আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শান্তি চাইলে নৌকায় ভোট দিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'আওয়ামী লীগ মানেই শান্তি।

তাই উন্নত জীবন নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাইলে আবারও নৌকায় ভোট দিন। নতুবা বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই জামায়াত-শিবির-হেফাজত নিয়ে আসা। আবার সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মসজিদ-মন্দিরে আগুন, কোরআন পোড়ানো,মা-বোনের সম্মান হানি। ' গতকাল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

সভায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বিস্তারিত বিবরণ ও বিএনপির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে পুনরায় নৌকায় ভোট চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি নেত্রীর দেশের মানুষের কথা ভাববার সময় কই? উনি কেবল নিজে ভালো থাকবেন আর মেকাপ লাগিয়ে সাজুগুজু করে ঘুরে বেড়াবেন, এটাই চান। এদেশের ছেলেমেয়ের লেখাপড়া চাইবেন কেন? নিজে তো ম্যাট্রিকে অঙ্ক আর উর্দু ছাড়া সব সাবজেক্ট ফেল করেছেন। অঙ্কে পাস করবেন, জানি। কারণ তিনি দুর্নীতির টাকা গোনা ভালো বুঝেন।

আর যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না তিনি তো উর্দুতে পাস করবেনই। ' তিন বলেন, 'আমরা যখন ছাত্রদের হাতে নতুন বই তুলে দিই তারা তখন অস্ত্র তুলে দেয়, সন্ত্রাসী বানায়। ক্ষমতায় এসে মদের লাইসেন্স প্রদান করে। '

বিএনপির সকারের সময় নানা অনিয়ম অভিযোগ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেত্রীর কাছে আমার একটাই প্রশ্ন। তিনি কি জানেন না ভূতের পা পেয়েছেন? শুনেছি ভূতের পা পেছনে চলে।

তা না হলে তিনি ক্ষমতায় এলেই দেশ সামনে না এগিয়ে পেছনের দিকে চলতে থাকে কেন। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার দুই ছেলে জনগণের টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাদের কথা নয়, আমেরিকা থেকে তার সাক্ষী দিয়ে গেছে। এতে আপনি গোস্যা করেন কেন? আমরা কেবল চোর ধরেছি। জনগণের কল্যাণে জনগণের টাকা ফিরিয়ে এনেছি।

জনসভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াতের ধর্ম নিয়ে রাজনীতির বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেন। গত ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাদের মিথ্য অপপ্রচারকে তিনি ধোকাবাজি ভাওতাবাজি বলে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা তার সরকারের সময়ে শিক্ষার উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা, মসজিদ-মাদ্রাসার সংস্কার, বয়স্ক ভাতা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। ভাষণের শেষ দিকে অনেকটা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেদিন আমি আমার বাবা-মা সবাইকে হারিয়েছি, বাঙালি জাতি তাদের জাতির পিতাকে হারিয়েছে, সেদিন আমার বিরোধীদলীয় নেতা তার নকল জন্মদিন বানিয়ে কীভাবে জন্মদিন পালন করে, কেক কাটে অবাক হই। শেখ হাসিনা বলেন, আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই তিনি এ কাজটা করেন।

সভার শুরুতে তিনি গত নির্বাচনে স্থানীয় এমপি এনামুল হককে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই বাগমারাতেই বাংলাভাইয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তারা শত শত মানুষ খুন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের খুন করেছে। আমারা তাদের নিমর্ূলে সফল হয়েছি।

বিএনপি মানেই হত্যা, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির রাজনীতি। বিকাল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী এসেই প্রায় ৩৮টি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেখান থেকে সরাসরি মঞ্চে গিয়ে উপস্থিত জনতাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় হাত নেড়ে জনতাও তার জবাব দেয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, মেরাজ উদ্দিন মোল্লা এমপি, আবুল ওয়াদুদ দারা এমপি, ইসরাফিল আলম এমপি, জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় সায়গঠনিব সম্পাদক আবু সাঈদ মাহমুদ আল স্বপন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ছাত্রলীগের সভাপতি সিদ্দিকী নাজমুল আলম ও সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাগমারাবাসীর কোনো দাবি নেই। শুধু জানাতে চাই, বিএনপি এ অঞ্চলে বাংলাভাইয়ের বাহিনীকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। হত্যা আর লুটপাট ছিল প্রতিদিনের কাজ। কিন্তু আজ এই অঞ্চলের শান্তির বাতাস বইছে।

বিআইআর'র চার ব্যাটালিয়নকে ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড প্রদান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ইনফান্ট্রি রেজিমেন্টের (বিআইআর) ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিআইআর দেশের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন ছাড়াও যে কোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে থেকে পরিস্থিতি উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি গতকাল রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফান্ট্রি রেজিমেন্ট সেন্টারে (বিআইআরসি) বিআইআর'র তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ ব্যাটালিয়নকে ন্যাশনাল স্টান্ডার্ড হস্তান্তরকালে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিকল্পিতভারে রাজশাহী সেনানিবাস সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিআইআর সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে একটি বড় একাডেমিক ব্লক নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষে শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে এক আকর্ষণীয় প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া এবং বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার ও রেজিমেন্টের পাপা বীর প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.