আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার সাঁতার শেখা

ফাগুনকে আরো মনে পড়ে, মেঘ এলে ফাগুনে। সোনা সে তো খাঁটি সোনা হয়, পুড়ে গেলে আগুনে।

মুহাম্মদ জাফর ইকবালের "রাশা" বইটা পড়তে গিয়ে জিতু মিয়ার সাঁতার শেখার ঘটনা পড়ে আমার নিজের সাঁতার শেখার কাহিনী মনে পরে গেল। এখন ভাবতে অনেক মজা লাগলেও ওই সময় নিশ্চয়ই মজা লাগে নাই। যাই হোক, আগে জিতু মিয়ারটা বলি।

জিতুর মতে সে মাত্র একঘন্টায় সাঁতার শিখেছে। আমি তার ভাষায় তুলে দিলাম। "আমার বাবা আমাকে ধরে পানিতে ফেলে দিয়েছিলো। আমি পানি খেতে খেতে ডুবে গেলাম। যখন মরে যাচ্ছি তখন বাবা ঘাড় ধরে উপরে তুলেছে।

একটু নিশ্বাস নিয়ে যখন ঠিক হয়েছি তখন আবার পানিতে ফেলে দিলো। আমি তখন জান বাচানোর জন্য কনোমতে ভাসার চেষ্টা করি-যখন পারিনা ডুবে যাই, নাক দিয়ে মুখ দিয়ে পানি ঢোকে তখন বাবা ঘাড় ধরে টেনে তোলেন। নিশ্বাস নেবার জন্য একটু সময় দেয়। দুই-একবার নিশ্বাস নেবার পর আবার পানিতে ছুড়ে দেয়। এইভাবে কয়েকবার করার পর ভেসে থাকা শিখে গেলাম।

একঘন্টার মাঝে। " আমি অবশ্য জিতু মিয়ার মত এতো সহজে (!?!?) শিখতে পারিনাই। আমার শিক্ষাগুরু আমার ছোটমামা। সেইবার নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম। ছোটমামার সাথে এক মধ্যাহ্নে বাড়ির কাছের এক দিঘিতে গোছল করতে গিয়েছিলাম।

সাঁতার শেখাও অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো। যাইহোক, মামা কিছুক্ষন আমাকে হাতের উপর নিয়ে সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করলেন। দাপাদাপিই সার, কোনো লাভ হলোনা। এভাবে আরো কিছুক্ষন চেষ্টা করে মামা মোটামুটি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে গেলেন। একরকম রেগে গিয়েই আমাকে নিয়ে দিঘির অনেকখানি মাঝে, যেখানে মামার গলাপানি (আমি মামার কোমর সমান উঁচু) নিয়ে ছেড়ে দিলেন।

আমিতো ভয়ে অস্থির হয়ে চি\কার করতে গিয়ে কয়েক গ্যালন ময়লা পানি খাইলাম। মিনিট খানেক দাপাদাপি করেই আমার দম শেষ। আর বাঁচার আশা নাই। তারপরো কিছুক্ষন শেষ চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিলাম। ডুবে যাচ্ছি, মরে যাচ্ছি।

আরে, আমার পায়ের নিচেতো মাটি!!! নরম মাটির মাঝে ছোট শক্ত কিছুর উপর বুড়া আঙ্গুলে হাল্কা ভর দিয়ে পানির উপর নাক ভাসিয়ে নিঃশ্বাস নিতে সক্ষম হলাম। আহ, শান্তি... (পরে অবশ্য রাগ লাগছে। হুদামুদাই দাপাদাপি করলাম। ) পা দিয়ে হাল্কা একটু ধাক্কা দিয়ে সামান্য ভেসে উঠে আবার ডুবে যাই। আবার ভেসে উঠি।

এভাবে বারকয়েক চেষ্টা করে ভেসে থাকা শিখে গেলাম। ততক্ষনে মামা আমাকে উদ্ধার করতে চলে এসেছে। এরপর কয়দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে সত্যিকারের সাঁতার দিয়ে কয়েক ইঞ্চি সামনে যাওয়ার মত ক্ষমতা অর্জন করে ফেলি। তারপর থেকে আর সহজে ডুবে যাইনা। আসলে ডুবে যেতে চাইলেও কিভাবে কিভাবে যেন ভেসে উঠি।

আগে ভাসতে কষ্ট হত, আর এখন ডুবতে কষ্ট হয়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।