বাংলাদেশে যানবাহনের জ্বালানী হিসেবে সি.এন.জি সবচেয়ে জনপ্রিয়। প্রায় সব ধরনের গাড়ি সি.এন.জিতে চালানো যায়। অন্যদিকে অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশে চরম গ্যাস সংকট চলছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গ্যাসের যোগান দিতে গিয়ে অনেক কল কারখানা গ্যাস সংকটে বন্ধ হবার উপক্রম।
অনেক এলাকায় বাসা-বাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে গ্যাসের অপ্রতুলতার কারনে গ্যাস নির্ভর সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু কেউ কি বলতে পারবেন যে গ্যাস সংকটে কয়টি সি.এন.জি স্টেশন বন্ধ হয়েছে। আমার মতে একটিও না। সরকার সি.এন.জি'র ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে, কিন্তু এখন যা অবস্থা যদি বেশিরভাগ গাড়ি সি.এন.জি তে রুপান্তরীত করে ফেলা হয় তবে অন্যান্য ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস আছে কি না তা যাচাই করা আবশ্যক ।
বর্তমানে সি.এন.জি'র বহুল ব্যবহার গ্যাসের অপচয়ের নামান্তর। আর সি.এন.জি'র দাম বাড়িয়ে আমরা এ অপচয় রোধ করতে পারি। একথা শুনে কেউ যদি আকাশ থেকে পড়েন তবে কিচ্ছু করার নেই। আসলে সি.এন.জি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীই অত্যাধিক লাভবান হচ্ছে জনগন খুবই কম উপকার পাচ্ছে। চলুন একটু হিসেব করিঃ
এক লিটার ডিজেল-৪৪ টাকা, পেট্রোল-৭৪ টাকা অন্যদিকে সমপরিমান সি.এন.জি'র দাম-১৬.৭৫ টাকা।
বেশিরভাগ মানুষ বাসে যাতায়ত ও ট্রাকে পণ্য পরিবহন করে। একটি বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম (আসা-যাওয়া) যাতায়াত করলে প্রায় ১৫০ লিঃ ডিজেল প্রয়োজন টাকার হিসাবে ৬৬০০/= অন্যদিকে প্রায় ৩৫০০/= টাকার সি.এন.জি প্রয়োজন। মাসে ১৯৮০০০/- টাকার ডিজেল এবং ১০৫০০০/- টাকার সি. এন. জি. প্রয়োজন। তার মানে সি. এন. জিতে চালালে মাসে জ্বালানী বাবদ সাশ্রয় ৯৩০০০/-। কিন্তু ডিজেল চালিত বাস এবং সি. এন. জি চালিত বাসের ভাড়া সমান তার মানে লাভ বাস মালিকের পকেটে।
অন্যদিকে পরিবহন সেক্টরে অতিরিক্ত বিনিয়োগের ফলে এ সেক্টর ক্রমশ রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। লাভের কথা চিন্তা করে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিবহন ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করছে তারা বড় বড় কোম্পানীর সাথে পাল্লা দিতে না পেরে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই আদতে দেশের কোন লাভ হচ্ছে না।
অন্যদিকে একটি সি.এন.জি কার এর জ্বালানী খরচ একটি মোটরসাইকেলের কাছাকাছি। তাই অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের বিশেষ প্রয়োজন না হলেও কার কিনতে আগ্রহী হচ্ছে।
আর কম খরচের কারনে অনেকেই অযথা গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি করে গ্যাস অপচয় করছে।
সরকারের কাজ হল দেশের সম্পদরে সুষ্ঠু ব্যবহার করে দেশের জনগনের কল্যাণে কাজ করা। এখন প্রশ্ন হল সি. এন. জি এর ব্যবহারে জনগন সরাসরি কতটা লাভবান হচ্ছে? আমাদের কৃষক ভাইরা তো সি.এন.জি ব্যবহার করতে পারে না আবার ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং এর কবলে পড়ে ডিজেল দিয়ে সেচের কাজ করতে হয়। আবার কল কারখানা বন্ধ রেখে কম দামে সি.এন.জি বিক্রি করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? দরিদ্র জনগোষ্টি এর কোন সুফল ভোগ করতে পারছে না।
তাই সরকারের উচিৎ সি.এন.জি'র দাম এমন পর্যায়ে নিয়ে আসা যাতে কম দামের কারনে মানুষ অযথা এর অপচয় না করে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।