লোকটা বলে চলে, “ধরেন আপনি একটা নিজস্ব ছন্দে চলেন। আপনি ভাবেন সেটাই ঠিক। আবার কোন কোন বিশেষ মুহুর্তে আপনার ভাবনাটা ভেঙে যায়। আপনি ভাবতে থাকেন আপনার সামনে বসা চাপ-দাড়িওয়ালা লোকটা আপনার চেয়ে বেশী বিচক্ষণ। আপনি একধ্রণের আলোর সন্ধানে তার দিকে চেয়ে থাকেন।
এরপর সেই লোকটার একটা দলছুট বা অমনোযোগী বাক্যে আপনি তার উপর আস্থা হারান। ফিরে আসেন নিজের আব র্তে;সেই পুরণো ছন্দে। এরপর আবার দালানকোঠা ভাঙা। পরবর্তীতে আবার ব্রীজ-কালভার্ট গড়া। এভাবেই চলতে থাকে।
এই করতে করতে দেখলেন জীবনের একটা বড় অংশ পেছনে চলে গেছে। আপনি এখনো কোন কোন বিষন্ন একাকী সন্ধ্যায় চাপদাড়িওয়ালা কাউকে খোঁজেন। কী, ব্যাপারটা এরকম না?”
প্রথম অবলোকনে লোকটার বাচনভঙ্গীটাকে বেশ “ফ্যাক্ট-টাইপ” মনে হয়। কিন্তু তার কথাগুলোকে খোলা আকাশ বা মোড়ের রেস্তোঁরার গ্রীল্ড মুরগীর যন্ত্রটাকে ব্যাকড্রপে রেখে পড়লে বা বলা যায় শুনলে অন্যরকম শোনায়। মনে হয় যেন জীবনের কোন গূঢ় সত্যকে সে বেশ নাটকীয় ভঙ্গীতে বলে যাচ্ছে- নিজের ঘোড়েল উপলব্ধিটাকে হাল্কাচালে ধোঁয়ার মত ছড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশে।
তারপর যখন হঠাৎই সড়সড় শব্দে চারপাশ ধোঁয়াশা করে বড় বড় ফোটায় ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টি নামে, তখন মনে হয় জীবন আসলে টক-ঝাল-মিষ্টি-স্বাদু-বিস্বাদ একটা বহুরুপী ঘোলাটে ব্যাপার। একে ঠিক এক প্যাঁচে ধরে ফেলার চেষ্টাটা বরাবরই একটা ভোকাট্টা ব্যাপার। তুমি পার আবার পার না। জান আবার জান না। আর বোঝার কথা না হয় ছেড়েই দিলাম।
-রাজীব মাহমুদ
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।