আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রোজা ২১: অপচয়- শেষ



গতকালের : অপচয়- শুরু: এই পর্বটি যারা পড়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ । আসুন আজ অপচয়ের শেষ কোথায় তা নিয়ে একটু আলোচনা করি । সবকিছুরই হিসাব আছে। আমরা যে অপচয় গুলো করি তারও হিসাব আছে। পরকালের কথা বাদই দিলাম , এই কালেই এর হিসাব কড়ায় গন্ডায় চুকাতে হবে।

আমরা নানা ধরনের দু:খে দৈন্যে নিপতিত হই । এই দু:খ দৈন্যগুলোর কারন হিসাবে আপনি অনায়াসে আপনার অপচয়কে চিহ্নিত করতে পারেন। আজ যে রাজা কাল সে ফকির হতে পারে । আপনি কত খরচ করবেন । আজকাল বড় বড় নেতা বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ছেলে মেয়ের যে বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো হয়, তার অধিকাংশই অপচয় দোষে দুষ্ট ।

আসলে বিয়ে শাদীর অনুষ্ঠানগুলোও এখন অপচয়ের একটা প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। কর্জ করে বিয়ে করা তো একটা ফ্যাশন এ পরিণত হচ্ছে । এছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠানে যে গিফট প্রথা যাতে অধিকাংশ মানুষ তার মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধার কর্জ করে বাজারের নিম্নমানের যেন তেন গিফট আইটেম কিনে উপহার দিতে বাধ্য হয় – তাও তো অপচয়ের একটা মাধ্যম। গিফট আইটেম গুলোর কতটা আামাদের কাজে লাগে বলতে পারেন? দুদিন পরে নষ্ট হয়ে ডাষ্টবিনের সামগ্রী হওয়া ছাড়া তাদের আর কোন কার্যকারিতা নেই। এছাড়াও অপচয়ের আরেকটি প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মোবাইল ফোন।

আপনাদের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি একটু হিসাব করার জন্য যে আমরা আমাদের মোবাইলে কতটুকু দরকারী কথা বলেছি আর কতটুকু অপ্রয়োজনীয় কথা বলে আমাদের কষ্টার্জিত টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছে এবং দিচ্ছি। আমাদের মত মোবাইলে অপচয় বিশ্বের খুব কম জাতিই করছে। আর বর্তমানে রোজার মাস চলছে। বলতে পারেন রমজান মাসে আমরা শুধু ইফতারীতে এবং ইফতার পার্টিগুলোতে কত কত অপচয় করি? সাধনার মাসে খাবার অপচয়ের মহোৎসব হয় কিনা? বেগুনের দাম কেন আকাশচুম্বি হবে? বেগুনি খাওয়া কি বাধ্যতামূলক ? অন্তত কিছুদিন বেগুনি খাওয়া বাদ দিন – মূল্য হ্রাসের সাথে সাথে দেখবেন আমাদের অর্থের সাশ্রয় কিভাবে হয়। জাতি হিসাবে আমার মনে হয় আমরা অপচয়ের অনেক উপরের দিকে অবস্থান করছি।

এবং তার পরিনাম হতাশা দু:খ দারিদ্র। কোরিয়া , জাপান এবং মালয়েশিয়ার কথাই ধরুন । ৫০ বছর আগে তাদের অবস্থানের সাথে আমাদের অবস্থানে ততটা পার্থক্য কি ছিল? ছিল না । আর আজ আমরা যেখানে সেখানেই রয়ে গেছি, ওরা কত উপরে উঠেছে। আসলে নিজেদের ভুল যদি আমরা ধরতে না পারি এবং তা শোধরাতে না পারি, তাহলে অবস্থার পরিবর্তন একটা দুরুহ ব্যাপার।

অথচ জাতিগত ভাবে আমরা যে অপচয় গুলো করি তার জন্য কোন সচেতনতা সৃষ্টির প্রকল্প নেই , যেমনটি এইডস কিংবা অন্যান্য প্রোগ্রামে রয়েছে। ধরুন আপনার অপ্রয়োজনীয় বাতি ও ফ্যান বন্ধ রাখুন –এই জাতীয় পোষ্টার যদি সমস্ত ঢাকা শহরে , সমস্ত দেশে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া যেত, টিভি রেডিও গুলো যদি তাদের প্রচারনায় এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিত, তাহলে অবশ্যই এটার একটা ভালো রেজাল্ট আমরা পেতে পারতাম। আমাদের যা আছে তাকে তো সুন্দরভাবে হিসাব করে ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আমরা তা করছি না। আসলে অপচয় রোধ করার জন্য আমাদেরকে নিজেদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

না হলে সমৃদ্ধি আসবে না। কারন এটা প্রাকৃতিক নিয়মের পরিপন্থি । প্রচুর পাবো আবার যথেচ্ছাচার খরচ করবো- তাহলে কি থাকলো – শূন্য। আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন : : ব্যক্তিগত পর্যায়ে -যেমন ধরুন আমরা সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে গিফট নিয়ে অংশগ্রহন বাদ দিতে পারি। : পারিবারিক পর্যায়ে – আমরা গৃহে গ্যাস , পানি এবং বিদুৎ ব্যবহারে সচেতন হতে পারি : জাতীয় পর্যায়ে - সরকারী অফিস আদালত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যত অপচয় তা ধীরে ধীরে চিহ্নিত করতে পারি ও সংশোধন করতে পারি ।

সর্বক্ষেত্রে যদি সচেতনতা গড়ে তুলতে পারি তাহলে সম্ভব অপচয় রোধ করার। আসলে নিজে শেষ হবার পূর্বে অপচয়কে শেষ করতে হবে। মনে রাখবেন হয় অপচয় আমাকে শেষ করবে নয় আমি অপচয়কে শেষ করবো । আল্লাহতাআলা পবিত্র কোরানে বলেছেন: আত্মীয় স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দান কর এবং দীন দরিদ্র ও মুসাফিরগণকেও দান কর। এবং অযথা অপব্যায় করিও না ।

--সূরা বনী ঈসরাইল : ২৬ নিশ্চয়ই অপচয় কারী শয়তানের ভাই এবং শয়তান তাহার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ। -- সূরা বনী ঈসরাইল: ২৭ আসুন আমরা নিজেদেরকে শয়তানের ভাই অপবাদ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করি । এভাবে আমরা নিজেদের কল্যান এবং দেশ ও জাতির কল্যানে ভূমিকা রাখতে পারি । আর এই রমজান মাস এই কাজ শুরু করার জন্য উৎকৃষ্ট সময়। ধন্যবাদ ।

আগামীকাল আবার দেখা হবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.