জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই
আমাদের দেশটি দুর্নীতিবাজের দেশ। আমরা সবাই জানি এবং চোখ কান বন্ধ করে রাখি। দুর্নীতির অন্যতম আখড়া আমাদের দেশের হাসপাতালগুলো। সেই রকম একটি হাসপাতাল জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল বা পঙ্গু হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি অনেক আগেই নৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে তার নাম সার্থক করেছে।
কিছু উদাহরণ দেয়া যাক -
উদাহরণ - ০১ (যেখানে বহিরাগতরাই কর্মচারী)
আমার ভাই গত সপ্তাহ ২ আগে দুর্ঘটনায় পায়ের ৩টি আঙ্গুল হারান। তিনি ট্রেনে ওঠার সময় হাত ফস্কে পড়ে যান এবং অল্পের জন্য ট্রেনের নিচে যাওয়া থেকে বেঁচে যান। তাকে নিয়ে যাই এই হাসপাতালে।
এম্বুলেন্স না পেয়ে একটি টেক্সি ক্যাবে উঠিয়ে নিয়ে যাই আমার ভাইকে। হাসপাতালের দরজায় যেতেই দু জন লোক হাসপাতালের স্ট্রেচার নিয়ে দৌড়ে আসে।
তাদের সাহায্য করার মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করে। আমি ভাবি, যেই হাসপাতালের কর্মচারীরা এত আন্তরিক সেই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিশ্চয়ই ভালো। তারা নিজেরাই আমার ভাইকে ধরে স্টেচারে ওঠায়। তারপর স্ট্রেচার ঠেলে জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়।
জরুরী বিভাগে ডাক্তার দেখার শেষে আমার ভাইকে এক্স - রে করাতে বলে।
এক্স - রে বিভাগে নেওয়ার ব্যাপারেও সাহায্য করেন ওই দু'জন। তারা স্ট্রেচার ঠেলে নিয়ে যান এক্স রে রুমে। এক্স রে রুম থেকে আবার স্ট্রেচার ঠেলে নিয়ে যায় জরুরী অপারেশন থিয়েটারে। তারপর টাকার জন্য হাত বাড়িয়ে দেন।
কিসের টাকা ? আমার প্রশ্ন।
বকশিশ দিবেন না ? ওদের পাল্টা প্রশ্ন।
কেন তোমাদের সরকার বেতন দেয় না ? আমি জানতে চাই।
আমরা কি সরকারী চাকরি করি নাকি যে সরকার বেতন দিব ?
বুঝতে পারি এবং অবাক হই যে তারা এই হাসপাতালের কর্মচারী না। তবুও সাহস করে হাসিমুখে বলি, টাকা না দিলে কী করবা ?
টাকা না দিবেন ক্যান ? আমরা কাজ কইরা দিছি না ? তাদের ভাবভঙ্গি আমার ভাল লাগে না। অনেকটা হুমকি দেয়ার মেজাজে তারা।
আমি আর বলতে পারি না যে আমি ভেবেছি ওরা এই হাসপাতালের স্টাফ। পকেট থেকে একটা লাল নোট বের করে দেই। তারা আরও বেশি দাবি করে। পরে দেব বলে আমি আপাতত ছাড়া পাই।
(চলবে)
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।