়ে আমার পুরা মাস ভালই চলে যাবে।
মাগো! আরেকটা টিউশনি পেলে আমার খরচপাতি মিটিয়ে তোমায় প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠাতে পারবো। মাগো তুমি আমায় দোয়া কর। তোমার দোয়া ছাড়া যে আমি এক মুহুর্তও চলতে পারবোনা। মা তুমি কিন্তু আর কোন কাজ করবেনা।
হাত পাখা বানানো, কাথা সেলাই করা, বেতের ঝুড়ি আর কিচ্ছু তোমার করতে হবে না। আমি এসে যদি শুনি তুমি এষনও তুমি কাজ করছ তাহলে দেখ আমি তোমার হাতের ভাতও কিন্তু খাবনা। আমাকে নিয়ে আর তোমার ভাবতে হবেনা মা। আমি যে টাকা পাই তা দিয়ে ম্যাস পড়া, বই-খাতা, টিউশনি ফি, যাতায়াত ভাড়া সবই হবে আশা করি। মা শোন এ মাসে আমি তোমার জন্য একটা শাড়ি কিনেছি।
বিন্দুর জন্যও একটু শাড়ি কিনেছি। আর মা আমিও একটা নতুন শার্ট কিনেছি। তুমি আবার চিন্তা করোন যে সব টাকা শেষ করে ফেললাম। আমার খরচ প্রায় সব শেষ। এ মাসে আর কষ্ট হবেনা।
মা বিন্দুকে আদর দিও। ওকে ঠিকমত লেখা পড়া করতে বলিও। এবার আসার সময় ও আমায় বলেছিল, ভাইয়া আমার জন্য একটা শাড়ি নিয়ে আসবি। লেখা পড়ার চাপে আসতে পারলামনা। সামনে বন্ধ পেলে অবশ্যই আসবো।
মা বিন্দুকে বলিও দোকানের সবচেয়ে সুন্দর শাড়িটাই আমি ওকে কিনে দিয়েছি।
ভাল থাকবে মা। আমার জন্য দোয়া কর। আজ আর নয়।
ইতি
তোমারই রাসেল।
তিমির : আমরা সব শিখিয়ে দিব।
রাসেল : না না, আমি তারপরও পারবোনা।
তিমির : আচ্ছা ঠিক আছে কি আর করার।
থার্ডইয়ার এর ক্লাস করছি। ভালই লাগছে।
ক্লাস শেষে দু’টা টিউশনি আছে। তারপর পত্রিকা অফিসের একটানা কাজ। রাতে ১১টার সময় ম্যাসে ফিরছি। গেইটে দেখি আবার তিমির এসে হাজির।
রাসেল:- আরে তুই এখানে কি করছিস ?
তিমির : দোস্ত তোর চরিত্রটা করতেই হবে।
তোকে খুব মানাবে। তোর করতেই হবে।
রাসেল : কি পাট? কি করতে হবে?
তিমির : ভুলে গেলি। সকালে বললামনা। সিরাজউদ্দৌলার পাঠ।
রাসেল : আগে ঘরে আয়, বস, তারপর কথা হবে। তিমির আমার খাটে উঠে আসন পেতে বসতে বসতে বললো-
তিমির: আসলে দোস্ত, সকালে তুই না করার পরে অনেক চিন্তা ভাবনা করার পরেও কাউকে পেলামনা যে, এই চরিত্রটা নিতে পারবে। আমার মনে হয় তুই-ই এই চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পারবি। তোর কোন সমস্যা হবেনা, সব আমরা দেখিয়ে দেব। তুই শুধু অভিনয়টা করবি।
(মনে মনে ভাবছি তিমির হল নাছোড় বান্দা টাইপের ছেলে। রাজি না হয়ে উপায় নাই। )
রাসেল : ঠিক আছে বন্ধু আমি রাজি তোমার নাটক করবো।
(( তারপর ক্লাস শেষে নিয়মিত প্রাকটিস করছি নবাব সিরাজউদ্দৌলা হবার। সারাদিন ক্লাস, তারপর টিউশনি তারপর পত্রিকা অফিসের কাজ সব মিলিয়ে হাফিয়ে উঠছিলাম।
))
( জুলাই এর ২৫ তারিখ, খুব বৃষ্টি হচ্ছিল সকালে । এখন অবশ্য সকাল ৯টা। আজ ওসঢ়ড়ৎঃধহঃ ঈষধংং আছে। ইউনিভার্সিটি যেতে হবে। কেন যেন যেতে ইচ্ছে করছেনা।
তারপরও বের হলাম ব্যাগ নিয়ে। ট্রেনে উঠার সাথে সাথে তুমুল বৃষ্টি শুরু হল। ট্রেন থেকে নামার কোন উপায় নেই। কিছুক্ষন পরে বৃষ্টি খানিকটা কমল। আমার কাছে সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ হল ছাতা মাথা দিয়ে হাঁটা।
আমার বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হাঁটতেই ভাল লাগে। তারপরও মা বারণ করেছে বৃষ্টিতে ভিজতে। তাই বাধ্য হয়ে ছাতা মাথায় হাঁটতে হচ্ছে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেলাম-)
অর্না :- এই যে ভাইয়া একটু শুনবেন?
( রাসেল : পেছনেই তাকাতেইা আমি হতবাক। সত্যিই কি কোন মানবি, নাকি পরিরাজ্যের পরিরানি আমায় ডাকছে, বুঝে উঠতে পারিনি।
)
অর্না : ভাইয়া আর ১০মিনিট পরেই আমার পরীক্ষা শুরু হবে প্লিজ আপনার সাথে আমায় একটু নেবেন কি? বৃষ্টির কারণে যেতে পারেছিনা। আপনি যদি আমায় একটু পৌঁছে দিতেন তবে কৃতজ্ঞ থাকতাম। কিছু বুঝে উঠার আগেই জিজ্ঞেস করলাম
রাসের: কোন ডিপার্টমেন্টের।
অর্না: ফাইন আর্টস, ফার্স্ট ইয়ার।
রাসেল : চলুন যাই।
(আমি সেদিন রোবটের মত তার সাথে হাঁটছিলাম কিন্তু অন্য কোন কথাই জেজ্ঞেস করা হয়নি। সেদিন থেকে কেন যেন অন্য রকম লাগছিল। হৃদয়ের মধ্যে অন্য আমেজের বাতাস বইতে লাগলো। যে ভালবাসা আমি বিশ্বাস করিনা সে ভালবাসা কি আজ আমার বিশ্বাস করতে হবে? এই ভেবে রাত কেটে গেল। সকালে ইউনিভার্সিটি গিয়েই তাকে খঁজতে শুরু করলাম।
কলা ভবনের দিকে গেলাম। অদ্ভুততো কাল তার নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি। কাউকে যে জিজ্ঞেস করবো সে উপায়ও নেই। তাছাড়া কোন কাজতো নেই কেনইবা একটা মেয়ের কছে অনর্থক যাবো। কি বলবো গিয়ে তাকে? এই প্রশ্ন মাথায় আসতেই সোজা ক্লাসে চলে আসলাম।
কিন্তু ক্লাসেও মনযোগ দিতে পারছিনা। মাথার মধ্যে ঘুরছে কি বিষয় বা কি কারণ নিয়ে তার কাছে যাওয়া যায়। রাতে খেয়ে দেয়ে বই নিয়ে পড়তে বসতেই মাথায় চটকরে চলে এল আগামী ১৫ আগস্ট সিরাজউদ্দেলৈা নাটক মঞ্চস্থ হবে। সেখানে তাকে দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। )
( পরদিন ভার্সিটি আসতেই আমার চোখ আতিপাতি করে খুঁজতে লাগলো সেই মেয়েটিকে।
কলা ভবনের সামনে সারাদিন দাঁড়িয়ে রইলাম। আজ বৃষ্টি নেই । কিন্তু খা খা রোদের প্রচন্ড গরমের মধ্যেও হাতে একটা ইনভাইটেশন কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। কেন যেন আমার মনে হচ্ছিল আজ তার দেখা পাব। সাড়ে তিনটার সময় দেখি কলা ভবনের বারান্দা থেকে একটা মেয়ে নেমে আসছে।
লাল জামা পড়া, সাদা ওড়না, বাতাসে ওড়নার আঁচল দুলছে। মায়াবী হরীনি দুটি চোখ। দৃষ্টি খুবই সুতীক্ষ, ঠোঠগুলো কোন প্রসাধন ছাড়াই, গোলাপী রং এর চুলের রং হালকা বাদামী। ঠিক বুঝতে পারছিনা প্রসাধন দিয়ে চুলকে বাদামী করা হয়েছে, নাকি অরজিনালই এরকম। তার সুন্দরের বর্ণনা হৃদয়ের পাতায় আঁকছিলাম।
আপন মনে কখন যে সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে তাও টের পাইনি।
হঠাৎ সে বলে উঠল-
অর্না : আরে আপনি! কেমন আছেন?
রাসেল কিছু বুঝে উঠবার আগেই বলে উঠলাম) ভাল। আপনি কেমন আছেন?
অর্না : হ্যাঁ ভাল। তা কি মনে করে এখানে।
রাসেল : ও আচ্ছা আগামী ১৫ আগস্ট সিরাজউদ্দৌলা নাকটটি মঞ্চস্থ হবে থিয়েটার ইনস্টিটিউটে।
আপনাকে দাওয়াত করতে আসলাম।
অর্না : ও তাই। ধন্যবাদ।
রাসেল : আসবেন তো?
অর্না : অবশ্যই আসবো।
(রাসেল : এতটুকু কথা হল সেদিন।
তারপর আমি প্রতিদিনের অফিসের কাজ সেরে যখনই একটু স্বস্তির নিস্বা:স ফেলি, তখনি তার কথা মনে পড়ে গেল। ওফ! আজও তার নাম জানা হয়নি। নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছে। এতটা আত্ম ভোলা হলে চলে নাকি? হঠাৎ তার নামটা খুব জানতে ইচ্ছে করছে। আসলেই তার সৌন্দর্য্য আমায় বিমোহিত করে ফেলেছিল।
হঠাৎ কেন যেন মনে হল আমি কবি হতে শুরু করছি। মনে মনে শুধু কবিতা আসছে। আগে শুনেছিলাম মানুষ প্রেমে পড়লে নাকি কবি হয়ে ওঠে। এখন তার বাস্তব সমিকরণ মিলতে বসেছে আমার বেলায়। কয়েকটা কবিতা লিখে ফেললাম।
কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম সত্যিই আমি তার প্রেমে পড়ে গিয়েছি ।
(রাসেল : খুব বৃষ্টি পড়ছে, বেলা ৩টা অথচ মনে হচ্ছে সন্ধা ৬টা। যেমনি বৃষ্টি তেমনি মেঘ। মেঘে নীল আকাশ কালো বর্ণ ধারণ করেছে। ভার্সিটির প্রায় সব ছাত্রই ক্যাম্পাসে বসে আছে।
বৃষ্টির কারণে কেউ বাইরে বেরুতে পারছেনা। হঠাৎ মাথায় কি যেন এসেছিল কে জানে এক দৌড়ে পৌছলাম কলা ভবনের বারান্দায়। ভেজা শার্ট, পেন্টও প্রায় ভিজে গেছে। একেবারে ভিজে টলমলে অবস্থা। কাক হলে শরীরটা ঝাড়া দিতে পারতাম।
আনমনা উদাসী হৃদয় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি বারান্দায়। আর চোখ তার কাজ করেই যাচ্ছে। বহুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর বৃষ্টি যখন থামলো তার দেখা না পাওয়ার ব্যর্থতা নিয়ে যেই মুহুর্তেই ফিরে আসার জন্য পা বাড়াই সাথে সাথে পেছন থেকে শুনি
অর্না: রাসেল ভাই...এই রাসেল ভাই........
( পেছনে তাকাতেই অদ্ভূদ সুন্দর সেই মানবীয় পানে চোখ দুটো আটকে গেল। মনে মনে ঠিক করেই ফেললাম আজ আমার বহু দিনের আপ্লুত কথা বলেই দিব। )
অর্না : রাসেল ভাই হঠাৎ এখানে যে....?
রাসেল : না এমনি, আচ্ছা আপনার নামটা যেন কি?
অর্না : আপনি আমার নাম জানেন না? অথচ কতবার দেখা!
রাসেল : আসলে নামটা জানতেই আসা
অর্না : এই বৃষ্টির মধ্যে! শুধু নামটা জানতে!!
(রাসেল : তখন মনে মনে বলছি শুধু বৃষ্টি কেন তোমাকে পেতে হলে সাত সমুদ্র পাড়ি দিতেও রাজি আছি।
)
অর্না : আমার নাম অর্না
রাসেল : অর্না! খুব সুন্দর নাম। আপনি যেমন সুন্দর আপনার নামও তেমনি সুন্দর।
অর্না : কি যে বলেন রাসেল ভাই! আচ্ছা আজ আসি।
(রাসেল : আজ ১৫ আগস্ট রীতিমত সমস্ত চৎধপঃরপব শেষ করে নাটক মঞ্চস্থ হবার দিন। স্টেইজে উঠার পর একটু ভয় করছিল।
পরে সমস্ত ভয় কেটে গেল। অভিনয়ের সময় বুঝতে পারিনি কেমন অভিনয় করছি। কিন্তু নাটক শেষ করার পর যখন দেখলাম শত শত দর্শক আমায় ঘিরে ধরেছে তখন বুঝতে পারলাম হয়ত ভালই অভিনয় করেছি। তারপর থেকে আস্তে আস্তে রাসেল থেকে সুপার স্টার রাসেলে পরিণত হলাম। )
(রাসেল : পরদিন ভার্সিটির ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেখি অর্না, হাতে একগুচ্ছ রজনী গন্ধা।
)
অর্না : রাসেল ভাই কাল খুব ভাল অভিনয় করেছেন তাই শুভেচ্ছা স্বরূপ।
(রাসেল : মনে মনে ভাবছিলাম শুভেচ্ছা স্বরূপ না হয়ে যদি ভালবাসা স্বরূপ হত তবেইনা ভাল হত। )
রাসেল : ধন্যবাদ। আচ্ছা অর্না তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।
অর্না : বলুন।
রাসেল : এখানে না, চলুন না কোথাও বসে কথা বলি।
অর্না : রাসেল ভাই তাহলে আজ না কাল। আজ আমার ওসঢ়ড়ৎঃধহঃ ঈষধংং আছে। ঠিক আছে। তাহলে কালই কথা হবে।
(রাসেল : হাতের ঘড়িতে দেখি রাত ১১টা বেজে ১০মিনিট। চিন্তা করছি কিভাবে কাল তাকে কথাটা বলবো। চট করে মাথায় একটা বুদ্ধি চলে এল ওকে নিয়েতো অনেক কবিতা লেখা হয়েছে। একটা কবিতা দিলে কেমন হয়। কষ্ট করে আর মুখে বলতে হবেনা।
কবিতার ভাষার প্রেম নিবেদন। মসৃন কাগজ আর কলম নিয়ে বসে গেলাম কবিতা তথা প্রেম পত্র লিখতে। কবিতা এরকমই ছিল-
অনন্ত এ আত্মার
(“একান্তই তোমাকে নিয়ে লেখা”)
সুলতানী তরবারীর তীক্ষতার মতই তোমার দু’চোখ
আমার ক্ষত বিক্ষত করে যায় পলকেই
তোমার বাঁকা ওষ্টের চঞ্চলা লুকানো হাসি
আমার মস্তিস্কের নিউরনে অনুরণন তুলে যায়।
চুম্বাকর্ষনী তোমার চেহারার দিকে তাকাতেই
আমার আপদ মস্তক কম্পিত হয়ে ওঠে।
তোমার খোলা চুলের দোলায় উষ্ম স্পর্শের মত
শিহরন করে ওঠে আমার সমস্ত শরীর।
দু’হাতের রঙিন সজ্জা দেখে মনে হয় যেন
তাজমহলে শ্বেত পাথরেরর উপরে রঙিন করুকার্র্য।
হৃদয়ের মধ্যে ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়
তোমার দু’পায়ে সজ্জিত নিক্কন ধনির তান্ডবে।
বিশ্বাস কর তোমাকে এখানেই চরম যন্ত্রনা শুরু হয়
আমার প্রতিটি লোমকূপের মধ্য হতে
সমস্ত শরীর মরন যন্ত্রনায় ভোগতে শুরু করে।
তুমিকি বোঝনা আমার এ কষ্ট?
নি:শব্দ হাহাকার অনন্ত এ আত্মার
বিধবার কসম, আমার এ যন্ত্রনার জন্য তুমিই দায়ী।
(রাসেল : তোমার ভালবাসা আমাকে ঘিরে এরকম দায়ভার থেকে মুক্ত হও)
(রাসেল : পরদিন ভার্সিটি গিয়েই তাকে খোঁজ শুরু করলাম।
কিছুক্ষণ পর ওকে পেয়েও গেলাম। আসলে আজ কেমন যেন ভয় ভয় করছে। যদি সে আমায় মেনে না নেয়। বার বার ঘামতে লাগলাম। মাঝে মঝে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল।
ইউনিনভার্সিটির ঝুপড়িতে গিয়ে বসলাম দু’জন। )
অর্না : রাসেল ভাই বলেন আপনার কি কথা ছিল।
রাসেল : আসলে তেমন কিছু না। আজ তোমাকে একটা জিনিস দেব। কাল ঠিক এসময়ে এইক্ষনে তুমি আসবে।
যদি আসো তবে ভাববো হাঁ আর যদি না আস তবে ভাববো “না”।
অর্না : কি কথা বলছেন রাসেল ভাই কিছুতো বুঝতে পারছিনা।
রাসেল : এখন বুঝতে হবেনা বাসায় গিয়ে বুঝলেই হবে। আজ আসি।
(রাসেল : সারাদিন আমার কেমন যেন উদ্বিগ্ন লাগছিল।
তাই মনোযোগ দিতে পারছিনা। সবকিছু যেন এলামেলো হ্িচ্ছল। অপেক্ষায় ছিলাম আগামী দিনটির । আমার কাছে প্রতিটি মিনিট ঘন্টার মত দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। সারা রাত ঘুমোতে পারিনি।
দু ধরনের ফিনিংস হচ্ছিল। যদি তাকে পেয়ে যাই। অথবা যদি হারাই আনন্দ আর ভয়ের সমিকরণ মেলাতে মেলাতেই রাতটা কেটে গেল। )
(রাসেল : পরদিন সকালে ঝুপড়িতে বসে ছিলাম। অর্না আসার কথা ঠিক এই সময়েই।
কিন্তু এখনোতো এলোনা। হঠাৎ সিগারেট ধরাতে ইচ্ছা করলে। কিন্তু মায়ের বারণের কথা মনে পড়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে আবিষ্কার করলাম ১৫ মি. এ ৬ কাপ চা খেয়ে ফেলেছি। )
(রাসেল : হঠাৎ আমার চোখ খুঁজে বের করল নীল শাড়ি পরে অর্না আসছে।
আচ্ছা নীল তো ভালবাসা কিংবা বেদনা দু’টিরই প্রতীক। কিন্তু আজ কোন প্রতীক প্রকাশ করবে ভাবতে লাগলাম। পকেটে একটা কাগজ ছিল। অর্নাকে দেব ভেবে রাতেই লিখে ছিলাম। লেখাটা ছিল এরকম-
বৃস্টি ভেজা ঘাস পেড়িয়ে দেখা হল তোমার সাথে।
সূর্যের হলুদ আভা। হঠাৎ তোমার মুখে এসে পড়েছে। হঠাৎই একটা কোমল স্নিগ্ধতা। কেন জানি তোমাকে ভাল লেগে গেল। হৃদয়ের অনুভূতি মেশানো কোমল ভালবাসা রইল সদা তোমারই জন্য।
ভাবনার দেয়াল ভাঙ্গতে না ভাঙ্গতেই আমার সামনে চলে আসল। তার চোখে মুখে বিষন্নতা, তাহলে নীল কি আজ সে শোকের বসন নিয়েছে। )
রাসেল : বি ব্যাপার অর্না আপনকে এমন মনে হচ্ছে কেন?
অর্না : না এমনি। তবে আমি শুধু এটাই বলতে পারবো যে আপনার আর আমার মধ্যে কখনই সম্পর্ক হওয়ার নয়।
রাসেল : কিন্তু কেন অর্না।
আমার এত দিনের স্বপ্ন সবকিছু কি ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে।
অর্না : কেন তা আমি বলতে পারবোনা।
রাসেল : কিন্তু কেন। আজ তোমার বলতে হবে অর্না।
অর্না : থাক আজ নয় আরেক দিন বলবো।
আজ আসি।
রাসেল : না অর্না তুমি কোথাও যেতে পারবেনা। আজ তোমাকে বলতেই হবে।
অর্না : আচ্ছা তবে শুনুন।
( রাসেল : অর্নার দু’চোখ বেয়ে অশ্র“ ঝড়ছিল।
বাক্যহীন প্রতীমা যেমন নির্বাক অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে। ঠিক তেমনি তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষন। তারপর ভাবলেশহীন তার কাজল মাখা দু’চোখ বেয়ে অশ্র“ ঝড়ছিল। তার সুন্দর কপল’দু খানি তখন কাজলের কালিমায় মনে হচ্ছিল ভরা চাঁদের মাসে কয়েক টুকরো মেঘ ভেসে আসছে।
আমি সেদিন তার চোখের অশ্র“ দেখে বিস্মিত হয়নি একটুও।
বিস্মিত হয়ে ছিলাম তার চোখের দিকে তাকিয়ে। কেননা কোন মানুষ কাঁদলেও যে এত সুন্দর লাগতে পারে তা আজই প্রথম দেখলাম। )
অর্না : রাসেল ভাই কথা দিন আজ যে কথাগুলো বলবো তা আর কাউকে আপনি বলতে পারবেননা।
রাসেল : কথা দিলাম. বল অর্না।
অর্না : তাহলে শুনুন সেদিন ছিল ১২ অক্টোবর, ১৯৭১।
যুদ্ধ চলছিল সারে দেশে। বাংলার দামাল ছেলেরা গেরিলা প্রশিক্ষন নিয়ে স্বশস্ত্র যুদ্ধে নেমে পড়েছিল। আমার মায়ের গ্রামের প্রায় ২০/২৫ জন যুবক মুক্তিযুদ্ধে নেমে পড়ল। তাদের মধ্যে প্রায় ৫ জন মুক্তিযুদ্ধা গ্রামে এসেছিল তাদের মা-বাবা ভাই বোনের সাথে দেখা করতে। ঐ গ্রামের রাজাকারের হেড ছিল আনিস মোল্লা।
তার কানে পৌঁছে গেল এই খবর। লোভি কুত্তার মত ছুটে গিয়েছিল পাকিস্তানি আর্মি ক্যাম্পে। খবর দিয়ে আসল যে ঐ গ্রামে মুক্তি বাহিনী অবস্থান করছে। সাথে সাথে সেই রাতেই মোল্লা আনিসসহ প্রায় শ’ খানেক আর্মি পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলেছিল। প্রত্যেক ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাল।
মুক্তিবাহিনীর ৫ সদস্য ধরা পড়ল এবং যে সকল ঘরে তারা ছিল ঐ সব ঘরে যারা পুরুষ ছিল তাদের সবাইকে প্রায় ১০০ জনের মত হবে, চোখ বন্ধ করে ক্যাম্পের কাছে এনে ব্রাশ ফায়ার করেছিল। তারপর যেসব ঘরে যুবতি মেয়েরা ছিল তাদের সবাইকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে.......তার মধ্যে.........
রাসেল : কি তার মধ্যে বল অর্না?
অর্না : তার মধ্যে আমার মাও ছিল। আমার মা’র বয়স ছিল তখন সতের কি আঠার। আর নানা অনেক চেয়েছিল তাদের হাত থেকে বাঁচাতে।
কিন্তু পারেনি। আমার দু’জন মামা ছিল তাদের ও গুলি করে হত্যা করেছিল।
রাসেল : তারপর .........তারপর কি হল বল অর্না?
অর্না : তারপর স্বাধীনতার পর আর্মি ক্যাম্প থেকে ছাড়া পায় আমার মা। কিন্তু এ অবস্থায় মা গিয়ে কোথায় দাঁড়াবে। কার কাছে যাবে।
কি পরিচয় দেবে। কিছুই ভেবে উঠতে পারছিলনা। অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বার বার মরতে চেয়েওে মরতে পারেনি। একটা পিছুটান তাকে নতুন করে বাঁচার তাগিদ দিচ্ছিল।
রাসেল : কি সেই পিছুটান।
অর্না : আজ আর বলতে পারবোনা রাসেল ভাই।
রাসেল : না অর্না তুমি বল।
অর্না : কেননা ততদিনে আমি আমার মায়ের গর্ভে জায়গা করে নিয়েছিলাম।
(রাসেল : আমি সেদিন কিছুই ভাবতে পারছিলামনা।
মনে হচ্ছিল স্বাধিনতা যুদ্ধের কোন গল্প শুনছিলাম। কিন্তু তা যে আমার নিজের বেলায়ই ঘটছে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। নিজের হৃদয়ও এ কথাগুলো বিশ্বাস করতে পারছিলনা। )
রাসেল : তাহলে তোমার পিতাকে অর্না ..........?
অর্না : আমার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম প্রশ্নের উত্তর এটা। এর কোন উত্তর আমার জানা নিই।
(হাউমাউ করে কান্না)
(রাসেল : অর্না লজ্জা আর গ্লানীতে প্রায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আমি তাকে সান্তনা দেয়ার মত ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলামনা। পৃথিবীর এত সুন্দর একটা মানবী, অথচ সে তার পিতার পরিচয় জানেনা, এমন একটা মেয়েকে আমি কিভাবে সান্তনা দেই!!!)
অর্না : এবার শুনলেনতো রাসেল ভাই আমার জীবনের ঘটনা?
রাসেল : শোন অর্না আমি তবুও তোমাকে ভালবাসি, শুধু তোমাকেই চাই।
অর্না : এতকিছু শুনেও আপনি আমাকে ভালবাসবেন? সত্যি বলছেন?
রাসেল : হ্যাঁ সত্যি, সেই প্রথম মুহুর্ত থেকে তোমাকে যেমন ভালবেসেছি। এখনও তেমনি বাসি এবং ভবিষ্যতেও বাসবো।
(একথা বলতে বলতে অর্নার কপালে হাত দিয়ে তার চোখের অশ্র“ মুছি দিলাম, আর বললাম-)
রাসেল : আর কান্না নয় এবার একটু হাসতো অর্না।
অর্না : রাসেল ভাই সত্যিই আপনার মত মানুষ সমাজে বিরল।
(রাসেল : সেদিন থেকেই মাথার মধ্যে দুশ্চিন্তা নামক পোকারা বাসা বাঁধতে লাগলো। কিভাবে অন্যকে সমাজে তুলে ধরবো। কি তার পরিচয় দেবো।
কেউ যখন জিজ্ঞেস করবে তোমার বাবার নাম কি তখন সে কি উত্তর দেবে। তাছাড়া মা কি কখনো অর্নাকে মেনে নেবে? প্রতিনিয়ত এই সব প্রশ্ন আমায় আঘাতে জর্জরিত করছিল অনবরত। তারচেয়ে বড় কথা হল আমি অর্নাকে ভালবাসি। তাকে ছাড়া আমার জীবনে অন্য কাউকে আমি কল্পনাও করতে পারি না। )
(রাসেল : কিছুদিন পরে মা আর ছোট বোন বিন্দুকে এখানে নিয়ে এলাম।
মাঝারি সাইজের একটা ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিলাম। একদিন অর্নাকে নিয়ে আসলাম মাকে দেখাবো বলে। মা সেদিন অর্নাকে দেখে পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু যখনই অর্নার কাছে তার বাবার নাম জানতে চাইল তখনই সব শেষ হয়ে গেল। পরেও মাকে কিছুতেই রাজি করাতে পারলাম না।
আস্তে আস্তে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হল। ততদিন আমি পত্রিকার বার্তা বিভাগের প্রধান হয়ে গেলাম। তাছাড়া নাটকও মাঝে মধ্যে একটা দুইটা করতাম যদিও প্রচুর নাটকের অফার আসতো। মন-মানসিকতা ভাল না থাকার কারণে কিছুতেই মনযোগ দিতে পারতামনা। সব কিছুই বিষাদময় মনে হচ্ছিল।
)
(পরে শোকে দুঃখে কষ্টে অর্না দেশ ছেড়ে ফ্রান্সের মাটিতে পাড়ি জমিয়েছেল সেখানকার একটা আর্ট স্কুলের টিচার হিসেবে। প্রথম কিছু দিন আমার সাথে চিঠি আদান প্রদান হয়েছিল। পরে ওর পক্ষ থেকে আর কোন চিঠি পাইনি। চিঠি পাঠালেও ফেরত আসতো। )
(: রাসেল মা অনেক চেয়েছে আমি বিয়ে করি।
কিন্তু আমিও মাকে বলে দিয়েছি মানুষের হৃদয় একটা, আর একটা হৃদয় একবারই শুধুমাত্র একজনকেই দেয়া যায়। আর সেই হৃদয়টাতো অনেক আগেই অর্নাকে দিয়ে ফেলেছি। )
( রাসেল : এখন অবশ্য মা’র ভুল ভেঙ্গেছে। তিনি নিজেও অনেক চেয়েছেন অর্নার সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু পারেননি।
এখনো আমার মা আমাকে বিয়ে করানোর জন্য পায়তারা করে। কিন্তু আমার মন-প্রান ধ্যান সব কিছুতেই যে অর্না মিশে আছে। যে হৃদয়টা অর্নাকে দিয়ে ফেলেছি তা কি করে অন্য কোন মেয়েকে দেই। অর্না কি জানে এখনো আমি তার জন্য বসে আছি। গভীর আগ্রহ নিয়ে তার অপেক্ষায় আছি।
তাকে নিয়ে এখনো কবিতা লিখি, যদি সে কখনো আসে তবে তাকে নিয়ে লেখা সব কবিতা দেখাবো, আর বলবো শাহজাহান তার প্রেমিকার স্মৃতি স্বরূপ তাজমহল বানিয়েছিল। আর আমি আমার কবিতা দিয়ে কবিতার তাজমহল বানালাম। )
(রাসেল : মাঝে মধ্যে খুব জানতে ইচ্ছা করে কেমন আছে অর্না। কি করছে, ওর কি বিয়ে হয়েছে। আমি যেমন ওকে সারাক্ষন ভাবি ওকি আমায় তেমনি ভাবে?)
(রাসেল : মাঝ্যে মধ্যে এ সমাজ সভ্যতাকে খুব ঘৃনা হয়।
এ কেমন পঁচা আবর্জনায় দুর্ঘন্ধযুক্ত সমাজ যে সমাজ এ সামান্য ব্যাপারটা মেনে নিতে পারে না তা আবার কেমন সমাজ! এ কেমন সভ্যতা, যে সভ্যতা একজন বীরঞ্চনা মায়ের নিস্পাপ একটি কন্যাকে মেনে নিতে পারে না, তারা আবার সভ্য জাতি হিসেবে দাবি করে কিভাবে? নিজে নিজেকে করতে থাকি এ প্রশ্ন।
সারাক্ষন কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে চেষ্টা করি। আর যখনি একটু ফ্রি হই তখনি ডায়রিটা খুলে হয়তোবা নতুন কোন কবিতা লিখি অর্নাকে নিয়ে নতুবা পুরোনো কবিতা গুলোই পড়ি। যেমন এখন পড়ছিলাম এই কবিতাটি-
“পুজারিনী”
উদাসী হাওয়ার সাথে তাল মিলে আমার উদাসী হৃদয়ও
একিসাথে চলছে দোসরহীন পথে,
চঞ্চলা আনমনা হৃদয় কি যেন খুঁজে মরছে
শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে
তবুও স্তব্ধ হয়নি খোঁজার পালা।
বাতাসের বাঁশিতে কান পেতে থাকি, সেকি জানে তার কথা?
আকাশের মেঘ পানে তাকিয়ে প্রশ্ন করি কোথায় সে?
সমুদ্রের মাতাল স্রোতের পাশে বসে থাকি
তাকে বলি- তুমি কি তাকে চেন?
কাননের প্রত্যেক পুস্পকে বলি-তোরা কি দেখেছিস তারে?
উড়ন্ত প্রজাপতিরে কই, তোরাও কি তার খোঁজ দিবি না মোরে?
আসায় আসায় বসে থাকি একদিন পাব তারে
সেই আশাই আমায় করেছে নিরাশা।
হঠাৎ ক্লান্ত হৃদয় কেঁদে উঠে, আর বলে-
তুমিইতো মোর প্রতিমা, তুমিইতো মোর দেবি
তোমার আসনে কারইবা চয়নে ফুল দিয়ে অঞ্জুলি দেব?
তাইতো তোমারে খুঁজে মরি, কোথায় তুমি ওগো মোর রানি?
কেবল একথায় দেখে যাও আমার শরীরের প্রতিটি
দেহ কোষের নিউক্লিয়াসের মধ্যে তোমারি ছবি।
হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন শুধু তোমারী নাম যপে যায়
তবুও কি তুমি আসবে না আমার হৃদয়ের কুটিরে?
দেখে যাও আমি আজ পাগল প্রায় শুধু তোমার জন্যে।
নয়নের অশ্র“তো অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে
তবে হৃদয়ের অশ্র“ এখনো কমেনি
বর্ষন হচ্ছে কাল বৈশাখী ঝড়ের ন্যায়
শুধু একবার দেখে যাও হে মোর পুজারিনী
তোমায় এখনো কত ভালবাসি?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।