ডুবোজ্বর
০১.
আমিই তোমার সব। যে তোমাকে এইখানে এনেছে। জলে হাত রেখে বলেছে তরল, পাথরে হাত রেখে বলেছে কঠিন এবং নিঃশ্বাসে বায়ু হয়ে আরক্ত সংশ্লেষ। আমিই সেই।
আমি তোমাকে প্রকৃতির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে প্রকৃতি বানালাম।
প্রকৃতিকে বললাম লাল হও। আর প্রকৃতি চৈত্রের দুপুর হয়ে গেলো। আমাকে স্বীকার করো।
০২.
আমি ছাড়া তোমার কেউ নেই। আমিই পূর্বাপর।
আমি বিস্তারিত এবং পরিব্যাপ্ত। তোমার নিঃশ্বাসে কণ্টকসুখ। আমরা নর্দমায় নেমে খুঁজে ফিরি ছোটোমাছ। আমাদের জাল চুরি হয়ে গেলে আমরা পরস্পর মাঝরাতে অন্তর্জালে ঢুকে পড়ি। মশা আর মশারির মাঝখানে কয়েল জ্বালিয়ে ঘর গন্ধ করি।
বাহিরের কুসুমের ঝাড় ডাকে আয় আয়। কুসুমের নাম কামিনী।
নৈরব শুনি বুকের ভিতর।
০৩.
তুমি এমন অলস! জানলাটা খুলে বলেছিলাম মেঘ বুনে দাও। আর তুমি আরো দুইটা মানিপ্লান্ট এনে ঝুলালে জানলার আড়তে।
আমার টবের গাছ ভালো লাগে না। পোষাপশুপাখিও ভালো লাগে না। বাগান ভালো লাগে না, বন ভালো লাগে বলে।
শকুন্তলার অভিজ্ঞান ছিলো, তোমার তো তাও নেই।
০৪.
আমাকে ভুল নামে ডেকে ডেকে তোমার ঠোঁট কালো হয়ে গেছে দেখো।
আমার নাম সুন্দর। আমাকে স্পর্শ করো। তারপর অনন্ত হও। আমার নাম কিংশুক। আমার অনেক কাঁটা।
তুমি কাঁটা নিতে পারো, কাঁটা নিলে তোমার পায়ে অলক্তরাগ।
আমার চেতনা নেই, মনে পড়ে বালিয়াড়ি মুখ। আমার চেতনা নেই।
কবে কার রঙিন অসুখ!
০৫.
আততায়ী হলে আমাকে বিভেদ করো প্রথম। তারপর তাদের কাছে যেও।
তাদের কাছে সাবধান থেকো। পেছন থেকে আঘাত করো। কেননা তারা তাইই পছন্দ করে।
জানোয়ারের হাতপা নেই, দাঁত আর নখ আছে। আর তুমি নখরা উল্লাসে অবিরত।
০৬.
তাদের ক্ষেত তোমার যাওয়ার কী দরকার? এইখানে বাটিতে রাখো হাত, ঝুড়িতে রাখো পা। তুমি নন্দনশস্য চেয়ে নিও কল্পনার কাছে। কল্পনা আর কল্পতরু বিপরীত বাস।
তারা তোমাকে লালচাদর, শাদাশাড়ি এইসব দেখিয়ে ডাকবে। তুমি যেও না।
মনে রেখো লাল মানে আগুন আর শাদা মানে মৃত্যু।
০৭.
যত্রযত্র গতায়ত করো না। গতায়ত মানে গমনাগমন। দৌপদীর নিয়তি আর তোমার ইচ্ছাকে এক করে দেখো না। সে ছিলো অন্তহীন শাড়ির শোলক।
তুমি তাহা নও। তোমাকে আমি নিরাভরণ এবং নিরাবরণ করে এনেছি এখানে। নিজেকে যদি তুমি সহস্র ভগবান কিংবা ভগবতী মনে করো আকাশবাতাস ডুমুরপুষ্পে সয়লাব হয়ে যাবে। আর তুমি এক এবং অনন্য।
০৮.
ফুল আর বই ছাড়া অন্যকিছু চুরি করো না।
অন্যসব জাগতিক। সবকিছুই এমনই জোড়াতালি। তাই জীবনটা মৃত্যুর মতো আপত্তিকর। হযরত আলী যে জোব্বা পরতেন তাতে ছিলো চৌদ্দশো জোড়াতালি, এটা আমার মা বলেছেন আমাকে। সেই বাচ্চাকালে আমার তাই মনে হতো চৌদ্দশোজোড়াতালি বলেই হয়তো তার নাম হযরতালি।
গন্ধ নিয়ে ফুলকে নষ্ট করো, ফুলদানিতে রেখে অপমান করো না। বই পড়ে বই নষ্ট করো, বইকে টারমাইট বানানো পাপ। এবং এটি অসুন্দর পাপ।
০৯.
অন্যের সম্পর্কে সত্যমিথ্যা কিছু বলার দরকার নেই। কেননা এইখানে সত্যমিথ্যা ধারণাটাই ভ্রান্ত।
শাক আর আলুক্ষেতে টানাসুতো বাতাস ধরে কাঁপে। নেমেসিস তুমি উড়ে এলে দুরন্ত চিলপাখি হয়ে সমুখে বসে যখন রূপ নিলে-- আমার তো সোনালি চুল নেই। আহ্!
এখানে রবিবাবু মুখ্য নয়। দান্তে বিবেচ্য। এবং তার ইনফের্নো।
১০.
তাদের কোনো কিছু অধিগ্রহণ করো না। তারা তোমার চুল বাঁশপাতায় পরিণত করবে।
না, আমি বললাম, এটা অনেক সহজ। তুমি আমাকে তোমার কাছে ডেকে নাও-- একটা রাত অথবা দুপুরের জন্যে। আমাদের দুজনের সামনেই পথ;
তারপর চলে যাবো বিপরীত প্রস্থান, সূর্যের আগে আগে।
যদি গোধূলি নিভে যায়, যদি আর আকাশে না থাকে আলো-- ভুল হয়ে যাবে সহসা নৈকট্য।
চোখের ভিতর ধূলির সুর নিয়ে চলে যাই সূর্যের আগে। রাত নিভে যাবে না আর। দুপুরও তেমনই অটল; আমরা ফিরে যাবো শুধু বিপরীত অশ্রুজল...
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।