আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যে যাবে না সে থাকুক.........

সন্দেহে আছি সত্য

সব কিছুকেই ২ ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়, মিথের ভেতর দিয়ে, অথবা মিথের বাইরে দিয়ে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মিথের বাইরে থেকে দেখবার সময় চলে এসছে। এইবার কাজ আগেকার সমস্ত ভুলগুলোকে শোধরানোর, কোনো কোনো ভুল আর শোধরানো যায় না, তেমন ভুলের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু বাকিগুলোর যোগ্য সমাধানের মধ্য দিয়েই আসবে সত্যিকার স্বাধীনতা। জাতীয়তাবাদ হোক- সাম্যবাদ হোক বা অন্য যে কোনো দর্শন, দেশের সব মানুষের সমান বিচারই আসল কথা, সমান হকের প্রশ্নই আসল প্রশ্ন।

তবে যেকোনো দর্শন আর যাই হোক আমরা ইতিহাস থেকে নিশ্চয় বুঝে গেছি তা হতে হবে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল, ইহজাগতিক তা রাষ্ট্রের প্রসঙ্গে হতেই হবে, তা সে মানুষের অন্তরে পারলৌকিক যা ইচ্ছে থাকুক না কেনো! এমন কোনো আদর্শ রাষ্ট্র অবশ্য এখনো কেউ হতে পারেনি। বড় বড় ধনী ধনী দেশগুলো ছলচাতুরিতে ভরা, আর আমাদের নিজের দেশের ভেতরেই আমাদের শত্রু, আমরা জনতারা অগত্যা তাদের গদিতে বসাই। কিন্তু আমাদের করার অনেক কিছু আছে। নিজেকে দিয়েই তা শুরু করা যেতে পারে। তবে সবচে বড় কথা হলো স্বাবলম্বিতা, ঋণের বোঝা কমানো।

আর সে জন্য চাই ঐক্য। ঐক্য বলতেই আমরা বুঝি আদর্শ ঐক্য, তার প্রয়োজন নেই, বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েও ঐক্য তৈরি করা যায়, একে ভেলকি মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে তা নয়। আদর্শকে এখনো মানুষ তৈরি করতে পারেনি, তাই বলে পারবে না এমন কোনো কথা নেই। ঝগড়া ফ্যাসাদের মধ্য দিয়েই মানুষ এগুবে।

কিন্তু চাই একটা আপাত ঐক্য, তা না হওয়ালেও হয়, কিন্তু প্রশ্ন হলো তার দিকরেখা নিয়ে। তা কাদের পক্ষে গেলো কাদের বিপক্ষে তা নিয়ে। সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষই পক্ষ। আর তা ঠিক বিচারে দেখতে গেলে সবার সমান অধিকারের মধ্য দিয়েই সম্ভব। তার মানে সব কিছুতে ঐক্যের মহাদর্শ বা প্রামাণিক আদর্শে উপনীত হবার প্রয়োজন নাই, যা প্রয়োজন তা হলো এই একটি বাক্যে এই একটি আদর্শে একমত হওয়া, যা খুব কঠিন কাজ নয়।

কারণ পৃথিবীর এ যাবৎ কালের সব ধর্ম দর্শনের মূল কথাই তাই। তার মানে আমরা এখনো আমাদের মূল উপলব্ধিকেই বাস্তবে আনতে পারিনি। তার অনেক কারণ। কিন্তু এখন আমাদের আমাদের শত্রুকে চিনতে হবে। বাংলাদেশের বেলায় এই শত্রু, বাংলাদেশের ভেতরেই জীবিত মৃত অনেক মানুষ আছে।

আছে বাইরের শত্রু- ছদ্মবেশীরা। আমাদের এই শয়তানদের ঠিক করে চিনতে হবে। এদের নাম অনেক মজাদার, চাকচিক্য অনেক মজাদার। আসুন আমরা তাদেরকে চিনি, তাদের দর্শনকে জানি। তার পর তাদেরকে ঘৃণা করতে শিখি, তাদেরকে পরাজিত করি।

আমরা স্বাবলম্বী হই। আমাদের প্রয়োজন আমাদের নিজেদেরকে শোধরানো একেবারে নিজেদের। আর তার জন্যে আত্মসমালোচনার কোনো বিকল্প নেই। আসুন আজ এই অসামান্য ঐতিহাসিক একটি দিনে আমরা এই আত্মসমালোচনার গৌরব আর্জন করি, তার পর কাজে নামি। সমস্ত পাকিস্তানি আর তাদের দোসর বাঙালি অবাঙালি বন্ধুদের, তাদের দর্শনকে ঘৃণা করতে শেখার চাইতে বড় পুণ্য আর নাই।

আমীন!

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.