আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান দুই জোট থেকে খুলনার ৬টি আসনে ৫০-এর অধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অনেকে এলাকায় নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে চেষ্টা করেছেন। ঈদ ও পূজায় প্রায় সব মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতার রংবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। অনেকে উঠোন বৈঠক, গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশও করছেন। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচনী মাঠে জোরালো অবস্থানের কারণে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় বড় দুই দলের মনোনয়ন বণ্টন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে।
জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৬টি মধ্যে ৫টি ও বিএনপি ১টি আসন লাভ করে।
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) : আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ খ্যাত। এবার বিএনপি নেতা আমীর এজাজ খানের মনোনয়ন এক প্রকার নিশ্চিত। এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডল এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।
পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য পঞ্চনন বিশ্বাস মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল শুভ রায়, বাংলাদেশের কমিউিনিস্ট পার্টির নেতা অশোক সরকার মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছেন।
খুলনা-২ (সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা) : আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। নবম সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজানকে হারিয়ে ১৮ দলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি নির্বাচিত হন। মিজান ও মঞ্জু এবারও মনোনয়ন পাবেন এটা প্রায় নিশ্চিত।
তবে সাবেক এমপি ও বিসিবি সভাপতি বিএনপি নেতা আলী আসগর লবি, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ আবুল হোসেন, সিপিবি নেতা এইচ এম শাহাদত হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন।
খুলনা-৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা) : এ আসনের বর্তমান এমপি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবারও মনোনয়ন চাইবেন। একই দলের নেতা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান খানও মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছেন। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সেকেন্দার আলী, নগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তজা, যুগ্ম সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিঠু, বিএনপি নেতা মাসুদ হোসেন, মীর কায়সেদ আলী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী জাহিদুল ইসলাম অমল মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (এরশাদ) নগর সভাপতি আবদুল গফফার বিশ্বাস, সিপিবির জেলা সাধারণ সম্পাদক এস এ রশীদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আগেই ঘোষণা করা হয়েছে।
খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া) : এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল তীব্র। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোল্লা জালালের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা ও তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চুর বিরোধ দীর্ঘদিনের। ফলে এলাকায় আওয়ামী লীগ দুই শিবিরে বিভক্ত। এ আসনটিতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও সাবেক এমপি এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান জামাল ও রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা আলী আকবর শেখ মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করছেন।
এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শরীফ শাহ কামাল তাজ, জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মাজেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাধারণ সম্পাদক ড. হাদিউজ্জামান, সিপিবি নেতা নিশিকান্ত বাড়ৈ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহম্মেদকে প্রার্থী হিসেবে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা) : এ আসনে গত নির্বাচনে ১৪ দলীয় প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র ১৮ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। আর জামায়াত গোলাম পরওয়ারকে ফের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি এবার আসনটি জামায়াতকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে সাবেক এমপি বিএনপি নেতা অধ্যাপক ড. গাজী আবদুল হক, বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব-উল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গাজী আবদুল হাদী, ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আকরাম হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (এরশাদ) নগর সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুজিবুর রহমান, সিপিবি ফুলতলা উপজেলা সভাপতি আবদুল মালেক মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জামিল আহমেদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। খুলনা-৬ (পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা) : এ আসনটি গত নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা ১৮ দলীয় জোট প্রার্র্থী জামায়াত নেতা শাহ রুহুল কুদ্দুসকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
তিনি এবারও মনোনয়ন চাইবেন। তবে এ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি নুরুল হক, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবুও মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন। এ ছাড়া জামায়াত খুলনা মহানগর আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি জামায়াতকে ছাড় দিতে নারাজ। এ কারণে সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী, কয়রা উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক মাঠে কাজ করছেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।