আমার এক বন্ধু ছিল। ছিল বলা ঠিক হবে না হয়তো।
তো সেই বন্ধু একদিন বলল, আকাশের কাছাকাছি একটা বাড়ীতে থাকবে। সেটা অনেক দিন আগের কথা। তার ইচ্ছে ছিল পনের কিংবা বিশ তলার উপরে একটা ফ্লাটে ঘরদোর গুছিয়ে ওখানে সংসার পাতবে।
ঘর বানাবে। সেই ইচ্ছেটার কথা আমায় বলল। সেই সময়টায় আমি ফাজলামি মুড এ ছিলাম। ইচ্ছে হল খানিক তাকে খোঁচাই। বললাম, পনের বিশ তলার ওপর ঘর! ধর, কখনো লিফট খারাপ হয়ে গেল, সারতে সময় লাগবে।
তখন দিনের পর দিন তোকে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে, নামতে হবে।
সে আমায় চোখ রাঙাল। বলল, তুমি কচু জানো। এত বড় বড় ফ্লাট সম্পর্কে তোমার ছাই ধারনা আছে। আর থাকবেই বা কিভাবে।
জীবনে থেকেছ বা গেছ ওসব ফ্লাট বাড়ীগুলোতে? ওসব ফ্লাট এ একাধিক লিফট থাকে। থাকে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর। লিফট বিকল হবেই না। একটা নষ্ট হলে অন্যটা চলবে।
আচ্ছা বেশ, আমি বললাম।
তার ইচ্ছে, বিশতলার ওপরকার ফ্লাটের খোলা বারান্দায় বসে সে বিকেলের অথবা সন্ধ্যার কিংবা কখনো মধ্যরাতে চা খাবে, পাশে থাকবে প্রিয়জন। আমি আবারো খোঁচাই.......বেশ বেশ। বিশ তলার বারান্দায় হুহু করা বাতাস বইবে। তুমি চা নিয়ে যেই না বসবে, ওমনি তোমার চা জুড়িয়ে ঠান্ডা। আগুন গরম চা না হলে চায়ে কোন মজা থাকে! কাজেই তোমার চা পানের আনন্দটাও মাটি।
সে বলল, ওখানেই তো মজা। হুহু করা বাতাস। সব ভেসে যাচ্ছে। হাতে ধুমায়িত চায়ের কাপ। পাশে প্রিয় মানুষ।
তুমিই বল, কি ভীষণ রোমান্টিক একটা চিত্রকল্প!
সে জানে কোথায়, ঠিক কোথায় টোকা দিলে আমি শান্ত হব। ঠিক তাই করলো। সেই তুমুল রোমান্টিক দৃশ্যটি আমার কল্পনায় ভেসে ওঠে। আমি খোঁচানোর আনন্দ ভুলে যাই।
বন্ধুটি বিশতলার ফ্ল্যাট এ ঘরদোর গোছালো কিনা, জানা হয়নি।
তবে সেই কল্পদৃশ্যটা আজ আবার মনের আয়নায় ভেসে উঠল। আকাশ ছোঁয়া একটা ঘর। বারান্দা খুলে দিলে হুহু করা বাতাস। চুল, শাড়ীর আঁচল উড়িয়ে দিয়ে যায়। সেই বারান্দায় দুটো চেয়ার পাতা।
নিঝুম সন্ধ্যা, অথবা কোন ঘুম না আসা রাতে, চায়ের কাপ হাতে, প্রিয় মানুষের মুখোমুখি। দোলনচাঁপা কিংবা মাধবীলতার মিষ্টি গন্ধ। হয়তো বাজছে কোন প্রিয় গান।
আকাশ ছোঁয়া ঘর! কি সুন্দর একটা দৃশ্য!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।