আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে তিন লাখ মানুষ

আমার সম্পর্কে বলার মতো কিছু নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে তিন লাখ মানুষঃ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে আরও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশও প্রত্যক্ষ করেছে সিডর-আইলার তান্ডবলীলা। ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই প্রান্তিক গরিব মানুষ। তবু এইসব শ্রমজীবী মানুষ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও ছাড়তে চায় না তার ভিটেমাটি।

চায় না উদ্বাস্থ হয়ে ভিনদেশে পাড়ি জমাতে। গত ২৩ ও ২৪ জুন জেনেভায় হয়ে গেল 'গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফোরামে'র সম্মেলন। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে বিপন্ন এক পৃথিবীর আভাস। বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্তারা উপস্থিত ছিলেন ‘গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফোরাম’ সম্মেলনে। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান ও সুইজারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মিচেলিনে কালমাইয়ের উদ্যোগে গঠিত হয় গেস্নাবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফোরাম।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্গত মানুষদের উন্নয়নে বৈশ্বিক কর্মকৌশল, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সহায়তা প্রদান এই ফোরামের কাজ। এবারের সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন নিয়ে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে লন্ডনভিত্তিক সংগঠন ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি)। আইইডির গবেষক সিসিলিয়া ট্যাকেলি এই গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্বাস্থ মানুষদের নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কাকে অহেতুক বলে দাবি করেছেন। ট্যাকেলির মতে, গরিব দেশের দুর্গত এসব মানুষ স্থানীয়ভাবে জায়গা বদল করে বাঁচতে চায়। তারা দুর্যোগের কারণে নিজের দেশ, ভিটেমাটি ছাড়তে চায় না।

চায় দুর্যোগ পেরিয়ে আবার নিজেদের ঘর-বসতি গড়ে তুলতে। সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ঘূর্ণিঝড় আইলাপরবর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, এই ঘূর্ণিঝড়ে ঘরছাড়া হয়েছে অজস্র মানুষ। এই দুর্যোগে সরকার ফসল ও জীবন রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত সহায়তা দিয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আরেক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম মন্তব্য করেন, আমরা গত ২০ বছর ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের কুফলে আছি আর বিশ্বে এই নিয়ে সিরিয়াস চিন্তাভাবনা শুরু হলো ২০ বছর পর।

পশ্চিমা বিশ্বের ধারণা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে উন্নত বিশ্বে স্থায়ী বসত গড়তে দলে দলে ছুটবে দরিদ্র বিশ্বের মানুষ। সিসিলিয়া ট্যাকেলির গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তার মতে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ওই মওসুমে ফসল ফলাতে না পারলে সে ওই দেশেরই অন্য কোনও শহরে কাজের সন্ধানে ছোটে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। তাদের এই অভিবাসন ঘটে স্বল্প সময় ও দূরত্বে। ট্যাকেলির গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছে তিন লাখ মানুষ।

বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোই উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল ভোগ করছে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ আনুমানিক ২০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন মানুষ বাস্তহারা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক গরিব দেশগুলোকে উন্নত বিশ্বের দেওয়া মোট সাহায্যের পরিমাণের চেয়েও বেশি। ২০৩০ সালে এই অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে দাঁড়াবে বার্ষিক ৩শ ৪০ বিলিয়ন ডলারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ভোগ করছে প্রায় ৩৩ কোটি মানুষ। ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে মারা পড়বে ৫ লাখ মানুষ। ২০৩০ সাল নাগাদ এই পরিবর্তন সরাসরি বছরে বিশ্বের ৬৭ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে, যাকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন ভবিষ্যতের বড় এক মানবিক বিপর্যয় হিসাবে। অভিবাসনকে উন্নত বিশ্ব এক বিরাট সমস্যা বলেই মনে করে। কিন্তু ট্যাকেলির মতে, এই অভিবাসনকে ভিন্ন চোখে দেখার সময় এসেছে।

তার মতে, দেশে দেশে স্থানীয় সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান ও সেবার মান বাড়লে এসব দুর্গত মানুষ তাদের নিজস্ব ভিটেতেই থাকতে চায়। আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত জলবায়ু সংক্রান্ত কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১২ সালে। এই সনদকে হালনাগাদ করতে এ বছর জার্মানির বন শহরে বসবে বিশ্ব সম্মেলন। শিল্পোন্নত কয়েকটি দেশের একগুঁয়ে নীতির কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতাসহ জলবায়ু পরিবর্তনে আরও কার্যকর বিশ্বপরিকল্পনা গ্রহণ অসম্ভবই রয়ে গেছে। এর কুফল পড়ছে অনুন্নত দেশগুলোতে।

এই সবুজ ধরিত্রীকে আরও গভীরভাবে ভালো না বাসলে আগামীদিনগুলো হবে আরও বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগময়। সেই নজির গত একদশকে বিশ্বের নানা দেশে দেখা যাচ্ছে নানা চেহারায়।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।