আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাসর রাতে বিলাই মারার ইতিহাস সমগ্র ( যতদূর জানা সম্ভব হয়েছে আরকি)

যা মনে আসে তাই লিখি

আগের দিন ব্লগে একটা গল্প পোস্ট করার পর কমেন্টে বিলাই মারা নিয়া আরো কিছু গল্প পাই যা নিয়ে ভাবলাম একটা কালেকশন টাইপ কিছু করা যাক। এ জন্যই এই লেখা "বাসর রাতে বিড়াল মারা" এই ব্যাপারখানা নিয়া বহু কাহিনী প্রচলিত। একবার ঈদে কোন এক নাটকে বিড়াল মারা নিয়া সেরকম বিনোদন দেখতে পেয়েছি। মজার ব্যাপার হল ওই নাটক দেখে আমার এক কাজিন বয়স অনেক কম তার মাকে বলে যে,"আম্মু আম্মু আমার বিয়ের সময় আমিও কিন্তু বিড়াল মারব। " হা হা.... যাই হোক আমরা আমাদের আসল কাহিনি তে আসি... ♦কাহিনীঃ এক ইরান দেশে অনেক অনেক সম্পদ আর টাকার অধিকারী দুই বোন ছিল।

তারা আবার বিরাট সৌন্দর্যেরও মালকিন। হেন পুরুষ নাই যারা তাদের সাথে ভাব করার খায়েশ সামলে রাখতে পারতো। বিষয়টাকে তারাও বেশ উপভোগ করতো। কিন্তু এত এত বিয়ের প্রস্তাব আসতে লাগল যে একসময় ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে পড়ল। তারা ঘোষণা করলো, এমন বর দরকার যারা প্রতিদিন ৫০ টি জুতোর ঘা খেতে পারবে।

এই ঘোষণার পর মোটামুটি রাস্তা খালি। তবে ঐ একই সময় তেহরানের এক শহরতলীতে দুই ভাই থাকতো। কোনো কাজ-কাম নেই, বেকার, অতীষ্ঠ জীবন। তারা সিদ্ধান্ত নিলো, যা হবার হবে, পঞ্চাশটি জুতোর ঘায়ের বদলে তিনবেলা ভালো আহার কম কথা নয়, যেখানে একবেলা খাবারেরই নিশ্চয়তা নেই। বাসর রাতে ছোটো ভাই কোষে তরবারি, তিরিক্ষি মেজাজ নিয়ে ঘরে ঢুকলো।

ঘরের ভেতর উটকো বেড়াল দেখতে পেয়ে, দে কোপ। " কি সব জানোয়ার ঘরের ভেতর ঢোকে, ইত্যাদি"। তার বউ তো ঘটনা দেখে মুর্ছা যায় আর কি। পঞ্চাশ ঘায়ের খায়েশ তার চিরতরে মিটে গেল। অনেকদিন পরে, প্রায় এক বছর, দুই ভাইয়ের সাক্ষাত।

বড় ভাই ছোটোটাকে জিজ্ঞেস করলো, - তোর টাক কই? - টাক মানে? - প্রতিদিন যে পঞ্চাশ ঘা খেতে হচ্ছে, তার? - ওটা তো আমি বাসর রাতেই মিটমাট করে ফেলেছি। এরপর বড় ভাইয়ের কাছে বিস্তারিত বলল সব। বড় ভাই তো দ্বিগুন উৎসাহে বাড়ি গিয়ে বউয়ের পোষা বেড়ালটাকে তার চোখের সামনে দ্বিখন্ডিত করে ফেললো। আর যায় কোথায়, সাথে সাথে বেচারাকে জুতার ঘায়ে আধমরা করে ফেললো তার বউ, আর সেদিন থেকে দৈনিক ঘা আরও ৫০ টি করে বেড়ে গেল। এবার বড় ভাই ছোটটির সাথে দেখা করে তার কষ্টের বৃত্তান্ত জানালো।

ছোটোটি দুঃখ করে বললো, আরে বোকা বেড়াল তো প্রথম রাতেই মারতে হয়!(ব্লগার হেল্পফুল হাব: http://www.helpfulhub.com/10299) ব্লগার ভাল্লুক আকবর বলেছেন: হেল্পফুল হাব ভাইয়ের গল্পটা অরিজিনাল। এটা নিয়া মুজতবা আলীর বইয়ে লেখা একটা রম্য কবিতা ছিল। যতটুকু মনে পড়ে কবিতার নাম ছিল গুরবে কুশতব শা-ই-আওওয়ল। ♦কাহিনীঃ দুই এইটা আগের পোস্টটাই দিলাম। অনেক আগে ইংল্যান্ডে একটা বিশাল ধনী পরিবার বাস করত।

সেই পরিবারের একমাত্র মেয়ে ছিল লিনিয়া। সারা দিন হৈ হুল্লোড়,বন্ধুদের নিয়ে মাতামাতি,আড্ডাবাজি এইসব করত। যথারীতি তার বিয়ের বয়স হয়েছে। বাবা তার বিয়ে দিলেন অন্য স্টেটের একজন বিশাল বড়লোকের ছেলের সাথে(বাংলা সিনেমা অর হিন্দি সিরিয়াল না যে গরীবের সাথে বিয়ে হবে)। তো সেই মেয়ের কিছুতেই সেই বাড়িতে মন বসত না।

সে পরেরদিনই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাবার বাড়ি ওঠে। কিছুতেই আর সে ওই বাসায় ফিরে যাবে না। কিন্তু মেয়েকে বিয়ে দিতেই হবে। বাবা তাকে আবার বিয়ে দিলেন। মেয়েও আবার এক দরজা দিয়ে ঢুকে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে এলো।

এভাবে যতবার বিয়ে হয় ততোবারই সে বাসায় ফিরে আসে। তখন মেয়ের এই কাহিনী সবাই জেনে গেছে। কেউ আর তার প্রস্তাবে রাজি হয় না। তখন সেই বাবার পরিচয় হয় এক ব্যবসায়ী ছেলের সাথে। সে সব শুনে সেই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়।

তো বিয়ের পর্ব শেষ। সবাইই জানে কি হতে যাচ্ছে এরপর। বউ নিয়ে গাড়িতে উঠল সবাই। সেই ছেলের একটা পোষা বিড়াল ও একটা পোষা কুকুর ছিল। গাড়িতে ওঠার পর এত আয়োজন দেখে কুকুরটা ভড়কে গিয়েছিল।

তাই সে ডাকাডাকি শুরু করল। হঠাৎ কথা নেই বার্তা নেই সেই ব্যবসায়ীর হাতের তলোয়ার দিয়ে এক কোপে দুই ভাগ করে ফেলে সেই কুকুরটাকে। আর জোরে জোরে চিৎকার করে বলে ওঠে, "আমার অবাধ্য যে হবে তার পরিণতি এমনই হবে সে যতই আমার প্রিয় হোক। " এই ঘটনায় সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়লো। তারপর আবার রওনা দিল সবাই।

বাড়িতে পৌছে ভেতরের রুমে ওরা পৌছুলো। বাসর রাত। বর আর কনে পাশাপাশি বসে আছে। এমন সময় পোষা বিড়ালটা ওদের গা ঘেঁষে শুধু ম্যাও ম্যাও করে ডাকছিল। হঠাৎ সেই ছেলেটা বন্দুক বের করে বিড়ালটাকে গুলি করে মেরে ফেললো।

"আমার অবাধ্য যে হবে তার এমনই পরিণতি হবে। " চিৎকার করে উঠল সে। পরদিন মেয়ের বাড়ির সবাই অপেক্ষা করে আছে কখন মেয়ে ফিরে আসবে। কিন্তু ১ দিন যায় ২ দিন যায় মেয়ে আর ফিরে আসে না। কি হয়েছে সেটা দেখার জন্য মেয়ের বাবা লোক পাঠিয়ে খবর নিলেন।

খবর যা পেলেন তাতে সে নিতান্ত অবাক না হয়ে পারলেন না। মেয়ে খুব সংসারী হয়ে গেছে। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করছে ♦কাহিনীঃ তিন (যদিও এখানে বিড়াল নেই গাধা আছে ) ব্লগার সাইফুর রহমান পায়েল বলেছেন: আমি যেটা পরেছি তাতে ছিল গাধায় চরে বর কনে বাসায় ফিরতে থাকে। গাধাটা ২ জনের ভারে এক পর্যায়ে খোরাতে থাকে। তখন বর বলে দেখ গাধা, আমি কোন জিনিসে ৩ বারের বেশি সুযোগ দেইনা।

তুই ১ বার খুরিয়েছিস। আর খোরাস না। কিন্তু এক্তু পরে গাধা আবার খোরায়, বর বলে ২ বার। তৃতীয় বারের মত গাধা খোঁড়ালে বর কনে কে নিয়ে গাধার পিঠ থেকে নেমে তরোয়াল দিয়ে ১ কোপে গাধাকে মেরে ফেলে। কনে তো পুরো চিৎকার করে বললে তুমি এটা কি করলে, ডাকাত নাকি।

ব্লা ব্লা ব্লা...... তো বর বলল একবার। কনে আবারও চিৎকার করে বকা দেয়, বর বলে দুইবার। এইবার কনে চুপ মেরে যায়। কাহিনি একি, একটু এদিক আর ওদিক। ♦কাহিনীঃ চার বন্ধু রেজওয়ান শুভ (কিছুটা ইরানের গল্পের মতই।

ওর মতে এটা নাকি গ্রামবাংলায়য় প্রচলিত। তাই এটাও দিয়ে দিলাম) গ্রামের নাম মহব্বতপুর। এই গ্রামে বাস করত দুই যুবক। একজনের নাম আলাল এবং আরেকজনের নাম দুলাল। তারা দু'জন ভালো বন্ধু এবং ভাই ছিল।

তাঁদের বন্ধুত্ব এমনি ছিল যে, একজন আরেকজনকে রেখে কিছু করতে পারতো না। আলাল ছিল বোকা কিছিমের আর দুলাল ছিল একটু চালাক কিছিমের। এছাড়াও আলাল মেয়েদের দেখে ভয় পেত। মেয়েদের সামনে গেলে তার হাত-পা কাঁপত। আর দুলালের এই সমস্যা ছিল না।

সে উল্টো সুন্দরী মেয়ে দেখলে আলালকে দেখিয়ে বলত-'দেখ, দেখ কত সুন্দর মেয়ে , চল গিয়ে কথা বলি?' এটা শুনেই আলালের হাত-পা কাঁপা শুরু করত। একদিন দুলাল বলল-'চল বিয়ে করে ফেলি, তাহলে তোর আর মেয়েদের দেখে ভয় লাগবে না। ' আলাল ভাই এর কথায় রাজি হয়ে গেলো। যেই ভাবা সেই কাজ সেই কাজ। তারা বিয়ে করে বউ নিয়ে আসলো।

আলাল ছিল বোকা| সে বাসর ঘরে বউ এর সাথে কি কি করবে সে বিষয়ে তালিম নিচ্ছিল দুলাল এর কাছ থেকে। দুলাল বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে বাসর ঘরে ঢুকলো। সে তার নতুন বউ এর ঘোমটা খুলতে গেলো আর বউ তাকে ধরাম করে একটি চড় বসিয়ে দিল। তার বউ বলল-'তুমি কেমন পুরুষ, অনুমতি ছাড়া বউ এর ঘোমটায় হাত দিলে যে?' দুলাল একদম থ-বনে গেল এবং বউ এর কথামত খাটের একপাশে শুয়ে পড়লো। অন্যদিকে আলাল বেশ ভয়ে ভয়ে বাসর ঘরে ঢুকলো।

সে তার বউ এর ঘোমটা খুলতে যাবে এমন সময় ম্যাও বলে আওয়াজ শুনলো। সে দেখলো যে একটা বিড়াল ঘরে ঢুকেছে। সে বিড়ালকে অনেক অপছন্দ করতো। বিড়াল দেখে তার মেজাজ বিগঢ়ে গেল। সে পিড়িতে একটা লাথি দিয়ে বিড়ালের দিকে ছুঁড়ে মারলো।

পিড়ির আঘাতে বিড়ালটি সেখানে মরে রইলো। এটা দেখে আলালের বউ বেশ ভয় পেল। সে ভাবলো যে বিড়ালকে এভাবে মারতে পারে সে না জানি মানুষকে কিভাবে মারে? সে নিজেই ঘোমটা খুলে আলালের সেবা করতে লাগলো। পরের দিন প্রত্যেক ভাই তাঁদের রাতের অভিজ্ঞতা শুনতে চাইলো। আলাল তার অভিজ্ঞতার কথা তার ভাইকে বলল।

সে এখন আর মেয়েদেরকে ভয় পায়না। তার বউ তার সব কথা শুনে। সব শুনে দুলাল খুব আফসোস করতে লাগলো। সে ভাবলো সেও একটা বিড়াল মারবে। সেদিন দিন রাতে সে একটা বিড়াল ধরে তার বউ এর সামনে মারতে উদ্ধত হল।

সেটা দেখে দুলালের বউ একটা দা নিয়ে দাবড়াতে আসলো। তার বউ বল- 'তোমার কোন মায়া দয়া নেই, অবলা জীবকে মারতে আসছো?' দুলাল ভাবলো বিড়ালটা দেরি করে মারা হয়ে গেল। বাসর রাতে মারলে তার বউ তার নিয়ন্ত্রনে থাকতো। সে থেকে বউকে নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য বাসর ঘরে বিড়াল মারার গল্প প্রচলিত হয়েছে ♦কাহিনীঃ ৫ (২৪+) নিজের ইচ্ছায় পড়ে নিন। এটা সবার জন্য না।

বেশীই এডাল্ট। http://m.amarblog.com/microblog/posts/73444 যতই কাহিনী থাকুক আর না থাকুক বিড়াল মারা মানে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়াটা ঠিক করে নেয়া সেটাই বোঝা যায়। যারা বিয়ে করতে যাচ্ছেন আশা করি সবাইই বাসর রাতে বিড়াল মারবেন। মানে আন্ডারস্ট্যান্ডিং টা ভালো করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন আর কি। ধন্যবাদ যারা আমাকে ইনফো দিয়ে সাহায্য করেছেন।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।