সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর চট্টগ্রামে ফিরে শুক্রবার রাতে নগরীর চশমা হিলে মহিউদ্দিনের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাছির। এরপর সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
নাছির বলেন, “মহিউদ্দিন ভাইয়ের সাথে আমার বিরোধ কাল্পনিক, সব মিডিয়ার সৃষ্টি। তার সাথে কখনোই বিরোধ ছিল না। বাস্তবতা বুঝতে হবে।
এতোদিন আমি নগর কমিটির কোনো দায়িত্বেই ছিলাম না। ”
এতোদিন সামাজিক সংগঠন, পারিবারিক ব্যবসা ও ক্রীড়া জগত নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে নগর আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন দায়িত্ব পাওয়ায় সভাপতির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে নাছির বলেন, “পচাত্তর পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার কাজ করেছি মহিউদ্দিন ভাইয়ের নেতৃত্বে। তখন তিনি অন্তরীণ ছিলেন। এসব আপনারা জানেন না।
ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ নগর আওয়ামী লীগই দেখতে পাবেন। ”
গত বুধবার কেন্দ্র থেকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পুনরায় সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগরের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দ্বন্দ্বের মধ্যে নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ পান একসময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরোধী হিসেবে পরিচিত আ জ ম নাছির।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে কখনোই ছিলেন না তিনি।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে নাছির বলেন, “আপনারা এমন কিছু বলবেন না বা লিখবেন না যাতে বিভক্তি সৃষ্টি হয় এবং গণমাধ্যমের বক্তব্যে কেউ মন খারাপ করতে পারে বা কারও সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
”
ব্যক্তি নয়, সংগঠনই মুখ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাত সোয়া ৮টায় নিজের অনুসারীদের নিয়ে সভাপতি মহিউদ্দিনের বাসায় যান নাছির। এসময় সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
প্রায় এক ঘণ্টা মহিউদ্দিনের বসার ঘরে তাদের এই বৈঠক হয়।
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কী আলোচনা হলো জানতে চাইলে মহিউদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার সম্পাদকের সাথে আলাপ হয়েছে।
সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত থাকলে পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হবে। ”
কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মিডিয়ায় সব করে। আমি জানি। এখন কিছু বলবো না। ”
এর আগে বিকালে নগরীর বটতলী রেল স্টেশনে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে অনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
সেখানে নাছির বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। শপথ করে বলছি- সে আস্থা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করব। ”
তিনি বলেন, “আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে তাতে শেখ হাসিনা যে আসনে যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্য সব ভেদাভেদ ভুলে সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সকলকে নিয়ে কাজ করব। ”
যুদ্ধপরাধের বিচার বানচালের জন্য চক্রান্তের অংশ হিসেবে বিরোধীদল হরতাল দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “রাজপথেই তাদের মোকাবেলা করা হবে। ”
চট্টগ্রাম নগর রাজনীতিতে আ জ ম নাছিরের অনুসারী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নগরের নতুন কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাংসদ এম এ লতিফ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল ইসলাম, নগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শফর আলী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।