আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্যাটেলাইট বিনোদনের পাইরেসীই অব্যাহত থাকুক এবং দেশের টাকা দেশে থাকুক

আমি চাই শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ

আজকে রোববার ইংল্যান্ডের এফ. এ কাপের ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড ও সাউথ হ্যাম্পটনের খেলা দেখতে যেয়ে জানলাম ইএসপিএন-ষ্টার (ভারত ভিত্তিক) এর প্রচার স্বত্বের মেয়াদ শেষ। বর্তমানে সিনেপিক্স (সনি ইন্টারটেইনমেন্ট ভারত) এফ. এ কাপের নতুন প্রচার স্বত্ব লাভ করেছে। ফলে আজকের খেলাতো দেখতে পেলামই না আদৌ আর এফ. এ কাপের খেলা অদূর ভবিষ্যতে কবে সরাসরি দেখতে পাব কিনা তা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে গেল। অনিশ্চিত এ কারণেই যে ভারতীয় এই সমস্ত স্যাটেলাইট টিভির বিভিন্ন নেটওয়ার্ক যেমন ষ্টার, জি, সনি তারা তাদের অনেক চ্যানেল আর তাদের দেশে ও সার্ক অঞ্চলে ক্যাবল অপারেটরদের নিকট দিচ্ছেন না। এর পরিবর্তে ডি.টি.এইচ (Direct To Home) টাটা-স্কাই, ডিশ টিভি, রিলায়েন্স সহ বিভিন্ন কোম্পানীর মাধ্যমে দর্শকদের দেখার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে।

কারণ ভারত সহ সার্ক অঞ্চলের অন্যান্য দেশে অপারেটরগণ সঠিক গ্রাহক সংখ্যা ষ্টার, জি ও সনি কর্তৃপক্ষদের কে জানায় না। এ কারণেই ভারতে তারা তাদের বিশেষ চ্যানেল তথা নতুন স্পোর্টস চ্যানেল আর অপারেটরগণ পাচ্ছেন না। যেমন ষ্টার ক্রিকেট, নিম্বাস ইত্যাদি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও টাটা-স্কাই, ডিশ টিভি, রিলায়েন্স এখানকার দর্শকদের কে চড়ামূল্যে তাদের সার্ভিস নিতে বাঁধ্য করতে পারে। ভারতে সকল চ্যানেলের প্যাকেজ মূল্য হচ্ছে ২৯৯ রুপি বা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪৩২ টাকা।

আর বৈধ ভাবে বাংলাদেশের সরকার কে ট্যাক্স ও ভ্যালু এডেড ট্যাক্স দিয়ে দেখতে গেলে এর মূল্য ৫০০-৬০০ টাকা হলেও অবাক হওয়ার কিচ্ছু থাকবে না। ফলে বাংলাদেশের দর্শকদের অনেকেই স্যাটেলাইট বিনোদন হতে বঞ্চিত হবে। কারণ সবার নিজস্ব বাড়ী নেই এবং সিংহভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন বিত্ত যারা ক্যাবল টিভিতে বিনোদন উপভোগ করে আসছেন তাদের পক্ষে মাসে ৩০০ টাকার অধিক ব্যায় করা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু না। বাংলাদেশের অনেক অপারেটর বস্তি ও বিভিন্ন গ্রাম (যেখানে ইলেকট্রিসিটি আছে) সহ অনেক নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য কম ভাড়ায় ১০০-১৫০ টাকা নিয়ে তাদের কে স্যাটেলাই টিভির আনন্দ লাভে সুযোগ দেয়। যদি ডি.টি.এইচ এসে পড়ে তো তারা এই বিনোদন থেকে তো বঞ্তি তো হবেই উপরন্ত বাংলাদেশের মহামূল্যবান রিজার্ভের বৈদেশিক মূদ্রা তথা মার্কিন ডলারের বিপুল ব্যায় হবে।

বর্তমান ব্যাবস্থায় বাংলাদেশের প্রকৃত গ্রাহক হতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্ধেক কর পেলেও ষ্টার, জি ও সনিও সেই অনুপাতে মূল্য ডলারে পায়। অর্থাৎ সম্পূর্ণ গ্রাহকের হিসাব পেলে আরও অধিক ডলার ব্যায় করে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট বিনোদনের ব্যাবস্থা সচল রাখতে হত। কিন্তু ষ্টার ক্রিকেট ও নিম্বাস স্পোর্টস চ্যানেল সহ অদূর ভবিষ্যতে আরও চ্যানেল ডি.টি.এইচ হয় তো তখন দেখতেই হবে। তবে তারপরও একটা আশা আছে যদিও সেটা বৈধ নয় তবুও তাতে বাংলাদেশের কিন্তু কোন ক্ষতি হবে না। ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশী ক্যাবল অপারেটর টাটা-স্কাই ও ডিশ টিভির ডিকোডার বক্স এনে তাদের গ্রাহকদের কে পাইরেসীর মাধ্যমে ষ্টার ক্রিকেট চ্যানেলে দেখানোর ব্যাবস্থা করেন।

কিন্তু বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশনের সরাসরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য মন্ত্রণালয় এক নির্দেশে টাটা-স্কাই ও ডিশ টিভিতে ষ্টার ক্রিকেট চ্যানেল দেখানো যাবে না। ফলে প্রায় সকল ক্যাবল অপারেটর ষ্টার ক্রিকেটের পাইরেসী বন্ধ করে দেয়। তারপর সপ্তাহ খানিকের মধ্যে কেউ কেউ আবার পাইরেসী শুরু করে। ধারণা করা হয় প্রভাবশালী অপারেটরদের কেউ তথ্যমন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তার যোগসাজশী করে পাইরেসী অব্যাহত রাখে। এতদিন অনির্বাচিত সরকার ছিল তাই দেশের মানুষের কথা অন্তত স্যাটেলাইট বিনোদোনের ক্ষেত্রে মানুষের কথা বিবেচনা করে নি।

কিন্তু আশা করবো বর্তমান নব নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকদের কথা বিবেচনা করে যাতে টাটা-স্কাই, ডিশ টিভির পাইরেসী অব্যাহত থাকে। তাতে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। যদি মাইক্রোসফ্ট, অ্যাপেল, এডোব, ম্যাক্স, মায়া সহ মহামূল্যবান সফ্টওয়্যার বাংলাদেশে পাইরেটেড ভাবে চলতে পারে তো ভারতীয় এই সমস্ত বিনোদন চললে আমি অন্তত কোন সমস্যা দেখি না এবং এতে করে বাংলাদেশের সকল দর্শকগণ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে স্যাটেলাইট বিনোদন উপভোগ করতে থাকবে।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।